নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই: তারেক রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫ ৩:০৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫ ৩:০৯ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের ইতিহাসে লেখা হলো রাজসিক ও অবিস্মরণীয় এক প্রত্যাবর্তন। দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর অবসান হলো লন্ডনের নির্বাসিত জীবন। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে সহধমির্ণী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জায়মা রহমানকে নিয়ে ঢাকার মাটিতে পা রাখেন তিনি। এরপর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাক বিমানবন্দর থেকে ১২টা ৪১ মিনিটে বের হয়ে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান লেখা বাসে করে রাজধানীর পূর্বাচলে জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে (৩০০ ফিট সড়ক) সংবর্ধনা মঞ্চের উদ্দেশে রওয়ানা হন। প্রায় ৩ ঘণ্টা পর নেতা-কর্মীদের ভিড় পেরিয়ে ৩টা ৫০ মিনিটে মঞ্চে উপস্থিত হন।
সংবর্ধনা মঞ্চে দাঁড়িয়ে দেশবাসীর উদ্দেশ তারেক রহমান বক্তব্যের প্রথমেই বলেছেন, ‘প্রিয় বাংলাদেশ। উপস্থিত প্রিয় মুরব্বিবর্গ, জাতীয় নেতৃবৃন্দ, প্রিয় ভাই ও বোনেরা এবং মিডিয়ার মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশ থেকে যারা দেখছেন এই অনুষ্ঠান, প্রিয় ভাই ও বোনেরা, প্রিয় মা-বোনেরা, আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় ভাই-বোনেরা আজ প্রথমেই আমি রাব্বুল আলামিনের দরবারে হাজারও লাখো কোটি শুকরিয়া জানাতে চাই। রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমতে আজ আমি আমার প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরেছি আপনাদের দোয়ায়, আপনাদের মাঝে।’
সবাই মিলে দেশ গড়ার সময় এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই দেশে যেমন পাহাড়ের মানুষ আছে, একইভাবে সমতলের মানুষ আছে। এই দেশে মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান-হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে। আমরা চাই সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলব, যেই বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা দেখি, একজন মা দেখেন। অর্থাৎ একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই।’
বুধবার বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে উঠেন তারেক রহমান। এ সময় তার সফরসঙ্গী ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা জারনাজ রহমান, মিডিয়া টিমের প্রধান আবু আবদুল্লাহ সালেহ, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আবদুর রহমান সানি ও তাবাসসুম ফারহানা। তাকে বহনকারী বিমানটি প্রথমে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এক ঘণ্টা যাত্রাবিরতি শেষে ১০টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দিয়ে ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে বেরিয়ে এলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্ব স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ও ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ। স্থায়ী কমিটির নেতাদের বুকে টেনে আলিঙ্গন করেন তারেক রহমান। প্রিয় নেতাকে পেয়ে সিনিয়র নেতারাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ এক অন্য রকম অনুভূতি ছিল তাদের কাছে।
ভিআইপি লাউঞ্জে এলে তারেক রহমানকে গোলাপ ফুলের মালা গলায় পরিয়ে দিয়ে স্বাগত জানান শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু। এরপর ভিআইপি লাউঞ্জে বসে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গেও কথা বলেন তারেক রহমান।
বিমানের চাকা রানওয়ে স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দরে উপস্থিত হাজার হাজার নেতা-কর্মীর গগনবিদারী স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানাতে রানওয়ে থেকে ভিআইপি লাউঞ্জ পর্যন্ত তৈরি করা হয় নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয়। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), পুলিশের পাশাপাশি চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ)সহ নেতাদের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বিমানবন্দর থেকে বের হন তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে বেরিয়ে একটি বাগানে খালি পায়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন তারেক রহমান। এ সময় তিনি একমুঠো মাটি হাতে তুলে নেন।
দুপুর ১২টা ৪১ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বিমানবন্দর থেকে পূর্বাচলে গণসংবর্ধনাস্থলে যাওয়ার জন্য গাড়ির বহর নিয়ে রওয়ানা দেন তারেক রহমান। তাকে বহনকারী বাসটির সামনে লেখা ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ। বিমানবন্দর, কাওলা, খিলক্ষেত, কুড়িল ফ্লাইওভার হয়ে ৩০০ ফিটে সংবর্ধনাস্থল পর্যন্ত তারেক রহমানকে একনজর দেখতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ছুটে আসা নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ জনগণ সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়েছিলেন। দলীয় পতাকা, তারেক রহমানের ছবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড-ব্যানার হাতে ভোর থেকেই তারা সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন। তারেক রহমানও বাসের সামনে দাঁড়িয়ে নেতা-কর্মীদের অভিবাদনের জবাবে হাসিমুখে হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছা ও সালাম জানিয়েছেন। এই সময় বাঁধভাঙা উল্লাস ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ। তারা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে রাখেন পুরো এলাকা।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে স্বাগত জানাতে গত বুধবার রাত থেকেই পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় অবস্থান নেন সারা দেশ থেকে আসা দলীয় নেতা-কর্মীরা। বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী সেখানেই রাত যাপন করেন। সকালে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকা। বেলা ১১টার দিকে দেখা যায়, পূর্বাচলের জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে থেকে বিশ্বরোড– পুরো সড়কেই অবস্থান নিয়েছেন নেতা-কর্মীরা। জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে সড়ক ছাড়াও বনানী, কুড়িল, খিলক্ষেত ও বিমানবন্দর সড়কেও বিএনপির নেতা-কর্মীদের ঢল নামে। এছাড়া যেসব সড়ক হয়ে তারেক রহমান এভারকেয়ার হাসপাতাল ও গুলশানের বাসভবনে গেছেন, সেসব সড়কেও বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অবস্থান নেন। অপর দিকে বনানী, চেয়ারম্যানবাড়ি ও কাকলী, বসুন্ধরা, নতুন বাজার এলাকাতেও এমন চিত্র দেখা যায়। প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানান নেতা-কর্মীরা। তার রাজসিক প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়ে বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিটের জনসভাস্থল। দৃষ্টিনন্দন রূপে তৈরি করা হয়েছে মঞ্চ। গড়ে তোলা হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয়। ১৬ কিলোমিটার সড়কজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে ৯০০টি মাইক। এছাড়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডিজিটাল এলইডি ডিসপ্লে স্থাপনের মাধ্যমে তারেক রহমানের বক্তব্য দেখানো হয়েছে।
গণসংবর্ধনাস্থলের কাছাকাছি পৌঁছাতে তারেক রহমানের গাড়িবহরকে ভিড়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ৩০০ ফিটে যেতে দুই পাশে লাইন ধরে প্রিয় নেতাকে অভিবাদন জানান নেতা-কর্মীরা। বেলা ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে তারেক রহমানের গাড়িবহর সভামঞ্চের কাছাকাছি যায়। গাড়ি আর সামনে অগ্রসর হতে না পারায় ৩টা ৫০ মিনিটে তিনি হেঁটে সভামঞ্চে ওঠেন। এ সময় নেতা-কর্মীদের মুহুর্মুহু স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে সংবর্ধনাস্থল। নেতা-কর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হন তারেক রহমান।
মঞ্চে বিএনপির সিনিয়র নেতারা তারেক রহমানকে সংবর্ধনা জানান। একই সঙ্গে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলের নেতারাও মঞ্চ থেকে দাঁড়িয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। দলীয় নেতা-কর্মীরা নিচ থেকে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় হাত নেড়ে লাখ লাখ মানুষের অভিবাদনের জবাব দেন তারেক রহমান।
গণসংবর্ধনা মঞ্চে উঠে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় যুগপৎ আন্দোলনের শরিক নাগরিক ঐক্যর সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিজেপি সভাপতি আন্দালিব রহমান পার্থ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাতীয় পার্টির (জাফর) মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকনের সঙ্গে হাত মেলান ও কুশল বিনিময় করেন তারেক রহমান। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারীসহ অনেকের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তারেক রহমান।
গণসংবর্ধনাস্থলের মঞ্চে উঠে নিজের জন্য বরাদ্দ বিশেষ চেয়ার সরিয়ে রেখে সাধারণ একটি চেয়ার টেনে বসেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
বিকেল ৪টার দিকে মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এই প্রিয় মাতৃভূমি ১৯৭১ সালে লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল। ঠিক একইভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে আধিপত্যবাদীদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা হয়েছিল। একইভাবে ১৯৯০-এ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এ দেশের জনগণ, এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ছিনিয়ে এনেছিল। কিন্তু তারপরও ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা তারপর দেখেছি ১৯৭১ সালে এ দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এ দেশের ছাত্র-জনতাসহ সর্বস্তরের কৃষক, শ্রমিক, গৃহবধূ, নারী, পুরুষ, মাদ্রাসার ছাত্রসহ দলমত-নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সেদিন এই দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছেন। আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ আশা করেন, তারা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার পাবেন।
ইনকিলাব মঞ্চের প্রয়াত মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে স্মরণ করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, কয়দিন আগে ২০২৪ সালের আন্দোলনের এক সাহসী সদস্য ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। ওসমান হাদি শহিদ হয়েছেন। ওসমান হাদি চেয়েছিলেন এ দেশের মানুষের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হোক। এ দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাক। ২৪-এর আন্দোলনে ওসমান হাদিসহ যারা শহিদ হয়েছেন, ৭১-এ যারা শহিদ হয়েছেন এবং বিগত স্বৈরাচারের সময় যারা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন– তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে। আসুন, আমরা সবাই মিলে আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলি।
তিনি বলেন, ‘আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যে বাংলাদেশে একজন নারী-পুরুষ-শিশু যেই হোক না কেন, ঘর থেকে বের হলে নিরাপদে ঘরে আবার ফিরে আসতে পারবে, ইন্শাআল্লাহ। রাষ্ট্রের কাছে এ দেশের মানুষের এই প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা আছে। আজ আমরা সবাই যদি ঐক্যবদ্ধ হই, প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, তাহলে আমরা এই মানুষগুলোর সেই প্রত্যাশাগুলো পূরণ করতে পারব। ১৯৭১ সালে আমাদের শহিদরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এই রকম একটি বাংলাদেশ গঠনের জন্য।
গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, সন্তান হিসেবে আমার মন আমার মায়ের বিছানার পাশে পড়ে আছে, সেই হাসপাতালের ঘরে। কিন্তু সেই মানুষটি যাদের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন– অর্থাৎ আপনারা, এই মানুষগুলোকে আমি কোনোভাবেই ফেলে যেতে পারি না। সে জন্যই আপনাদের প্রতি এবং টেলিভিশনগুলোর মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে আজ আমি এখানে দাঁড়িয়েছি।
তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া বাংলাদেশের মাটি ও মানুষকে নিজের জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবাসেন।’ মায়ের সুস্থতার জন্য তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
যেকোনো বিশৃঙ্খলাকে পরিহার করে ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “বিভিন্ন আধিপত্যবাদ শক্তি এখন বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আমাদের ধৈর্যশীল হতে হবে, ধৈর্য ধারণ করতে হবে। আজ আমরা সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই। ‘সবাই মিলে করব কাজ, গড়ব মোদের বাংলাদেশ’ ইন্শাআল্লাহ।” যেকোনো মূল্যে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার আহ্বান জানান তিনি।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা খালেদা জিয়াকে দেখতে যান তারেক রহমান। সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি হাসপাতালে পৌঁছান। হাসপাতালে ডা. জুবাইদা রহমান ও জাইমা রহমানও ছিলেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা মায়ের শয্যাপাশে কাটিয়ে রাত সাড়ে ৭টার দিকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজার উদ্দেশে রওয়ানা দেন। রাত সাড়ে ৮টায় তিনি সেখানে পৌঁছান।
জনতার আওয়াজ/আ আ