পুশইন ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়নে একমত উভয় পক্ষ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:১৮, মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১লা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

পুশইন ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়নে একমত উভয় পক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬ ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬ ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
সীমান্তে ‘পুশইন’ সংক্রান্ত ঘটনা মোকাবিলায় বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা ও দায়িত্ব পালনের স্বীকৃত পদ্ধতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তরক্ষী রাহিনী একমত হয়েছে বলে জানা গেছে।

অতি সম্প্রতি ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনে তারা একমত হন। সম্মেলনে উভয় পক্ষ পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের চেতনায় এসব প্রক্রিয়ার কার্যকর বাস্তবায়নে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিরে জানানো হয়, ৮–১১ জুন ভারতের নয়াদিল্লিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর মধ্যে ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বিজিবির ১৪ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। অপরদিকে ভারতের ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিএসএফ’র মহাপরিচালক শ্রী প্রবীন কুমার।

এই বৈঠকে সীমান্তে পুশইনের ঘটনার বিষয়ে উভয় পক্ষই সম্মত হয়েছে জানিয়ে বিজিবি সদর দপ্তর বলেছে, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তারা পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের চেতনায় এসব প্রক্রিয়ার কার্যকর বাস্তবায়নে অঙ্গীকার করেন।

সীমান্তে হত্যা ও সহিংসতা প্রতিরোধ উভয় পক্ষই সম্মত হয়। এসব বিষয় আন্তরিক, সৎ ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে, প্রচলিত আইন অনুসরণ করে এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে। উভয় পক্ষ সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, যৌথ টহল বৃদ্ধি, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম নেওয়ার বিষয়েও সম্মত হন। এতে সীমান্তে অনুপ্রবেশ হত্যা ও হামলার ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনা যাবে বলেও আশা ব্যক্ত করেন তারা।

সীমান্ত নিরাপত্তা, মাদক ও চোরাচালানের বিষয়ে জানানো হয়, উভয় পক্ষ মাদকবিরোধী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি গবাদিপশু চোরাচালান প্রতিরোধের বিষয়ে একমত হয়। এছাড়া অবৈধ অভিবাসন, মানবপাচার ও রোহিঙ্গা বিষয়ে সম্মেলনে উভয় পক্ষ অবৈধ আন্তঃসীমান্ত চলাচল প্রতিরোধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিবে বলে জানায়। এ ছাড়া মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াসহ ভুক্তভোগীদের সময়মতো উদ্ধার, পুনর্বাসন ও আইনগত সহায়তা নিশ্চিতে একমত হয় তারা।

জাল মুদ্রা ও স্বর্ণ চোরাচালানের বিষয়ে উভয় পক্ষ আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্র সম্পর্কিত গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান আরও জোরদার করবে। পাশাপাশি এ ধরনের অপরাধে জড়িত কার্টেল ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন তারা।

অন্যদিকে সীমানা নির্ধারণ ও সীমান্ত পিলার সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে সম্মেলনে উভয় পক্ষ সম্মত হয়। পাশাপাশি তারা নদীভিত্তিক ও অন্য সংবেদনশীল এলাকার সীমান্ত নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয়সমূহ বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে সহযোগিতামূলকভাবে সমাধানের জন্য আলোচনা করেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ