প্রধানমন্ত্রী ও জয়ের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:৪৭, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী ও জয়ের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৩ ১:৫১ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৩ ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ

যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্যে বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন মুখপাত্র সেহেলী সাবরীন। বলেন, আমি এটা মনে করি না। আমরাতো মিটিং করে এলাম। আমরা আমাদের যেসব এজেন্ডা ছিল, সবকিছু সুন্দরভাবে আলোচনা করে আসছি। জাতীয় সংসদে সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আনা ১৪৭ বিধির সাধারণ প্রস্তাব ও অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমেরিকা চাইলে যেকোনো দেশের ক্ষমতা উল্টাতে-পাল্টাতে পারে। সরকার প্রধানের এমন মন্তব্যে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বঙ্গবন্ধুকন্যার যুক্তরাষ্ট্র বিষয়ক মন্তব্যের দু’দিন আগে সরকার প্রধানের তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা শেখ হাসিনা তনয় সজীব ওয়াজেদ জয় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরকে ‘ভ-দের আখড়া’- বলে মন্তব্য করেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও বাহিনীর সাত জ্যৈষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা তোলা নিয়ে ল’ ফার্ম নিয়োগের অগ্রগতি বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে। এটি একটি প্রক্রিয়া।

আমরা প্রত্যাশা করি যে রাষ্ট্র এ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তারা প্রসেসটাকে দ্রুত এগিয়ে নেবে এবং আমরা খুব দ্রুত একটা সিদ্ধান্ত পাবো। ’ল ফার্ম নিয়োগের বিষয়ে মন্ত্রণালয় এবং মার্কিন দূতাবাস কাজ করছে।
মোমেন-ব্লিনকেন বৈঠকে জিএসপি পুনর্বহালে সুনির্দিষ্টভাবে কি আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে সেহেলী সাবরীন বলেন, অন্য ইস্যুর সঙ্গে এটিও আলোচনা হয়েছে। পরবর্তীতে ইকোনমিক পার্টনারশিপ ডায়ালগে জিএসপি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল বিষয়ক পশ্চিমা সুপারিশগুলো সরকার আমলে নিচ্ছে কিনা? জানতে চাইলে মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশের আইন প্রণয়ন একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়ে থাকে এবং সংসদে আইন প্রণয়েনর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়। আমরা বিভিন্ন দেশ এবং সংস্থা থেকে ডিএস’র ব্যাপারে বিভিন্ন সুপারিশ পাচ্ছি। আমাদের আইনপ্রণেতারা যদি মনে করেন, কোনো আইনের সংশোধনী প্রয়োজন; তখনই তারা সবদিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।

নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে আরেক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, যে কোনো দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনা হলে অনেক সময় নির্বাচন ইস্যুতেও আলোচনা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্বাচন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। তারা (যুক্তরাষ্ট্র) নির্বাচন নিয়ে বলছে। আমরা বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিকে ফেরতের বিষয়টি বারবার বলে আসছি। আমরা আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থা বা পদ্ধতির বিষয়টি তাদের সঙ্গে শেয়ার করি।

তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলে আসছে-আমাদের নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। অনেক দেশ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে আলোচনা করছে।
ঢাকায় ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স মে মাসে: ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ঢাকায় দুইদিনব্যাপী ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স হবে আগামী মাসে। পররাষ্ট্রের মুখপাত্র জানান, ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আগামী ১২-১৩ই মে ঢাকায় হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে ‘ইন্ডিয়া ওশান কনফারেন্স’-এর ষষ্ঠ আসর যৌথভাবে আয়োজন করতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলন আয়োজনের ব্যাপারে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন। তিনি ১২ই মে সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন করবেন। ১২ই মে সম্মেলনের উদ্বোধনের আগে বেশ কয়েকটি প্রাক-সম্মেলন কর্মশালা হবে। আর ১৩ই মে মন্ত্রী-পর্যায়ের অধিবেশন হবে।

সেহেলী সাবরীন জানান, মরিশাসের রাষ্ট্রপতি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে ইতিমধ্যে সম্মতি দিয়েছেন। এছাড়া ভুটান, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জাপানের ভাইস মিনিস্টার সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সেক্টরের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিকভাবে স্বনামধন্য প্যানেলিস্ট, শিক্ষাবিদ, গবেষকগণ অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সম্মেলনটি মূলত ভারত মহাসাগরের উপকূলবর্তী দেশসমূহকে নিয়ে আয়োজন করা হলেও এতে পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকে। এ পর্যন্ত সর্বমোট ৫টি সম্মেলন যথাক্রমে সিঙ্গাপুর (২০১৬), শ্রীলঙ্কা (২০১৭), ভিয়েতনাম (২০১৮), মালদ্বীপ (২০১৯) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (২০২১)-এ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ষষ্ঠ আসরটি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

মুখপাত্র বলেন, আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিমন্ডলে আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব এবং পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক এবং ভূ-অর্থনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে বাংলাদেশে সম্মেলনটি আয়োজন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ৮-১০ চুক্তি-সমঝোতা সইয়ের সম্ভাবনা:
ওদিকে মুখপাত্র সেহেলী সাবরীন জানান, আগামী ২৫-২৮শে এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপানের প্রধানমন্ত্রী কিশিদা ফুমিও’র আমন্ত্রণে জাপান সফর করবেন বলে সিদ্ধান্ত রয়েছে। এ সফরকালে ৮-১০টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ