ফিরছে কি ভোটের দিন : মারুফ কামাল খান - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১:২৩, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ফিরছে কি ভোটের দিন : মারুফ কামাল খান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, জানুয়ারি ১, ২০২৫ ২:০১ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, জানুয়ারি ১, ২০২৫ ২:০১ পূর্বাহ্ণ

 

ভোট দিবো কাকে?/ আলা মিঞা খাঁ-কে।/ ভোট দিবো কোনখানে?/ তালা মার্কার মাঝখানে।/ মা-বোনদের বলে যাই/ তালা মার্কায় ভোট চাই’ এসব বিচিত্র কথায় মিলিতকণ্ঠে সুর ছন্দে স্পন্দিত স্লোগান শুনলেই বুঝে যেতাম, ভোটের মৌসুম এসে গেছে। আমার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে গ্রামে, দাদাবাড়িতে। তখন থেকেই দেখতাম, সচরাচর শীতকালে ভোট হতো। আমার এক চাচা, আব্বার চাচাতো ভাই ছিলেন ভোটপাগল। নির্বাচন এলেই ইউনিয়ন কাউন্সিলের ‘চেয়ারম্যান’ পদে দাঁড়িয়ে যেতেন। তিনি কখনো জিততে পারেননি। সব সময়েই রানার্সআপ কিংবা থার্ড হতেন। তবে তাতে তার বিপুল উৎসাহে ভাটা পড়তে দেখিনি কখনো। ভোটে দাঁড়াবার ব্যাপারে তার অধ্যবসায় ছিল রাজ্যহারা স্কটিশ রাজা রবার্ট ব্রুসের মতো। তবে রাজা ব্রুস গিরিগুহায় এক মাকড়সাকে পৌনঃপুনিক চেষ্টায় অবশেষে গুহার গা বেয়ে উঠে জাল বুনতে সক্ষম হতে দেখে শিক্ষা নিয়েছিলেন ‘একবার না পারিলে দেখো শতবার।’ সেই শিক্ষা তাকেও সপ্তমবারের চেষ্টায় যুদ্ধে জয়ী করেছিল। ফিরে পেয়েছিলেন তার হারানো রাজ্যপাট। আমার চাচা তার অধ্যবসায় দিয়ে শেষ পর্যন্ত সাফল্যকে ছুঁতে পারেননি। আমার আরেক চাচা, আব্বার ফুপাতো ভাই ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েই জিতে যান। তখন তিনি সদ্য ছাত্রত্ব শেষ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি হিসেবে। আরও অনেক পরে আমার ছোট ভাইও একবার ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন করে জিতে যায়। আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের অনেকেই ভোট ভোট করলেও আমার ভোটে লড়বার দিকে আগ্রহ ছিল না কখনো। অনেকের চাপে দুবার ভোটে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছি। একবার হাইস্কুলের জেনারেল ক্যাপ্টেন হয়েছিলাম। আরেকবার সাংবাদিক ইউনিয়নে দাঁড়িয়ে জিতেছিলাম। ব্যস, ওই পর্যন্তই। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে বিএনপির নেতৃত্বের পর্যায় থেকে দুদফায় সিগন্যাল দেওয়া হলেও আমার সাহসে কুলায়নি। তবে অন্যদের জন্য ভোটের ক্যানভাস আমি করেছি অনেক। পরিণত বয়সে জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচনের প্রচার পরিকল্পনায় ভূমিকা রেখেছি। প্রচার ম্যাটেরিয়াল ও কনটেন্ট তৈরির কাজও করেছি। ২০০১ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বেতার-টিভিতে দেওয়া ভাষণ আমিই লিখেছিলাম। সম্পাদনা ও ফাইন টিউনিংয়ের কাজটা করেছিলেন শফিক রেহমান। কাজেই নিজে প্রার্থী না হলেও নির্বাচন, ভোট ও ক্যাম্পেইনে আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা একেবারে কম নয়।

এই তল্লাটে ভোট আসে ব্রিটিশ শাসনামলে। জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতিভূদের বেছে নিতেই চালু করা হয় নির্বাচন ব্যবস্থা। ব্রিটিশ শাসনের অন্তিম মুহূর্তে নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতেই উপমহাদেশকে পাকিস্তান ও ভারত এই দুটি রাষ্ট্রে বিভাজনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়। তবে শুরু থেকেই এই ভোটাধিকার সর্বজনীন ছিল না। ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে অর্জিত হয় সর্বজনীন ভোটাধিকার। পাকিস্তান আমলে গণতান্ত্রিক নির্বাচন পদ্ধতির ফলাফলকে মান্যতা না দেওয়ার রীতি চালু হয়। এই ধারা অবশেষে সামরিক শাসনের দিকে নিয়ে যায়। ফিল্ড মার্শাল আইউব খান ‘বেসিক ডেমোক্রেসি’ নামে এক শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। এই ব্যবস্থাকে বাংলায় ‘বুনিয়াদি গণতন্ত্র’ বা ‘মৌলিক গণতন্ত্র’ বলা হতো। এই পদ্ধতিতে ইউনিয়ন কাউন্সিলের মেম্বারদের কেবল জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করত। তাদের বলা হতো, বিডি বা বেসিক ডেমোক্রেসি মেম্বার। এরা ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান, জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য, এমনকি রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত নির্বাচিত করতেন। আইউব খান নিজেকে তাদের ভোটে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বলে ঘোষণা করেছিলেন। এদের সংখ্যা ছিল আশি হাজার। এই ৮০ হাজার বিডির সমন্বয়ে গঠন করা হয়, ইলেকটোরাল কলেজ বা নির্বাচকমণ্ডলী। নিন্দুকেরা এই ৮০ হাজার বিডিকে ৮০ হাজার ফেরেশতা বলে ডাকতেন। ১৯৬৫ সালে আইউব খান পাকিস্তানে সদর-ই-মামলুকাত বা প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন দেন। ওই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রায় সব বিরোধী দল একত্রিত হয়ে পাকিস্তানের কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নার বোন ফাতেমা জিন্নাহকে আইউবের বিরুদ্ধে প্রার্থী ঘোষণা করে। প্রমাদ গোনেন আইউব। যা হোক, শেষ পর্যন্ত তিনি জিতে যান। সার্কেল অফিসার, এসডিও ও ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবরা প্রতিজন বিডিকে প্রেসিডেন্ট আইউবের তোহ্ফা হিসেবে বিনে পয়সায় একটি করে এক ব্যান্ডের ট্রানজিস্টর ধরিয়ে দেন। শুধু তাই নয়, ভোটের আগে তাদের প্রত্যেককে ‘হাত খরচা’র জন্য একটি করে জিন্নাহর ফটোঅলা পাঁচশ টাকার নোটও দেওয়া হয়। সেই নোটটি নাকি সবাইকে নিতে হয়েছিল কোরআন শরিফের ওপর থেকে। ব্যস, কেল্লা ফতেহ।

পাকিস্তানে ঊনসত্তরের ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে আইউবের পতনের পর তার বুনিয়াদি গণতন্ত্র ও বিডি মডেলের নির্বাচন প্রথাও ইন্তেকাল করে। জেনারেল ইয়াহিয়ার সামরিক সরকার সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন দেন। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হলে পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগ ও পশ্চিম পাকিস্তানে পিপলস পার্টির বিজয়ই নিশ্চিত ছিল। কিন্তু উভয় প্রান্তে এই দুই দলের সমর্থকরা নির্বাচনটিকে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভরার উৎসবে পরিণত করে। আমরা তখনো ভোটার না হলেও ভোট দেখতে দল বেঁধে কেন্দ্রে গিয়েছিলাম। মজার ব্যাপার হলো, আমাদের খুশি করতে প্রত্যেককে একাধিক ভোট কাস্ট করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এই নির্বাচনের ফলাফল বাস্তবায়নের অনীহা থেকে পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র জনগণের ওপর সামরিক হামলা চালানো হয়। এই বর্বরতা আমাদের জনগণকে ঠেলে দিয়েছিল স্বাধীনতার যুদ্ধে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে যখন বিরোধী দল অতি দুর্বল তখনো ১৯৭৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হতে দেয়নি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। পরবর্তীকালে এর মাশুল ক্ষমতাবহির্ভূত আওয়ামী লীগকে দিতে হয়েছে। জেনারেল এরশাদের শাসনামলে হোন্ডা, গুণ্ডা, ডান্ডায় নির্বাচন ঠান্ডা করার সন্ত্রাসী রীতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম সম্পূর্ণ সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯১ সালে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ সরকারের তদারকিতে। এই নজির জাতীয় নির্বাচনের সময় নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের রাজনৈতিক দাবির জন্ম দেয়। অনেক হানাহানির পর এর পক্ষে ঐকমত্য গড়ে ওঠে এবং এই পদ্ধতি প্রবর্তিত হয়। শুদ্ধ ভোটার তালিকা, ভোটার আইডি এবং স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের দাবিও পূরণ হয়। তারপরও নির্বাচনকালীন সরকারের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার দ্বন্দ্ব এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়। আসে ফখর-মঈনের ছদ্মবেশী সেনাপতি-শাসন। তাদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে এক নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনে শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেওয়া হয় দেশের শাসনভার। হাসিনা দেশে হত্যাযজ্ঞ, অত্যাচার, গুম, লুটতরাজ, দখল, দলীয়করণ ও বিচারহীনতার এক ফ্যাসিবাদী রেজিম কায়েম করেন। গণতন্ত্রের নামনিশানা মুছে দেওয়া হয়। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা তুলে দেন। নির্বাচনের নামে প্রহসন মঞ্চস্থ করে তার শাসনকে প্রায় সাড়ে পনেরো বছর পর্যন্ত প্রলম্বিত করতে সক্ষম হন। অবশেষে ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে গত আগস্টের পাঁচ তারিখে হাসিনার পতন ঘটে। ক্ষমতা হারিয়ে তিনি ভারতে পালিয়ে যান এবং এখনো সে দেশেই আশ্রিত আছেন। বর্তমানে নোবেল লরিয়েট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বে আছেন। তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সংস্কার করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এই সংস্কারের আওতা ও পরিধি নিয়ে এখনো সব পক্ষের মধ্যে পুরোপুরি মতৈক্য স্থাপিত হয়নি। অবশ্য ড. ইউনূস এ ব্যাপারে তার নেতৃত্বে একটি ঐকমত্য সংস্থা গঠনেরও অঙ্গীকার করেছেন। তিনি নির্বাচনের সময়সূচি সম্পর্কে একটা ধারণা দিয়েছেন। তাতে আগামী খ্রিস্টীয় বর্ষ ২০২৫ নির্বাচনের বছর হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে হাইকোর্ট নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তনের পক্ষে রায় দেওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ভোটের আগে আর খুব একটা সংস্কার প্রয়োজন নেই বলে মনে করছে। তারা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বেরও বিরোধী। বিএনপি মনে করে, সংস্কারের ম্যান্ডেট নেই বর্তমান সরকারের। তাই নির্বাচিত সরকার এসে সংস্কার করবে। এই মতদ্বৈধতার নিরসন কীভাবে হবে তা দেখার জন্য আমাদের কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনে জনমতের সঠিক প্রতিফলন ঘটে না। কাজেই ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন প্রকৃতপক্ষে কোনো নির্বাচনই নয়। ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনে নির্বাচিত বলে ঘোষিতরা আদপে জনপ্রতিনিধি নন এবং তাদের সমন্বয়ে গঠিত সরকার মোটেও গণতান্ত্রিক সরকার নয়। আমাদের তাই ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনের পথ বন্ধ করতে হবে। নির্বাচন নিয়ে কয়েক বছর পরপর যে দাঙ্গা-হাঙ্গামা হয় সেটাও চিরতরে বন্ধ করতে হবে। ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচনের স্থায়ী পদ্ধতি উদ্ভাবন করতে হবে। পুলিশ, সিভিল প্রশাসন, জুডিশিয়ারিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নির্বাচনকালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাদের কাঠামো, বিন্যাস ও বিধি বহাল রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কিনা সে প্রশ্নেরও সুরাহা করতে হবে। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও নির্বাচন, সংসদের অপর কক্ষ, প্রধানমন্ত্রীর টার্ম, সংসদের মেয়াদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও উপপ্রধানমন্ত্রীর পদসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার ভোটের আগে নাকি পরে হবে, সেটাও নির্ধারণ করতে হবে। হাসিনা রেজিমের অপসারণে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা ও বর্তমান সরকারের গঠনের সাংবিধানিক বৈধতা ভোটের আগে নিশ্চিত করা হবে নাকি নির্বাচিত সরকারের হাতে ছেড়ে দিয়ে যাবে তাও ঠিক করতে হবে। অর্থাৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়া পুরোপুরি শুরুর আগে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতা ও ঐকমত্য স্থাপন করতেই হবে। এ দেশে নির্বাচন বরাবরই একটি উৎসব। মানুষ অনেক দিন সে উৎসব থেকে বঞ্চিত। গত তিনটি নির্বাচনে যারা প্রথম ভোটার হয়েছে, তারা কেউ ভোটই দিতে পারেনি। তারা ভোট দিতে পারবে এবং উৎসবে মেতে উঠবে সারা দেশ। প্রচার মিছিল হবে, স্লোগান হবে, প্রার্থীদের প্রচার ও বিতর্ক সভা হবে, দল-জোটগুলো নির্বাচনী ইশতেহার দেবে, পোস্টার লাগবে দেয়ালে ও গাছে গাছে, বিলি হবে কোটি কোটি হ্যান্ডবিল, বাজবে ভোটের গান, প্রার্থীদের বাড়িতে ও তাদের ইলেকশন ক্যাম্পে উচ্চৈঃস্বরে মাইক বাজবে, বিরাট ডেকচিতে ফুটবে চায়ের পানি, দলে দলে লোক ফুঁ দিয়ে চুমুক দেবে ধুমায়িত চায়ের কাপে, বিতরণ হবে বিড়ি ও সস্তা সিগারেট। যারা প্রার্থীর সঙ্গে ক্যানভাসে যাবে তাদের জন্য থাকবে খাবারের আয়োজন, শহর-বন্দর-গঞ্জ-বাজারের রেস্তোরাঁ ও চা-খানাগুলো ভিড়ে থাকবে টইটম্বুর। তারপর আসবে ভোটের দিন। ভোটার সিøপ দেওয়া থেকে শুরু করে ভোটার আনা-নেওয়া ও ভোটদান নিশ্চিত করা পর্যন্ত নিবিড় তদারকি চলবে। সব শেষে গণনাপর্ব এবং সব উত্তেজনার অবসান।

ভোট এবং নির্বাচনী উৎসবের চিরচেনা চিত্র আবার ফিরে আসবে। কিন্তু কত দিন তা টেকসই থাকবে তার উত্তর নির্ভর করবে সংস্কারের ওপর। কেবল রাষ্ট্র, সংবিধান ও নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার নয়। রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলগুলোর কতটা সংস্কার হবে, তার ওপরও নির্ভর করছে অনেক কিছু। অতীতে অনেক আন্দোলন ও ত্যাগে সুষ্ঠু নির্বাচন ও ভোট দেওয়ার অধিকার আমরা ফিরিয়েছি, কিন্তু তা টেকসই হয়নি। নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাও শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নে মতৈক্য ধরে রাখতে পারেনি। সেই পুরনো সিস্টেমটুকু ফিরে পেলেই কি আমরা সব পেয়েছির দেশে পৌঁছাতে পারব? আজ দেশে যে পরিস্থিতি তা হয়তো কিছু রাজনৈতিক দলের জন্য অনুকূল। কিন্তু এই পরিস্থিতি বদলালে সমীকরণও তো বদলে যাবে। তখন কি আবার আন্দোলন, আবারও রক্তক্ষয়ের পুনরাবৃত্তি দেখতে হবে? শুধু এক দিনের গণতন্ত্র, কেবল ভোট দিতে পারার অধিকার তো আমাদের এক সময় ছিলই। দেশে এত কিছু ঘটে গেল কি শুধু পেছনের সেই সময়টায় ফিরে যেতে?

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও লেখক

mrfshl@gmail.com

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ