ফরিদপুরে বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১ - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৪:৩৭, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ফরিদপুরে বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২২, ২০২৪ ৩:৪৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২২, ২০২৪ ৩:৪৫ অপরাহ্ণ

 

নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) শামা ওবায়েদ ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে ঝরেছে এক কর্মীর প্রাণ। গতকাল বাবুলের পথসভাকে কেন্দ্র করে দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। বাবুলের সমর্থকদের অভিযোগ, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের সমর্থকরা এ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। গতকাল বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এলাকায় বর্তমানে উত্তেজনা বিরাজ করছে। শামা ওবায়েদের সমর্থকেরা নগরকান্দা বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছেন। এ সময় নগরকান্দা বাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

শামা ওবায়েদ নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের লস্করদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। শহীদুল ইসলাম নগরকান্দার তালমা ইউনিয়নের কোনাগ্রামের বাসিন্দা। নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা নিয়ে ফরিদপুর-২ আসন গঠিত। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে এ দুই নেতার মধ্যে আগে থেকেই দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।

এ ঘটনায় তা প্রকাশ্য রূপ নিল। নিহত ব্যক্তির নাম কবির ভূঁইয়া (৫০)। তিনি নগরকান্দা পৌরসভার ছাগলদী মহল্লার বাসিন্দা বশিরউদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে।
বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল একটি মোটর শোভাযাত্রা নিয়ে ভাঙ্গা গোলচত্বর থেকে নগরকান্দার জয় বাংলা মোড় যান। নগরকান্দা বাজারে ও তালমার মোড়ে একটি পথসভা করে ফরিদপুর শহরে জনসভা করতে যাওয়ার কথা ছিল তাঁদের। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত দুইটার দিকে শহীদুলকে স্বাগত জানিয়ে নগরকান্দা উপজেলা সদরে তাঁর সমর্থকদের বানানো দুটি তোরণ ভেঙে ফেলেন শামা ওবায়েদের সমর্থকরা। শহীদুলের সমর্থক নগরকান্দা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর মাতুব্বরকে ধাওয়া দেন শামা ওবায়েদের সমর্থকরা। এ নিয়ে রাত থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সকালে নগরকান্দা বেইলি সেতুর বাজারের দিকে শহীদুলের সমর্থকেরা আর জুঙ্গুরদী বাসস্ট্যান্ডের কাছে শামা ওবায়েদের লোকজন অবস্থান নেন। সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে শহীদুল ইসলামের কয়েকজন সমর্থক আহত হন। পরে শামার লোকজন শহীদুলের সমর্থক নগরকান্দা বাজারের লঞ্চঘাটা এলাকায় অবস্থিত জাকির হোসেনের চাল ও গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান ভাঙচুর করেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহীদুল ইসলামের সমর্থক ছাগলদী এলাকার কবির ভূঁইয়া একটি ভ্যানে করে শহীদুলের জনসভায় যোগ দেওয়ার জন্য নগরকান্দা বাজারের দিকে আসছিলেন। ভ্যানটি ছাগলদী সেতুর ঢালে পৌঁছালে প্রতিপক্ষরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এলাকাবাসী উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মৃত্যু হয় কবিরের।

এ বিষয়ে শহীদুল ইসলাম বাবুল বলেন, আমি নগরকান্দায় উড়ে আসিনি। আন্দোলন-সংগ্রাম করে নেতা হয়েছি। বিএনপির মধ্যে আওয়ামী লীগ ঢুকে গেছে। তারাই দলের মধ্যে এ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। আমি নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করি। কেউ অশান্তি করলে তার দাঁতভাঙা জবাব কীভাবে দিতে হয়, তা জানে শহীদুল ইসলাম। আমি জনগণের জন্য দল করি। এমন কোনো শক্তি নেই আমাকে আমার পথ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে। কোনো ষড়যন্ত্রের পরোয়া করি না। রাজনীতি করলে সুন্দরভাবে শান্তির সাথে করুন। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবেন না।

অন্যদিকে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বর্তমান সময় উৎসবের সময় নয়। এ সময় গেট বানিয়ে বহিরাগতদের নিয়ে মহড়া দেওয়ার সুযোগ নেই। যারা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে নির্যাতন-নিষ্পেষণের শিকার হয়েছে, নগরকান্দার বিভিন্ন গ্রামের লোকজন, তারা এ বিষয়টি ভালো চোখে দেখেনি। এ কারণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি শুনেছি, এ ঘটনায় একজন নিহত হয়েছে। এ মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়টি আমি অবশ্যই দেখব। তবে আমাদের দলের নির্দেশ আছে, বহিরাগত কাউকে দলে নেওয়া যাবে না। সে ক্ষেত্রে আমরা যেন এসব না করি।’

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুর রহমান জানান, কৃষক দলের নেতা শহীদুল সভা করতে চাইলে বাধা দেন বিএনপির শামা ওবায়েদের লোকজন। এ নিয়ে দুই পক্ষ সকাল থেকে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে একজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের সংখ্যা জানা যায়নি। তাঁরা মাইকিং করে দুই পক্ষকে সরিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে।

শামা ওবায়েদ ও বাবুলের পদ স্থগিত
এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের দলের সমস্ত পদ স্থগিত করা হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত চিঠি দিয়ে তাদের পদ স্থগিতের বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়। বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। পদ স্থগিতের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি মানবজমিনের কাছে স্বীকার করেছেন শহীদুল ইসলাম বাবুল।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ