‘নুরের তৎপরতা দলীয় গঠনতন্ত্র এবং মূলনীতির পরিপন্থী’
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, জুলাই ৭, ২০২৩ ২:১০ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, জুলাই ৭, ২০২৩ ২:১০ পূর্বাহ্ণ

ডেস্ক নিউজ
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ড. রেজা কিবরিয়ার কথিত অপসারণ সম্পূর্ণ অবৈধ বলে মন্তব্য করেছেন দলের একাংশের নেতৃবৃন্দ। সেই সঙ্গে গত ১৮ জুলাইয়ের পর থেকে নুরুল হক নুরের সব তৎপরতা দলীয় গঠনতন্ত্র এবং মূলনীতির পরিপন্থী বলে জানান তারা।
বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যবৃন্দের ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে গণঅধিকার পরিষদের একাংশের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান বলেন, আমরা রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ অপসারণ প্রক্রিয়াকে সমর্থন করি না এবং তিনি দলের আহ্বায়ক হিসেবে বহাল আছেন বলে মনে করি। সেই সঙ্গে আমরা ঘোষণা করতে চাই, ড. রেজা কিবরিয়াকে বাদ দিয়ে যারা কাউন্সিলের দিন নির্ধারণ করেছেন তারা পরিকল্পিতভাবে দলকে ভাঙনের দিকে ঠেলে দিতে চাচ্ছেন।
তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে গণঅধিকার পরিষদের অভ্যন্তরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে দলের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও ন্যায়বিচারের চর্চা ব্যহত হয়েছে, যা এ দলের প্রতি মানুষের অপরিসীম প্রত্যাশাকে ক্ষুণ্ন করেছে।
তিনি আরো বলেন, গত ১৮ জুন দলের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে সদস্য সচিব নুরুল হক নুরের কিছু অভিযোগের প্রেক্ষিতে ড. রেজা কিবরিয়ার বাসার ছাদে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির একটি জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নুর দলের সাংগঠনিক প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে ইনসাফ কায়েম কমিটির একটি সভায় অংশ নেওয়া ও তাদের নিকট থেকে অর্থগ্রহণের অভিযোগ তোলেন। এর জবাবে ড. রেজা কিবরিয়া ইনসাফ বাস্তবায়ন কমিটির সভায় যাওয়ার ব্যাখ্যা দেন। তবে, আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি মিথ্যা বলে দাবি করেন এবং প্রমাণ থাকলে তা হাজির করতে বলেন।
একই সময়ে তিনি নুরের বিরুদ্ধে কয়েকটি সুস্পষ্ট অভিযোগ আনেন। যার মধ্যে ইসরাইলি নাগরিক ও কথিত মোসাদের এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে আলোচিত বৈঠকের সত্যতা সংক্রান্ত কিছু তথ্য, আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে দলীয় তহবিল নিজে গ্রহণ ও হিসাব না দেওয়া এবং শিপন বসুসহ বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সন্দেহভাজন লোকদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগ তোলেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে নুর কাতারে ইসরাইলি নাগরিক মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি স্বীকার করেন তবে কোনো রকম আর্থিক সুবিধা গ্রহণের বিষয়ে অস্বীকার করেন। তবে বৈঠকের কথা স্বীকার করলেও এ বৈঠকের আলোচ্যসূচি কী ছিল, তা তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদেরকে অবগত করতে অস্বীকৃতি জানান।
ড. রেজা কিবরিয়ার অনুপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ফারুক হাসান জানান, বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করায় তিনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
এসময় ফারুক হাসান আরো বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, অধিকার ও জাতীয়স্বার্থ রক্ষায় কাজ চালিয়ে যাব। তারই অংশ হিসেবে আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করছি।
১. অবিলম্বে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে। শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হতে পারে না।
২. অবিলম্বে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান, হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হকসহ সকল রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।
৩. বাংলাদেশ পাসপোর্টে পূর্বের ন্যায় এক্সেন্ট ইসরাইল (Except Israel) লেখাটি পূর্ণবহাল করতে হবে। ইসরায়েলের সাথে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গোপন কোন সম্পর্ক থাকলে তা তদন্ত করে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের একাংশের যুগ্ম আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেন, কর্ণেল মিয়া মশিউজ্জামান, জাকারিয়া পলাশ, মুফতি সোহাইবি, আবুল কালম আজাদ প্রমুখ।
জনতার আওয়াজ/আ আ