পালাতে গিয়ে ব্যর্থ হারুন, গোয়েন্দা জালে ধরা! - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ১০:২৪, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

পালাতে গিয়ে ব্যর্থ হারুন, গোয়েন্দা জালে ধরা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৪ ৯:১৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৪ ৯:১৪ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পদত্যাগ করে চুপিসারে ভারতে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদিন দিনভর পুলিশ সদর দফতরে ছিলেন ডিএমপি গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক প্রধান হারুন অর রশীদ। ছিলেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই লাপাত্তা হারুন।

কোটি মানুষের প্রশ্ন, পুলিশের এক সময়ের প্রতাপশালী কর্মকর্তা ডিবি হারুন এখন কোথায়। কানাঘোষা চলছে গা ঢাকা দিয়ে দেশেই আছেন তিনি। পুলিশও খুঁজে চলেছে এই পুলিশ কর্মকর্তাকে। কেউ কেউ বলছেন গোয়েন্দা জালেই আছেন ডিবি হারুন। ডিএমপির বিভিন্ন থানায় পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে হওয়া ১৩৪টি মামলার মধ্যে ডিবি হারুনের বিরুদ্ধে ৩৮টি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।

একটি সূত্র বলছে, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর হতাশ হারুন পুলিশ সদর দফতরের দেওয়াল টপকে পালিয়ে যান। সেদিনই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তার আগেই আটক হন সেনাবাহিনীর হাতে। তবে এমন খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

আরেকটি সূত্র বলছে, গত ৫ আগস্ট ডিবি হারুনসহ পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মাস্ক পরে পুলিশ সদর দফতরের দেওয়াল টপকে নগর ভবনে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে তারা সাদা পোশাকে পালিয়ে যান। তারপর কোথায় গিয়েছেন তা আর জানা যায়নি। তাদের সবার মুখে মাস্ক পরা ছিল।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, হারুন অর রশীদ এখনো জীবিত। এবং দেশেই অবস্থান করছেন। সরকার পতনের পর তিনি দেশ থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্যর্থ হন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মারধরের শিকার হন ডিবি হারুন। পরে গুরুতর আহ্ত অবস্থায় রাজধানীর সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি হন।

গত ৫ আগস্টের পর পরই ডিএমপির নিজস্ব হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে হারুনের ছবি দেখা গেছে। তিনি অসুস্থ অবস্থায় সিএমএইচে ভর্তি ছিলেন। এরপর ছবিটি ডিলিট করে দেওয়া হয়। হারুন অর রশীদকে ৮ থেকে ১০ আগস্টে পুলিশের কিছু কর্মকর্তা সাদা পোশাকে মারধর করেন। পুলিশ কমান্ডার কন্ট্রোল সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে হারুনকে গুরুতর আহত অবস্থায় সিএমএইচে ভর্তি করা হয়।

ডিএমপি সাবেক এই অতিরিক্ত কমিশনারের বাসার কেয়ারটেকার জানান, গত ৩ আগস্ট সকালে উত্তরার বাসা থেকে অফিসের উদ্দেশে বের হন হারুন অর রশীদ। এরপর থেকেই লাপাত্তা। ১ আগস্ট তাকে গোয়েন্দা শাখা থেকে সরিয়ে ডিএমপির ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন শাখায় পদায়ন করা হয়। নতুন অফিসে ২ আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন হারুন।

অবস্থান নিশ্চিত হতে একাধিকবার তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল করা হয়। ফোনটি বন্ধ থাকায় তাকে পাওয়া যায়নি। ডিএমপি সদর দফতরেও খোঁজ নিলে ডিবি হারুন সম্পর্কে কোন তথ্য মেলেনি।

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগর জানান, যেসকল পুলিশ কর্মকর্তা কর্মস্থলে অনুপস্থিত, তাদের গত ১৫ আগস্টের মধ্যে কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও যারা কাজে যোগ দেননি, তাদের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ৩০ আগস্ট হারুন অর রশীদ আছেন এমন সন্দেহে রাজধানীর উত্তরায় একটি বাসা ঘিরে রাখেন স্থানীয়রা। ঘটনাস্থলে আসেন সেনাবাহিনী। তবে গুঞ্জন ওঠা সেই খবরে আসামি খুঁজে পায়নি সেনা সদস্যরা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ