নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বালেন্দ্র শাহ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, মার্চ ২৭, ২০২৬ ৫:২১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, মার্চ ২৭, ২০২৬ ৫:২২ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সংগৃহীত ছবি
নেপালের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপখ নিয়েছেন রাজধানী কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র ও র্যাপার বালেন্দ্র শাহ, যিনি ‘বালেন শাহ’ নামে পরিচিত।
শুক্রবার প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন শীতল নিবাসে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কির উপস্থিতিতে নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেল বালেন শাহকে পদ ও গোপনীয়তার শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠানের আগে ২০০ জনেরও বেশি হিন্দু পুরোহিত ও বৌদ্ধ লামা শঙ্খধ্বনি, স্তোত্র পাঠ এবং শান্তির প্রার্থনার মাধ্যমে পরিবেশকে আধ্যাত্মিক করে তোলেন।
নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পটভূমি তৈরি হয় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ঘটে যাওয়া জেন-জি নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ মার্চ দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে মাত্র তিন বছর আগে গঠিত বালেন শাহের দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) ২৭৫ সদস্যের সংসদের মধ্যে ১৮২টি আসনে জয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং সরকার গঠনের পথে এগিয়ে যায়।
চীন ও ভারতের মধ্যবর্তী হিমালয় অঞ্চলের ছোট এই দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের প্রভাব ছিল। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির নেতৃত্বাধীন নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি (ইউএমএল), যাকে চীনমুখী বলে ধরা হয় এবং প্রাচীনতম দল নেপালি কংগ্রেস, যাকে ভারতের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
রাজনীতিতে বালেন শাহর উত্থান ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। নেপালের ইতিহাসে প্রথম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হন। পরে তিনি রবি লামিছানের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী নতুন রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টিতে যোগ দেন। দলটি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ভারত ও চীনের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়।
নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, নেপালি কংগ্রেস ৩৮টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করা কেপি শর্মা ওলির নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি মাত্র ২৫টি আসনে জয় লাভ করে।
বালেন শাহ কোনো রাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে আসেননি। একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে পরে র্যাপার হিসেবে পরিচিতি পান। এরপর রাজনীতিতে প্রবেশ করে ২০২২ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হন। তার অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক উত্থান এবং জনপ্রিয়তা বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে তাকে এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কাঠমান্ডুর অবকাঠামো উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যসেবায় ভূমিকা রেখে প্রশংসা অর্জন করেন তিনি। তবে একই সঙ্গে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনার মুখেও পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি পুলিশ ব্যবহার করে হকার ও ভূমিহীনদের উচ্ছেদ করেছেন।
সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করেন বালেন শাহ। প্রচলিত রাজনীতিবিদদের মতো তিনি মূলধারার সংবাদমাধ্যমে খুব একটা সক্রিয় নন; বরং ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সাড়ে তিন কোটির বেশি অনুসারীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতে পছন্দ করেন।
যুবসমাজের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা ব্যাপক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার জীবনধারা, স্টাইল ও বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হয়, যা কখনো কখনো বিতর্কেরও জন্ম দেয়। তবুও তরুণদের বড় একটি অংশ তাকে রোল মডেল হিসেবে দেখে।
কেপি শর্মা ওলির সঙ্গে বালেন শাহর রাজনৈতিক দ্বন্দ্বও নতুন নয়। একসময় কাঠমান্ডু মেট্রোপলিটন সিটির সাড়ে তিন হাজারের বেশি কর্মচারী দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় তিনি তাদের পাশে দাঁড়ান। এ নিয়ে তরুণদের সমর্থনে আন্দোলন গড়ে ওঠে। এছাড়া বিভিন্ন সময় সরকারবিরোধী আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।
নেপালি সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বালেন শাহকে ঘিরে ব্যাপক সমর্থন দেখা গেছে। অনেক নাগরিক মনে করছেন, দেশের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে নতুন নেতৃত্ব হিসেবে বালেন শাহর প্রতি তরুণদের আস্থা বেড়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, কাঠমান্ডু পোস্ট
জনতার আওয়াজ/আ আ