পলিথিন বন্ধে সময়ের দাবি ব্যবসায়ীদের
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৪ ৪:২২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৪ ৪:২২ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
পলিথিনের ব্যবহার বন্ধের যে সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে, তার কোনটাই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে না; হুট করেই চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। পলিথিনের বিকল্প ব্যবস্থা করে অন্তত ৬ মাস থেকে ১ বছর সময় দিয়ে যদি এটা করা হয়, তাহলে বিষয়টা ভালো হবে এবং ব্যবসায়ীরাও সেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
সোমবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে প্লাস্টিক ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ব্যবসায়ীরা।
সংবাদ সম্মেলনে ‘সমুদ্র দুষণের জন্য আমরা দায়ী না’ মন্তব্য করে ব্যবসায়ীরা বলেন, ভারত, নেপাল, চীন থেকে ৫৪টি নদী বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়, প্রচুর প্ল্যাষ্টিক বর্জ্য নিয়ে আসে। এটা আমাদের নদ, নদী ও সমুদ্রর বর্জ্য সৃষ্টি করেছে। সুতরাং, সব বর্জ্যের জন্য বাংলাদেশকে দায়ী করা যুক্তিসঙ্গত নয়।
গত ২০ জুন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে ১৭টি সিঙ্গেল ইউজ প্লাষ্টিক পণ্য ফেইজ আউট করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রথম অবস্থায়, সুপারশপগুলোতে পলিথিনের ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং আগামী ১ নভেম্বর থেকে সারাদেশে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করবে সরকার, যার প্রতিবাদেই এই সংবাদ সম্মেলন করেন এই খাতের ব্যবসায়ীরা।
বাংলাদেশ প্লাষ্টিক প্যাকেজিং, রোল ম্যানুফ্যাকচারিং ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি আবু মোতালেব বলেন, বারবার গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো, বাড়ির মালিকদের ভাড়া বাড়ানো, আগের সরকারের সময়ের চাঁদাবাজি, সরকারের দ্বিমুখী সিদ্ধান্তের ফলে ব্যবসায়ীরা এমনিতেই ভালো অবস্থায় নেই। এর মধ্যে যদি ব্যবসার উপর নতুন আঘাত আসে তাহলে সরকারের ট্যাক্স কমে যাবে, ইন্ডাষ্ট্রি নতুন করে ক্ষতির মুখে পড়বে, বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাবে। তাই আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে বলতে চাই, উনি পরিস্থিতি অনুধাবন করবেন। বর্তমান পরিস্তিতি অনেক নাজুক, প্রয়োজনে ব্যবসায়ীরা কিন্তু পথে নেমে যাবে।
লিখিত বক্তব্যে প্লাষ্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক এসোসিয়েশনের সভাপতি এবং প্লাষ্টিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক সামিম আহমেদ বলেন, যে লক্ষ্যে ২০২২ সালে প্ল্যাস্টিক শপিং ব্যাগ বন্ধ করে দেয় তা গত ২২ বছরে অর্জন করা সম্ভব হয়নি। সাশ্রয়ী মূল্য, গুনগত মান এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য শপিং ব্যাগ এর বিকল্প উৎপাদন ও সরবরাহ সম্ভব হয়নি। পরিবেশ বাচাতে হলে রিসাইকেল, রিইউজের পরিমান বাড়াতে হবে এবং ব্যবস্থাপনা ঠিক করতে হবে।
প্ল্যাষ্টিকের উপকারিতা সম্পর্কে জানিয়ে তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী আইডাইজড লবন প্লাস্টিক ছাড়া মোড়কীকরণ সম্ভব নয়। বর্তমান সরকার ভোজ্য তেলের সাথে ভিটামিন এ যুক্ত করতে চায় যা প্লাস্টিক কন্টেইনার ছাড়া এটা সম্ভব নয়। তরল দুধ, প্লাস্টিক প্যাকেজিং ছাড়া বাজারজাত সম্ভব নয়। এছাড়া গাছের চারা, টেক্সটাইল ও জুট প্যাকেজিং সহ নানান কাজে সিঙ্গেল ইউজ প্ল্যাষ্টিক দরকার।
তিনি আরও বলেন, সিঙ্গেল ইউজ প্ল্যাষ্টিক বন্ধ করার প্রচেষ্ঠা চলছে। সরকারের এই প্রচেষ্ঠার ফলে প্লাস্টিক সেক্টরের ব্যবসা বাণিজ্য এবং লিংকেজ হিসেবে অন্যান্য সেক্টরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এই আইনের কারণে শিল্প বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে এবং বাজারে নেগেটিভ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিন্তা করেন। সেটা বাস্তবায়ন করতে পারবেন কী না সেটাও চিন্তা করেন। সিঙ্গেল ইউজ প্ল্যাষ্টিক এর তালিকায় এমন কিছু পণ্য আছে যার সঙ্গে জড়িত আছে কয়েক লাখ লোকের কর্মসংস্থান। এই খাতের সঙ্গে ১৩ লাখ ক্ষুদ্র বিক্রেতা জড়িত৷ সরকারের কোষাগারে প্রতিবছর ৪০ হাজার কোটি টাকা জমা হয়।
বাংলাদেশ প্ল্যাষ্টিক প্যাকেজিং, রোল ম্যানুফ্যাকচারিং ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি আবু মোতালেব বলেন, এর আগে যখন প্ল্যাষ্টিক বন্ধ হল তখন এই খাতের অনেক ব্যবসায়ী পথে বসে গেছিলো। ২০০২ সালে পাটকে উৎসাহিত করতে শপিং ব্যাগকে বন্ধ করা হলো। কিন্তু দেখা গেলো আদমজী জুট মিলস বন্ধ হয়ে গেছে। এখনকার উপদেষ্টার আগে থেকে প্ল্যাষ্টিক খাতে উপর আগের থেকেই ক্ষোভ ছিল। আমরা আগেও বলেছি, এখনও বলি বিকল্প চলে আসলে সিঙ্গেল ইউজ প্ল্যাষ্টিক বন্ধ হয়ে যাবে।
জনতার আওয়াজ/আ আ