নিজের ইউপিতে উন্নয়ন করেননি ‘ঠিকাদার লেডি’ ইলেন ভুট্টো - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ২:৩৬, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নিজের ইউপিতে উন্নয়ন করেননি ‘ঠিকাদার লেডি’ ইলেন ভুট্টো

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, নভেম্বর ১০, ২০২৫ ৩:২৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, নভেম্বর ১০, ২০২৫ ৩:২৭ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ও চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্রবিষয়ক সহকারি কমিটির সদস্য জীবা আমিনা আলগাজি অভিযোগ করেছেন, ঝালকাঠি-২ আসনে আগামী নির্বাচনের জন্য মনোনীত প্রার্থী ইলেন ভুট্টো নিজের ইউনিয়নেও বিগত সময়ে উন্নয়ন করতে পারেননি। মনোনয়ন পাওয়ার আগে–পরে তিনি আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন, যে কারণে স্থানীয় বিএনপির অনুসারীরাও বিক্ষুব্ধ হয়েছেন। ফলে, বিগত দিনের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়নহীনতার কারণেই ইলেন ভুট্টোর জায়গায় নতুন কাউকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছে নলছিটির মানুষ।

রবিবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গুলশানে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন জীবা আমিনা আলগাজি।

বিএনপির মহিলা দলের অন্যতম সহসভাপতি জীবা আমিনা বলেন, আগামী দিনের ভোটে মূল চ্যালেঞ্জ নতুন ভোটাররা। দলের তরফে করা জরিপগুলো সঠিকভাবে এসেছে কি না, আমি জানি না। সাধারণ ভোটার, নতুন ভোটাররা আগামী বাংলাদেশের নির্মাণে অন্যতম প্রধান সহযোদ্ধা। তাদের মতামত নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে। সে কারণেই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে প্রার্থী নির্ধারণ করা জরুরি।

প্রশ্নের উত্তরে জীবা আমিনা উল্লেখ করেন, মনোনয়ন না পেলেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন না।

তার মন্তব্য, আমি বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতি করেছি, আমি তার বিরুদ্ধে যেতে পারব না। আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনীতির আদর্শ আমি লালন করি। আমাদের নেতা তারেক রহমান দেশের নতুন এক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। আমরা সবাই তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ।

তিনি বলেন, আমি মনে করি, আমার দলের সিদ্ধান্ত অবশ্যই আমি মেনে নেব, যে সিদ্ধান্তই হোক না কেন। আমার মতো মানুষ তো সবসময় মাঠে-ময়দানে ভীষণ সক্রিয়। আমি একটা কথা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—আমার অনুরোধ হলো, এমন একজনকে যেন আবার আমাদের ওপর চাপিয়ে না দেওয়া হয়, যার কারণে আমাদের নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়বে। আমি মনে করি, এতে সাধারণ জনগণও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়বে।

তিনি বলেন, এখন যা শোনা যাচ্ছে, উনার সঙ্গে অনেক আওয়ামী লীগের ঠিকাদার শ্রেণির লোকজন যুক্ত আছেন। আমরা এলাকার মানুষজন প্রায়ই বলি, উনি তো আসলে ‘ঠিকাদার লেডি’—একজন হ্যান্ডব্যাগ ক্যারিয়ার ছাড়া আর কিছু নন। উনাকে যদি আবার নিয়ে আসা হয়, তাহলে কোনো উন্নয়নই হবে না। কারণ, উনার নিজের ইউনিয়নেই কোনো উন্নয়ন হয়নি।

জিবা আমিনা প্রশ্ন রেখে বলেন, আমরা এমন একজনকে কেন বেছে নেব? আমার অনুরোধ থাকবে, দল যেন এমন একজন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়, যিনি সত্যিই এলাকার জনগণের জন্য কাজ করবেন, নেতাকর্মীদের পাশে থাকবেন এবং দলকে আরও শক্তিশালী করবেন।

তিনি বলেন, পার্লামেন্টে যাওয়া শুধু সেখানে বসার জন্য নয়—সেখানে কাজ করার, অবদান রাখার প্রয়োজন আছে। সংসদ সদস্য মানেই দেশের নীতিনির্ধারক। কিন্তু আমার মনে হয়, উনি সেই যোগ্যতা রাখেন না। আমি জানি না, আপনারা তাঁকে চিনেন কিনা—কিন্তু সংসদে উনার কার্যকালীন সময়ে আমি কখনো তাঁকে কোনো বিষয়ে কথা বলতে শুনিনি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাঁর মধ্যে সেই সক্ষমতা নেই।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে খারাপ লাগে এই ভেবে যে, আমরা ঝালকাঠির মানুষ—এখানকার শিক্ষার মান, চিন্তাভাবনা অনেক উন্নত। আমাদের মতো মানুষকে যদি এমন একজন ব্যক্তি প্রতিনিধিত্ব করেন, যিনি কোনোভাবেই এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখতে পারেননি, সেটা মেনে নেওয়া সত্যিই কঠিন।

তিনি বলেন, তালিকা নিয়ে আমি কিছু বলতে পারব না, কারণ তালিকা আমি করি নাই। তালিকাটা আমরা সবাই দেখেছি—আপনারাও দেখেছেন, আমাদের দল থেকেও সবাই দেখেছে।

আমার কাছে মনে হচ্ছে, আমাকে বারবার বলা হয়েছে কিছু জরিপ করা হয়েছে। কিন্তু আমি জানি না, সেই জরিপগুলো আসলে কে করেছে, বা আদৌ সেগুলো সঠিকভাবে, যথাযথভাবে করা হয়েছে কি না।

আজকে আমাদের দেশে তরুণ ভোটারের সংখ্যা কিন্তু বিশাল। এখনকার ভোটারদের বড় একটি অংশই ৩৫ বছরের নিচে। কয়েক বছর আগেও এ সংখ্যা এত বেশি ছিল না। এখন প্রশ্ন হলো—এই তরুণ প্রজন্ম ওই ব্যক্তিকে কেমনভাবে দেখবে? তারা কি তাদের বাবা-মায়ের মতো একইভাবে দেখবে? আমার মনে হয়, না।

তিনি বলেন, তবে একটা বিষয় অবশ্যই বলা দরকার—যারা বয়সে একটু বড় হলেও সবসময় মাঠে-ময়দানে ছিলেন, জনগণের পাশে থেকেছেন, মানুষ কিন্তু তাদের দেখেছে, চেনে। আমরাও মাঠে থেকে অনেক কঠিন পরিস্থিতি সামলেছি নিজেরা।

জিবা আমিনা মনে করেন, জনগণ এখন অনেক সচেতন। তারা গত ২৫ বছরে সব দেখেছে—ভালো সময়ও, খারাপ সময়ও। বিশেষ করে এই সময়ের বেশির ভাগটাই ছিল আওয়ামী লীগের শাসনকাল। আর এই সময়ে যে অত্যাচার, নির্যাতন, নানা ধরনের সংকট হয়েছে—সেটা জনগণ খুব ভালোভাবেই জানে ও মনে রেখেছে।

ইলেন ভুট্টো প্রসঙ্গে জীবা আমিনা বলেন, আমি মনে করি না যে আমি কিছু ভিন্ন বলছি, তবে পরিবর্তন অবশ্যই আসা উচিত। প্রশ্ন হলো—এলাকার সমস্যা আসলে কোথায়, আর সেই সমস্যাগুলো আপনি কীভাবে চিহ্নিত করছেন?

তার মতে, উনারা—মানে স্বামী-স্ত্রী দুজনই—দুইবার সুযোগ পেয়েছেন ওই এলাকার প্রতিনিধিত্ব করার। তাই না? আমি ভালো-মন্দ বিচার করব না, কিন্তু একটা কথা সত্য—যখন স্বামী-স্ত্রী মিলে দশ বছর ধরে একটা এলাকার নেতৃত্বে থাকেন, তখন সেটা মানুষের জীবনে এক যুগের সমান সময়। এই এক যুগে এলাকার মানুষের উন্নয়নে কী হলো, সেটা প্রশ্নের বিষয়।

তিনি বলেন, উনি সবসময় বলেন যে, তিনি তাঁর স্বামীর অসমাপ্ত কাজ শেষ করছেন। কিন্তু বিষয়টা হলো—উনার স্বামী ছিলেন জাতীয় পার্টির। আমার মনে হয়, আমাদের দল যদি কাউকে মনোনয়ন দিতেই হয়, তাহলে কেন আমরা জাতীয় পার্টির কাউকে প্রমোট করব?

তিনি বলেন, আমাদের তো নিজস্ব আদর্শ আছে—শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ, আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস, এবং আমাদের নেতা তারেক রহমান, যিনি গত ১৭ বছর ধরে নানা অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করছেন—এই মানুষগুলোই তো আমাদের প্রকৃত প্রেরণা।

তিনি অভিযোগ করেন, তাহলে আমরা কেন তাদের উদাহরণ না দিয়ে জাতীয় পার্টির কারও উদাহরণ দেব? সেটা হলে তো আমাদের আদর্শই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ