প্রস্তাবিত বাজেট দুর্নীতিবান্ধব : খেলাফত মজলিস - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:৩৯, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

প্রস্তাবিত বাজেট দুর্নীতিবান্ধব : খেলাফত মজলিস

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, জুন ৮, ২০২৪ ১০:১৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, জুন ৮, ২০২৪ ১০:১৫ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক

খেলাফত মজলিস আয়োজিত বাজেট পর্যালোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটকে জনবান্ধব বলার সুযোগ নেই বরং দুর্নীতিবান্ধব বলা যায়। প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেশে ঘুষ-দুর্নীতিকে উৎসাহিত করবে। অন্যদিকে সাধারণ জনগণের মাথার ওপর ঋণ ও করের বোঝা বাড়ানো হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, এখন বাজেট মানেই জনগণের উপর নতুন নতুন কর আর রাষ্ট্রের ঋণের বোঝা বৃদ্ধি। প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ জনগণের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হবে না। প্রস্তাবিত বাজেটের মাধ্যমে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। দেশের বাজেট ও অর্থনীতিকে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকের খবরদারি ও অলিগার্কদের প্রভাব মুক্ত রাখতে হবে। ঋণখেলাপি, কর ফাঁকি ও অর্থ পাচার রোধ করতে হবে।

শনিবার (৮ জুন) বিকেলে পল্টনস্থ মজলিস মিলনায়তনে খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর আহমদ আলী কাসেমীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মো. আবদুল জলিলের পরিচালনায় জাতীয় বাজেট পর্যালোচনা বৈঠক হয়।

এতে আলোচনা করেন সাবেক যুগ্ম সচিব নূরুল আলম, ব্যাংকার আবু সালেহীন, মো. জিল্লুর রহমান, মাওলানা আজীজুল হক, অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শায়খুল ইসলাম, মো. গিয়াস উদ্দিন, সৈয়দ মুহাম্মদ সানা উল্লাহ, ড. আনিসুর রহমান শিপলু, সেলিম হোসাইন, রাশেদুল ইসলাম, এইচএম এরশাদ, জামিরুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মতিউর রহমান, মাওলানা আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রস্তাবিত বাজেট দুর্নীতিবান্ধব : খেলাফত মজলিস
‘কালো টাকা’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ‘ধূম্রজাল সৃষ্টির কৌশল’ : মির্জা ফখরুল
আলোচকরা বলেন, ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত এ বাজেটে ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল অংকের ঘাটতি রয়েছে। এ ঘাটতি মেটাতে দেশ-বিদেশ থেকে চড়া সূদে ঋণ নিতে হবে সরকারকে। বিশেষ করে দেশীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সরকার ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ঋণ নিবে। এতে বেসরকারি ও ব্যক্তিগত খাতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়া হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা। বাজেট ব্যয়ের বিশাল অংশ খরচ হবে ঋণের সুদ পরিশোধে অর্থাৎ ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা যা বাজেট ব্যয়ের ২২ শতাংশ। বাজেট ব্যয়ের বৃহত্তম খাত হচ্ছে সুদ পরিশোধ। পরিচালন ব্যয় ও সুদ পরিশোধের মতো অনুন্নয়ন খাতেই ব্যয় হবে বাজেটের অধিকাংশ অর্থ। আর প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রাও বাস্তবসম্মত নয়। এ কথায় প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় ঋণের বোঝা বৃদ্ধির বাজেট।

তারা বলেন, মুদ্রাস্ফীতির ফলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা। প্রস্তাবিত এ বাজেট দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে কোনো ভূমিকা রাখবে না, বরং নতুন করে বহু জিনিসপত্রের দাম আরেক দফা বাড়বে। বাজেটে মোবাইল ফোনে কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারে সম্পূরক শুল্ক ৫ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। একজন ভোক্তা ১০০ টাকা রিচার্জ করলে মাত্র ৬৮ টাকার কথা বলতে পারবে। এতে করে দেশের সর্বস্তরের মানুষের পকেট কাটার একটা ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আলোচকেরা আরও বলেন, ঋণনির্ভর বাজেটের কারণে জনগণের ওপর জাতীয় ঋণের বোঝা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েই চলছে। এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভয়াবহ সংকটের নিপতিত হতে বাধ্য। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ তলানিতে গিয়ে ঠেকার উপক্রম হয়েছে। দেশের প্রবৃদ্ধি ক্রমশ কমে যাচ্ছে। সামনে দেশকে বড় ধরনের ঘাটতি মোকাবিলা করতে হবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাজেটে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। মূল্যস্ফীতির অস্বাভাবিক সংকট কীভাবে সামলানো হবে, তার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা বাজেটে নেই। এতে জনগণকে মূল্যস্ফীতির আরও বড় ধরনের চাপে পড়তে হতে পারে। ধারাবাহিক মুদ্রাস্ফীতি সত্ত্বেও করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হয়নি। গরিবের পকেট কেটে কর বের করার বাজেট কখনো জনবান্ধব হতে পারে না।

বৈঠকে দেশের বাজেট ও অর্থনীতিকে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকের খবরদারি ও অলিগার্কদের প্রভাব মুক্ত রাখা, ঋণখেলাপি, কর ফাঁকি ও অর্থ পাচার রোধ করার আলোচনা হয়। ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ, বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরৎ আনা, মূল্যস্ফীতি রোধ ও প্রস্তাবিত বাজেটে আরোপিত মোবাইলে কথা বলার উপরসহ সব ধরনের বর্ধিত কর প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ