পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:৫৪, শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৪ ৯:১৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৪ ৯:১৮ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, ‘২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানার হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। বিডিআর বিদ্রোহের নামে নৃশংস হত্যাকাণ্ডে চৌকস ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা নিহত হন।’

নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে পিলখানার বিডিআর বিদ্রোহের নৃশংস ঘটনার বিচারের দাবি ও নিহতদের স্মরণে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মু. নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য প্রদান করেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আবদুস সবুর ফকির, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসাইন ও ড. আব্দুল মান্নান।

ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আজকের দিনে সেই শহীদ বীর সন্তানদের রূহের মাগফেরাত কামনা করছি। জাতির জন্য এটি একটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। পিলখানা হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটা আধিপত্যবাদী শক্তির বাংলাদেশকে করদরাজ্য বানানোর ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রেরই একটি অংশ। এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আধিপত্যবাদী শক্তি বাংলাদেশকে একটি তাবেদার রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়। বিডিআর বিদ্রোহের এই ঘটনাকে পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আধিপত্যবাদীদের ষড়যন্ত্রে দেশের সীমানা আজ অরক্ষিত। এই আগ্রাসী শক্তি আমাদের অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কলকারখানাসহ সকল ক্ষেত্রে গোলামী বা পরাধীনতার শিকলে আবদ্ধ করতে চায়। ফলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে দেশপ্রেমিক জনতাকে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর ৫৭ জন চৌকস অফিসারকে হত্যা করা হয়। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে একদিকে এদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে ফেলার অপচেষ্টা করা হয়েছে। অপরদিকে এ ঘটনার মধ্যে দিয়ে এদেশের সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ধ্বংস করে দিয়ে আমাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সীমানাকে অরক্ষিত করে দেয়ার নীল নকশা আঁকা হয়েছে। এদেশের দেশপ্রেমিক জনগণ আধিপত্যবাদের গোলামীকে কখনোই বরদাশত করবে না। তাই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশপ্রেম ও ইসলামের সুমহান আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে।’

আব্দুস সবুর ফকির বলেন, ‘পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১৫ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও বাংলাদেশের মানুষ এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর পায়নি। সেই দিন দরবার হলে আসলে কী হয়েছিল? অল্প সময়ের মধ্যে দেশের সকল মেধাবী অফিসারকে বিডিআরে বদলি করে কেন সবাইকে একত্রিত করা হলো? এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত রিপোর্ট আজও জনম্মুখে আসতে দেয়া হয়নি কেন? গণতান্ত্রিক দেশে সকল নাগরিকদের এ তথ্য জানার অধিকার রয়েছে। এ তথ্য প্রকাশিত হলেই এই নৃশংস ঘটনার আসল রহস্য জাতির কাছে উন্মোচিত হয়ে পড়বে।’

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘২০০১ সালের নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবারের স্লোগান দিয়ে বিডিআর রৌমারি সীমান্তে ভারতীয় আগ্রাসন ঠেকিয়ে দিয়ে যে বীরত্ব দেখিয়েছিল আধিপত্যবাদী শক্তি তারই নিকৃষ্ট প্রতিশোধ নিয়েছে ২০০৯ সালে পিলখানায় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে। এটা স্বাভাবিক কোনো হত্যাকাণ্ড ছিলো না। পিলখানায় দেশপ্রেমিক ৫৭ জন সেনা অফিসারকে হত্যা করে বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীনতার চেতনাকে ধ্বংস করতে চেয়েছে ‘

সভার আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য আবদুস সালাম, অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন, সহকারী অফিস সম্পাদক আব্দুস সাত্তার সুমন, সহকারী সমাজ কল্যাণ সম্পাদক শাহীন আহমদ খান প্রমুখ।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ