নির্বাচনেই নির্ধারিত হবে দেশ কার হাতে থাকবে: ফখরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২০, ২০২৬ ৩:০০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২০, ২০২৬ ৩:০০ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই নির্ধারিত হবে এই দেশ কি লিবারেল ডেমোক্রেসির হাতে থাকবে, নাকি উগ্রবাদী রাষ্ট্রবিরোধী লোকদের হাতে থাকবে।
পরিকল্পিতভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে প্রচারণা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, বিএনপি তো এখন ওদের সবচেয়ে বড় শত্রু। অতীতে বাংলাদেশকে যারা স্বীকার করে নাই। তারাই সবচেয়ে বেশি দুষ্টামি করছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি।
ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ওই সময়ে যারা মানুষ মেরেছে। আমাদের মা বোনদের সম্ভ্রমহানি করেছে। পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর হাতে আমাদের মা বোনদের তুলে দিয়েছে। সেই হিসাব আমরা ভুলি নাই। তারপরেও আমরা মনে করি যে, রাজনীতি করছ। রাজনীতি কর। সিধা রাস্তায় কর। ধর্মকে ব্যবহার করে, মানুষকে বিভ্রান্ত করে, ভুল বুঝিয়ে, দাড়ি পাল্লায় ভোট দিলে নাকি বেহেশতে যেতে হবে। হায় হায়। চিন্তা করেন তাহলে?
তিনি বলেন, এরা হচ্ছে এই মুনাফিকি করে এদের এই মানুষকে ভুল বোঝায়। বিভ্রান্তি করে। আমি কথাগুলো বলতে আজকে বাধ্য হচ্ছি। কারণ তারা এই কথাগুলো আজকে বিভিন্নভাবে বিএনপিকে নিয়ে মিথ্যা প্রচার করে। বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছে প্রতিটি মানুষ তখন তার বিরোধিতা করেছে। আজকে যখন বাংলাদেশের মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে। যে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতি তারেক রহমানের নতুন রাজনীতি, আধুনিক রাজনীতি যা বাংলাদেশকে পাল্টে দেবে তা গ্রহণ করবার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে তখন তারা আবার সেটাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে ধর্মের নাম দিয়ে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের কথা খুব পরিষ্কার। আমরা ধর্মে বিশ্বাস করি। আমাদের নেতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেব তিনি প্রথম সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম দিয়েছেন। তিনি প্রথম আল্লাহর উপর অবিচল আস্থা বিশ্বাসের কথা বলেছেন। তাই বলছি ধর্মের নামে অপরাধনীতি বন্ধ করুন।
ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরো বলেন, আর মাত্র ২৩ দিন আছে নির্বাচনের। এখন অনেকে নির্বাচন হবে কিনা? বাধা দেব। করতে দেব না। এ ধরনের যারা কথাবার্তা বলেন। ভেতরে ভেতরে খবর নিয়ে দেখেন তাদের তিনটা ভোটও নাই।
ওরা আবার বড় গোলায় বলে নির্বাচন হতে দেবো না। হোক নির্বাচন দেখা যাক কে কতটা ভোট পায়। আমরা তো সেজন্য, ভোটের জন্য উন্মুখে আছি। আমরা নির্বাচন চাই। আমরা যাব জনগণের কাছে। জনগণ যদি আমাদেরকে গ্রহণ করে আমরা আছি। জন যদি বাদ দিয়ে দেয় দেব, আমরা বিরোধী দলে থাকবো তাই না? তবে আগে থেকে এত গলাবাজি কেন? ভাই আমি আশা শেষ করব যে আজকে আমাদের এই পরীক্ষাটা খুব কঠিন পরীক্ষা।
এই নির্বাচনে নির্ধারিত হবে যে এই দেশ কি লিবারেল ডেমোক্রেসির হাতে থাকবে নাকি আপনার সমস্ত উগ্রবাদী রাষ্ট্রবিরোধী লোকদের মধ্যে থাকবে। আমাদেরকে অবশ্যই সেই উদারপন্থী রাস্তা বেছে নিতে হবে। গণতন্ত্রের রাস্তা বেছে নিতে হবে। মানুষের কল্যাণের রাস্তা বেছে নিতে হবে। সে কারণেই আমাদের ৩১ দফা আমাদের চেয়ারম্যান সাহেবের যে আট দফা দিয়েছেন। আবার নতুন করে ফ্যামিলি কার্ড। ফার্মারস কার্ড। এই বিষয়গুলো জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদেরকে নির্বাচনে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।
আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ আরো অনেকেই।
জনতার আওয়াজ/আ আ