প্রধানমন্ত্রীর ক্লান্তিহীন সময়, ভিজলেন বৃষ্টিতে, মানুষের বাঁধভাঙা ঢল - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৯:১৪, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর ক্লান্তিহীন সময়, ভিজলেন বৃষ্টিতে, মানুষের বাঁধভাঙা ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, মে ৩, ২০২৬ ১:০৪ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, মে ৩, ২০২৬ ১:০৬ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
বৃষ্টিমুখর দিনে সিলেটে ক্লান্তিহীন সময় কাটালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চারটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন তিনি। এ সময় কখনো অঝোরধারায় আবার কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে ভিজে তিনি কর্মসূচিতে অংশ নেন। আর এসব কর্মসূচিতে ছিল সাধারণ মানুষের বাঁধভাঙা ঢল। এসব অনুষ্ঠানে ভাষণ দেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী বিএনপি পরিচালিত সরকারকে আড়াই মাস বয়সী শিশুর সঙ্গে তুলনা করেন। বলেন, ‘এতো অল্প সময়ের মধ্যে নির্বাচনের সময় দেয়ার পরও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। বিএনপি সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের স্বার্থে কাজ করা। এজন্য সরকার গঠনের ১০ দিনের মধ্যে ১২ লাখ কৃষকের সুদসহ ঋণের ১০ হাজার টাকা মওকুফ করা হয়েছে।

ফ্যামেলি কার্ড, কৃষি কার্ড বিতরণ শুরু করা হয়েছে।’ ভোররাত থেকেই সিলেটে অবিরাম বৃষ্টি। এই বৃষ্টির মধ্যে সকাল ১০টায় বিমানের একটি ফ্লাইটে সিলেট পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সঙ্গে তার স্ত্রী সিলেটের সন্তান ডা. জুবাইদা রহমানসহ সফরসঙ্গীরা। বৃষ্টির মধ্যে ব্যবহৃত লাল-সবুজের বাসে করে এয়ারপোর্ট থেকে হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজারে পৌঁছান তিনি। তখনো আকাশ ভেঙে বৃষ্টি ঝরছিল। যেনো সিলেটের চিয়ারত বৃষ্টিই প্রধানমন্ত্রীকে গতকাল স্বভঙ্গিতে স্বাগত জানালো। মাজার জিয়ারত করে নগরের সুরমার তীর চাঁদনিঘাটে নগররক্ষা ও সৌন্দর্যবর্ধনের ৪৬০০ কোটি টাকার কাজের উদ্বোধন করেন। বেলা ১১টায় তিনি নগর ভবন প্রাঙ্গণে সুধী সমাবেশে ভাষণ দেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় আমি যখন সিলেট এসেছিলাম তখন বলেছিলাম, সিলেট থেকে লন্ডন যেতে ৯ থেকে সাড়ে ৯ ঘণ্টা সময় লাগে। অথচ সিলেট থেকে বাই রোডে ঢাকা যেতে ১০ ঘণ্টা সময় লাগে। তাই আমি সিলেট-ঢাকা মহানসড়কের উন্নয়নের কথা বলেছিলাম। সরকার গঠনের পর আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সম্প্রসারণ কাজের জমি অধিগ্রহণে ১১টি জায়গায় সমস্যা রয়েছে। এজন্য কাজ আটকে ছিল। এই সমস্যাগুলো ইতিমধ্যে দূর করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করতে পারবো।

কাজ শেষ হতে দেরি হবে। তবে শুরু হলে তো শেষও হবে। এতে মানুষের যাতায়াতের কষ্ট লাঘব হবে। তিনি বলেন, সরকার কেবল সড়কপথ নয়, সরকার রেল যোগাযোগ বৃদ্ধির উদ্যোগও নিয়েছে। আমরা ঢাকা-সিলেট রেলপথকে ডাবল লাইন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। সিলেটে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা ২০০ শয্যার হাসপাতাল দ্রুত চালু করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ছাড়া সিলেট ওসমানী হাসপাতালকে আমরা ১২শ’ শয্যায় উন্নীতের চেষ্টা করবো। কেবল চিকিৎসা ব্যবস্থা নয়, আমাদের মতো দেশগুলোকে রোগ প্রতিরোধেও সচেতন হওয়া দরকার। এজন্য আমরা ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করবো। যাদের ৮০ ভাগ হবেন নারী। এই স্বাস্থ্যকর্মীরা গ্রামে গ্রামে মানুষের বাড়িতে গিয়ে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতন করবেন। কোন খাবার বেশি খেলে কোন রোগ হয় এসব ব্যাপারে অবগত করবেন। বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এগুলো চালু করার উদ্যোগ নিয়েছি। দরকার হলে প্রাইভেট খাতে ছেড়ে দিয়ে চালু করতে চাই। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টেরও চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, সিলেটে একটি আইটি পার্ক আছে। কিন্তু এটি সচল নেই। আমরা এটি দ্রুত সচল করার চেষ্টা করছি। যাতে তরুণরা এখানে কাজের সুযোগ পায়।

ভোকেশনাল সেন্টারগুলো আপডেট করারও উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নগরের জলাবদ্ধতা সমস্যা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এয়ারপোর্ট থেকে আসার সময় দেখছিলাম, বৃষ্টির কারণে পানি জমে গেছে। বৃষ্টির কারণে সুনামগঞ্জের অনেক কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ছাড়া সব নগরেই ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এটি ধীরে ধীরে ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এজন্য আমরা খাল খনন কর্মসূচি নিয়েছি। তাতে বৃষ্টির পানি আমরা ব্যবহার করতে পারবো। জলাবদ্ধতাও নিরসন হবে। সিলেটের সুরমাসহ বাংলাদেশের নদ-নদীর অবস্থা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নদীতে প্লাস্টিকের স্তর জমে পানি বিষাক্ত হয়ে গেছে। এই বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে। সিটি করপোরেশন এলাকায় স্কুলগুলোতে উদ্যোগ নিয়ে শিশুদের পরিবেশের বিষয়ে সচেতন করে তুলতে হবে। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধানসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, হুইপ জিকে গউছ ও সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার। দুপুরে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনাথ ও সদর উপজেলার মধ্যবর্তী স্থল বাসিয়া নদীর পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী সরকার গঠনের ৫-৭ দিনের মধ্যে আপনাদের সন্তান মুক্তাদিরকে নিয়ে আমি বসেছিলাম। তাকে বলেছিলাম, কোথায় কোথায় বন্ধ কলকারখানা আছে তা বের করেন, বন্ধের কারণ বের করেন। এবং সবগুলো আমরা ধীরে ধীরে চালু করবো। যাতে করে আমাদের দেশের বেকার মানুষদের কর্মসংস্থান হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ভেতরে যারা শিল্পোদ্যোক্তা আছেন, তাদের নিয়ে আমরা বসেছি। যাতে তারা নতুন নতুন কারখানা তৈরি করতে পারেন। এতে আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা চাকরি পাবেন। শুধু তাই না, যেসব দেশের শ্রমবাজার বন্ধ আছে সেগুলোও আমরা চালু করার ব্যবস্থা করছি। দ্রুতই সেসব দেশে মানুষ যাওয়া আবার শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, সারা দেশে খাল খনন কার্যক্রম শুরু করবো। আমরা শুরু করেছি।

আজ এই বাসিয়া খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলাম। এই খাল খনন শেষে দুই পাড়ে আমরা ৫০ হাজার গাছ লাগাবো। সেখানে স্থানীয়রা প্রকৃতির সান্নিধ্য পাবেন। আমরা ফলজগাছও লাগাবো। তিনি বলেন, বাসিয়া পুনঃখনন শেষ হলে সরাসরি ৮০ হাজার কৃষক উপকৃত হবে। আর পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে আরও অন্তত দেড় লাখ মানুষ। এতে বছরে আরও ৭ হাজার টন অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে। আমরা দেশের ৬০ জেলায় খাল খনন শুরু করেছি। এ অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সিলেট-২ আসনের এমপি তাহসিনা রুশদী লুনা, সিলেট-৩ আসনের এমপি এমএ মালিকসহ বিএনপি নেতৃৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিকালে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ির উদ্বোধনের পর নগরের শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা ও নগর বিএনপি’র নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রী দলীয় নেতাকর্মীদের জনগণের কাছাকাছি থেকে কাজ করার আহ্বান জানান। বলেন, বিগত সরকারের শেষ সময়ে আপনারা দেখেছেন মন্ত্রী, এমপি দেখলে মানুষের মধ্যে আগ্রহের সৃষ্টি হতো না। কিন্তু এখন বিএনপি নেতাদের দেখলে মানুষ কাছে আসে। সুখ, দুঃখের কথা বলে। বিএনপি’র প্রতি মানুষের আস্থা রয়েছে বলে মানুষ কাছে আসে। তিনি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মানুষের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার তার প্রতিশ্রুতি মতো কাজ শুরু করেছে। সুতরাং সরকারের উন্নয়ন যাতে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া হয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। এ অনুষ্ঠানে জেলা ও নগর বিএনপি’র নেতারা বক্তব্য রাখেন।

সুরমা নদী দেখলেন প্রধানমন্ত্রী: সিলেট সফরকালে তীরে দাঁড়িয়ে সুরমা নদীর সৌন্দর্য দেখলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের স্থল এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যে উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী সুরমা নদী দেখতে পারেন। এ সময় স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও তার সঙ্গে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী যে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেছেন সেটি সুরমা নদীকে ঘিরেই। তার এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সুরমার চিত্র পাল্টে যাবে বলে জানিয়েছেন নগর সংশ্লিষ্টরা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ