নিজ দলের ১০৭ বিধায়কসহ পদত্যাগের হুমকি দিলেন বিজয় - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:৩১, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নিজ দলের ১০৭ বিধায়কসহ পদত্যাগের হুমকি দিলেন বিজয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, মে ৮, ২০২৬ ৬:৩৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, মে ৮, ২০২৬ ৬:৩৭ অপরাহ্ণ

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে সর্বোচ্চসংখ্যক আসন পাওয়া সত্ত্বেও সাংবিধানিক বিধির জটিলতার কারণে সরকার গঠন করতে পারছেন না দক্ষিণী চলচ্চিত্র তারকা জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর ওরফে থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কোজাগাম (টিভিকে)। এর মধ্যেই অভিযোগ উঠেছে যে টিভিকে কে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখতে জোট করার পরিকল্পনা করছে দুই বিরোধী দল ডিএমকে এবং এআইডিএমকে।

এই পরিস্থিতিতে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে টিভিকে। দলটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, যদি ডিএমকে ও এআইডিএমকে একত্রিত হয়ে সরকার গঠনের উদ্যোগ নেয়, তাহলে টিভিকে’র নির্বাচিত সব ১০৭ জন এমপি একযোগে পদত্যাগ করবেন। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো বক্তব্য দেননি বিজয়।

টিভিকে’র এক জ্যেষ্ঠ নেতা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে বলেন, “জনরায় খণ্ডিত হতে পারে, কিন্তু বিধানসভার বৃহত্তম দলকে উপেক্ষা করা হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”

তামিলনাড়ু বিধানসভায় মোট আসন রয়েছে ২৩৪টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন কমপক্ষে ১১৮টি আসন। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে টিভিকে এককভাবে ১০৭টি আসনে জয় পেয়েছে, যা এবারের নির্বাচনে কোনো একক দলের সর্বোচ্চ অর্জন।

তবে এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়ে দলটি। কংগ্রেস পেয়েছে ৫টি আসন। ফলে টিভিকে-কংগ্রেস জোটের মোট আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১২। তারপরও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে ৬টি আসন পিছিয়ে রয়েছে এ জোট।

অন্যদিকে আসনসংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডিএমকে। দলটি পেয়েছে ৫৯টি আসন। তৃতীয় অবস্থানে থাকা এআইডিএমকে জয় পেয়েছে ৪৭টি আসনে।

তবে এই দুই দলের সঙ্গেই রয়েছে কয়েকটি ছোট রাজনৈতিক দলের জোট। ফলে জোটগত হিসাবে তাদের আসনসংখ্যা আরও বেড়েছে।

ডিএমকের জোটভুক্ত আইইউএমএল, সিপিআই, সিপিআই (এম) এবং ভিসিকে প্রত্যেকে দুটি করে আসন পেয়েছে। এছাড়া ডিএমডিকে জয়ী হয়েছে একটি আসনে। সব মিলিয়ে ডিএমকে জোটের মোট আসন দাঁড়িয়েছে ৬৮টি।

অন্যদিকে এআইডিএমকের জোটে রয়েছে পিএমকে, বিজেপি এবং এএমএমকে। নির্বাচনে পিএমকে পেয়েছে ৪টি আসন, আর বিজেপি ও এএমএমকে পেয়েছে একটি করে আসন। ফলে এআইডিএমকে জোটের মোট আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৩টি।

এ অবস্থায় যদি ডিএমকে ও এআইডিএমকে তাদের শরিক দলগুলোকে নিয়ে একসঙ্গে জোট গঠন করে, তাহলে তাদের মোট আসনসংখ্যা হবে ১২৩। ফলে টিভিকে-কে বাদ দিয়েই সহজে সরকার গঠন করতে পারবে এই সম্ভাব্য জোট।

এরই মধ্যে গত ৬ মে বুধবার কংগ্রেস ও নিজ দলের এমপিদের নিয়ে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে দেখা করেন বিজয়। সেখানে সরকার গঠনের অনুমতি চান তিনি। তবে রাজ্যপাল তাকে ফিরিয়ে দিয়ে ১১৮ জন এমপির সমর্থন নিশ্চিত করার কথা জানান।

রাজ্যপালের এই অবস্থানের পর যখন টিভিকে নতুন জোটসঙ্গী খুঁজতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই সামনে আসে ডিএমকে ও এআইডিএমকের সম্ভাব্য জোটের খবর।

ডিএমকের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে জানিয়েছে, দুই দলের মধ্যে আলোচনা চলছে। যদি শেষ পর্যন্ত জোট গঠন হয়, তাহলে তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন এআইডিএমকের সাধারণ সম্পাদক এড়াপাদ্দি কে. পালানিস্বামী।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক সূত্রে এ তথ্য প্রকাশের পরই ক্ষোভ প্রকাশ করে টিভিকে। দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যদি তাদের উপেক্ষা করে সরকার গঠন করা হয়, তাহলে তাদের নির্বাচিত সদস্যরা একযোগে পদত্যাগ করবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তামিলনাড়ুতে আবারও নতুন করে বিধানসভা নির্বাচন আয়োজন ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ খোলা থাকবে না।

সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ