নীলফামারী- ৪ আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনি প্রচারণা - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:০৯, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নীলফামারী- ৪ আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনি প্রচারণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, নভেম্বর ৩, ২০২৫ ১:১১ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, নভেম্বর ৩, ২০২৫ ১:১১ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নীলফামারী-৪ আসনে (সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ) বাড়ছে রাজনৈতিক তৎপরতা ও প্রার্থীদের প্রচারণা। ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছেন এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ভোটার প্রত্যাশার পরিবর্তনে তৈরি হয়েছে এক নতুন রাজনৈতিক চিত্র।

ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছেন বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বর্তমানে এনসিপির যুগ্ম মুখ্যসংগঠক ও অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক মো. আবু সাঈদ লিয়ন, গণঅধিকার পরিষদের সৈয়দপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মো. মনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সৈয়দপুর উপজেলা আমির হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা আলহাজ শহিদুল ইসলামকে নির্বাচনি প্রচারণায় সক্রিয় দেখা যাচ্ছে।

তবে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছেন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সংগীতশিল্পী বেবি নাজনিন, অষ্টম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এমপি বিলকিস ইসলাম, সৈয়দপুর জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুল গফুর সরকার, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ও বিএনপির রাজনৈতিক জেলা শাখার কার্যকরী সদস্য শওকত হায়াত শাহ, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও চার বারের পৌর মেয়র মরহুম আমজাদ সরকারের ছেলে এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াদ আরফান সরকার রানা, এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মামুনুর রশিদ।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাকের পার্টির নীলফামারী-২ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ও কাশিরাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লাঞ্চু চৌধুরী জানান, এ আসনে দল নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

এছাড়া জাসদ (রব), খেলাফত মজলিশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম, ফরায়েজি আন্দোলন ও খেলাফত আন্দোলনের কোনো প্রার্থী বা কর্মীকে এখনো মাঠে দেখা যায়নি।

মাঠে নেই কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থীও। তবে যারা প্রচারণায় নেমেছেন, তারা ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন সরাসরি ভোটারদের কাছে যাওয়া, সামাজিক সেতুবন্ধন তৈরি করা এবং ওয়ার্ডভিত্তিক কাজের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই ভিন্নধর্মী প্রচারণা কৌশল শেষ পর্যন্ত ভোটের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এ আসনে প্রচার শুধু পোস্টার ব্যানারেই আটকে নেই। প্রাথীরা জনসংযোগ করছেন বাড়ি বাড়ি, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, দান ও সেবামূলক কাজে বেশি জোর দিচ্ছেন।

গ্রাম-গ্রামান্তরের এলাকা ও বিশেষ করে সৈয়দপুর শহরের উর্দুভাষী ভোটাররা স্বাভাবিকভাবে প্রার্থীদের অন্যতম লক্ষ্যবস্ত। কারণ, পৌর এলাকায় এরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। ২০২১ সালের পৌর নির্বাচন ছাড়া এর আগে প্রতি নির্বাচনে বিএনপি দল থেকে পছন্দনীয় ব্যাক্তিকে বারবার নির্বাচিত করেছেন। তবে গ্রামাঞ্চল থেকে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত নাগরিক ও নতুন ভোটাররা বলছেন, কথা শুনতে ভালো লাগে, কিন্তু কাজ ছাড়া বিশ্বাস রাখাটা কঠিন। পুরনো প্রচারণার গল্পগুলোর প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে না। কারণ অনেক প্রার্থীর কথা দুই‑চার বছরের মধ্যে ভেসে গেছে বাস্তবতার মেঘে।

নির্বাচনের মাঠে ছোট ছোট জনসভা, পথসভা ও উঠান বৈঠকে ভোটারদের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে বক্তব্য রাখছেন বিএনপির আটজনসহ এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের মিলে মোট ১২ জন প্রার্থী।

এনসিপির যুগ্ম মূখ্য সংগঠক ও অঞ্চল তত্বাবধায়ক থেকে মো. আবু সাঈদ লিয়ন বলেন, ‘এনসিপি সাম্য মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের রাজনীতি করে। দেশ থেকে চিরতরে বৈষম্য দূর করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে। স্বৈরাচারের পতনের পর সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জবাসী নতুন এক স্বপ্ন নিয়ে বুকে আশা বেধেছে। আর কেউ অধিকার হরণ করবে না, চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব থেকে মুক্ত থাকবে। এই আসনকে প্রত্যেক দল আলাদা গুরুত্ব দেন। এনসিপি এ আসনের উন্নয়নে বৃহৎ পরিকল্পনা নিয়েছে। উত্তরবঙ্গের ব্যাবসায়িক হার গড়ে এর ধারাকে ছড়িয়ে কর্মসংস্থান ঘটানো হবে। বর্তমান জনগণ রাজনীতিতে পুরাতন ট্র্যাডিশনাল রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রত্যাখান করেছে। তারা চায় নতুনত্ব, চায় তরুণ। তারুণ্যের ভাবনায় আগামীতে এ আসনকে এগিয়ে নিতে চাই।’

গণঅধিকার পরিষদ সৈয়দপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, গণঅধিকার পরিষদ কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। এরই ধারাবাহিকতায় অসহায়জনদের পাশে দাঁড়ানো, ওয়ার্ড পর্যায়ে পাড়া মহল্লায় উঠান বৈঠক, খেলাধুলায় বিশেষ সহায়তার মাধমে আগামী নির্বাচনের প্রচারণা চলছে। এ আসনের তৃণমুল থেকে শহর এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করে নিরসনের বার্তা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যেই নতুন বাংলাদেশ বির্নিমাণে এই আসন গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখবে।

তবে এ আসনে প্রচারনায় সাড়া ফেলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সৈয়দপুর উপজেলা শাখার আমির হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম। তিনি শোডাউন, প্রতিটি ওয়ার্ডে মহিলা ও পুরুষদের নিয়ে আলাদা উঠোন বৈঠক করছেন নিয়মিত।

তিনি বলেন, এই আসনের সকল মানুষ আমার। তাদের দুঃখ,কষ্ট যেন আমার। এই অনুভব নিয়ে আমি রাজনীতি করছি। সর্বপরি সুখ,সমৃদ্ধি ও শান্তি প্রতিষ্ঠা হচ্ছে আমার ব্রত।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রার্থী আলহাজ শহিদুল ইসলাম। তিনিও দলীয় সভা সমাবেশ ছাড়াও মাঠ পর্যায়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে নায়েবে আমির মোজাহেদীনের সঙ্গে সফরে রয়েছেন।

এই আসনে বিএনপির বেবি নাজনীন প্রচারনায় ব্যাস্ত সময় পার করছেন। তিনি এ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নসহ কিশোরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ওয়ার্ড ও পাড়া মহল্লায় নিয়মিত পথসভা, উঠান বৈঠক করছেন।

বেবী নাজনীন বলেন, বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের নিপিড়নের শিকার হয়েছি। বাধ্য হয়ে দেশের মায়া ছেড়ে প্রবাসে কাটিয়েছি। আমার এই পল্লীতে জন্ম। তাই আবারও ফিরে এসেছি। এ আসনের মানুষজন আমার পরম আত্মীয়। মহান রাব্বুল আলামিন যদি সুযোগ দান করেন, তাহলে মুরুব্বীদের পরামর্শে তরুণদের নিয়ে সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাব। এতেই শহিদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে। এজন্য তিনি সবাইকে বিএনপির পতাকাতলে আসার আহ্বান জানান।

বিএনপির সম্ভাব্য আরের প্রার্থী বিলকিস ইসলাম বলেন, ‘আমি তিন যুগ ধরে বিএনপির সঙ্গে জড়িত। অষ্টম সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ছিলাম। সেই সময় কিশোরগঞ্জে মহিলা কলেজ ও খালেদা জিয়া স্কুল ও কলেজ স্থাপন করেছি। বন্ধ তিস্তা প্রকল্পের কাজ এনেছিলাম। অনেক ধর্মীয় ও শিক্ষা এবং সড়ক উন্নয়নের কাজ করেছি। তাই আবার সুযোগ পেলে কিশোরগঞ্জকে পৌরসভায় উন্নীতসহ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করব।’

সৈয়দপুর জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার বলেন, ‘এই দুই উপজেলাবাসীর যে সমস্যা তা চিহ্নিত করেছি। বিশেষ করে কিশোরগঞ্জবাসীর দাবি মেটানোর কাজ করব।’

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫১ জন। দুই উপজেলা মিলে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৮ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৯৬৮ জন।খবরের কাগজ

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ