প্রতীক পেয়েই ভোটের মাঠে প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:৪০, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

প্রতীক পেয়েই ভোটের মাঠে প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৯, ২০২৩ ১:৫০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৯, ২০২৩ ১:৫০ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে গড়িয়েছে প্রচার-প্রচারণা। শুরু হয়েছে ভোটযুদ্ধ। ৩০০ সংসদীয় আসনের বিপরীতে এক হাজার ৮৯৫ প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন। প্রথম দিন থেকেই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রার্থীরা। দিচ্ছেন নিজ নিজ প্রতিশ্রুতি। শুরু হয়েছে পোস্টার টানানো, মাইকিং, নির্বাচনী ক্যাম্প তৈরি করাসহ নির্বাচনী প্রচারণার কর্মযজ্ঞ। কোথাও কোথাও প্রার্থীর সমর্থকদের মিছিলও করতে দেখা গেছে।

তত্ত্বাবধায়ক নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ১৬টি রাজনৈতিক দল দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন বর্জন করে রাজপথে আন্দোলনে রয়েছে। অন্যদিকে ২৭টি রাজনৈতিক দল এবারের ভোটে অংশ নিচ্ছে। গণতন্ত্রী পার্টির নেতৃত্বের বিরোধের কারণে সব প্রার্থী বাতিল করেছে ইসি। বিএনপিসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন বর্জন করায় ভোটের মাঠে উৎসবের আমেজ কিছুটা কম।

এবার শতাধিক আসনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। প্রচারণার শুরুতে কিছু জায়গায় সংঘাত-সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। দুর্গম এলাকা ছাড়া নির্বাচনে মহানগর, জেলা ও উপজেলা সদরসহ অধিকাংশ এলাকায় ভোটের দিন সকালে ব্যালট পেপার পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সেনা মোতায়েনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে চিঠি দিয়ে ইসি বলেছে, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে সেনা মোতায়েন করতে হবে। রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনে ৩০০টি নির্বাচনী এলাকায় ২৯ জানুয়ারি থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন থাকবে। সশস্ত্র বাহিনীর টিমের সঙ্গে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবে। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশনা অনুসারে এলাকাভিত্তিক ডেপ্লোয়মেন্ট প্ল্যান চূড়ান্ত করা হবে।

এ প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে। বহির্বিশ্বে নির্বাচনটা একটা ভালো গ্রহণযোগ্যতা পাক সেই প্রত্যাশা সবার মতো আমাদেরও আছে। আমাদের তরফ থেকে নির্বাচনে ফ্রি, ফেয়ার এবং পিসফুল- এ তিনটা জিনিসের ওপর খুব জোর দিয়েছি।

সিইসি আরও বলেন, যতদূর সম্ভব ভোট গ্রহণের দিন সকালে কেন্দ্রে ব্যালট বক্স পাঠানো হবে। ভোটের দিন সকালে কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পাঠানোটা অনেকেরই দাবি ছিল। সকালে কেন্দ্রে ব্যালট পেপার যাওয়ায় ভোটের স্বচ্ছতা বাড়াবে। তবে কিছু কিছু এলাকায় সকালে পাঠানো সম্ভব হবে না। যেগুলো দুর্গম-দূরবর্তী, হাওর-বাঁওড় এলাকা অথবা যেখানে জলপথে যেতে হয় সেখানে পাঠানো সম্ভব হবে না। এছাড়া দ্বীপাঞ্চলেও সম্ভব হবে না। এজন্য একটা পরিপত্র জারি করেছি ব্যালট পেপার ভোটগ্রহণের পূর্বে সকালে যাবে প্রসঙ্গে। রিমোট এলাকা হলে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৭টি রাজনৈতিক দলের ১৫১২ জন এবং স্বতন্ত্র থেকে ৩৮২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে জাতীয় পার্টি ২৬৫ জন, দ্বিতীয় স্থানে আওয়ামী লীগ ২৬৩ জন। মাঠ পর্যায় থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো তথ্য একীভূত করে ইসির তৈরি প্রাথমিক তালিকা বলছে, এবার মোট এক হাজার ৮৯৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের এক হাজার ৫১২ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছ ৩৮২ জন।

গতকাল প্রতীক বরাদ্দের পর পরই প্রচারণায় নেমেছে প্রার্থীরা। তবে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় মানতে হবে ইসির নির্দেশনা। বিশেষ করে যত্রযত্র পোস্টার, সভা-সমাবেশ করা, যখন তখন মাইক ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে নির্বাচন কমিশন এসবের লাগাম টানতে জারি করেছে বিধিনিষেধ। যেখানে দুপুর দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত মাইক ব্যবহার, প্রচারণায় হেলিকপ্টার ব্যবহার করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে।

পোস্টার বা ব্যানারে কোন রঙে ব্যবহার করা যাবে এবং এর সাইজ কত হবে তাও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে ইসি। এছাড়া কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পোস্টার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ইত্যাদির উপর অন্য কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পোস্টার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ইত্যাদি লাগানো যাবে না। এসবের কোন প্রকার ক্ষতিসাধন তথা বিকৃতি বা বিনষ্ট করাও যাবে না বলে ইসির নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

কোনো প্রার্থীর পক্ষে ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল কিংবা অন্য কোনো যানবাহন সহকারে মিছিল কিংবা মশাল মিছিল বের করা যাবে না। নির্বাচনী প্রচারণাকালে কোনো ধরনের তিক্ত, উসকানিমূলক এবং ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগে এমন কোন বক্তব্য প্রদান করা যাবে না। কোনো নাগরিকের জমি, ভবন বা অন্য কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির কোনরূপ ক্ষতিসাধন করা যাবে না।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ