ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন নিয়ে আবার সংশয়!
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৫ ২:২৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৫ ২:২৮ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেছেন, আমাদের রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এবং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন নির্বাচন। নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে কিনা তা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। যদিও সরকার, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে করার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিচ্ছে তারপরও সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা সন্দেহ, একটা অনাস্থা রয়ে গেছে। নির্বাচনটা কি আসলেই ফেব্রুয়ারিতেই হবে? এ নিয়ে আবার সংশয় দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে তিনি এ সংশয় প্রকাশ করেন।
মাসুদ কামাল বলেন, ড. ইউনূস ঘোষণা দিয়েছেন, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে। তিনি নিজে এ কথা বলেছেন এবং তার দপ্তর থেকে নির্বাচন কমিশনকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। কমিশন এরপর রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে।
তবু মানুষের মধ্যে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। আগে তারা শুধু অনুভব করত কিন্তু এখন কিছু ঘটনা ঘটছে যা সেই সন্দেহকে আরো দৃঢ় করছে। সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো—কয়েকটি রাজনৈতিক দল,যেমন জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও খেলাফত মজলিস, যৌথভাবে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে। তারা পাঁচ দফা দাবি নিয়ে রাস্তায় নামছে।
১৮সেপ্টেম্বর ঢাকায়, ১৯ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় শহরে আর ২৬ সেপ্টেম্বর জেলা-উপজেলায় বিক্ষোভ করবে তারা। তাদের মূল দাবি—জাতীয় নির্বাচন পিআর পদ্ধতিতে করতে হবে। জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন জাতীয় নির্বাচনেই পিআর চায়, আর খেলাফত মজলিস শুধু উচ্চকক্ষে পিআর চায়। তাদের আরো কিছু দাবি হলো—সব দলের জন্য সমান পরিবেশ নিশ্চিত করা,ফ্যাসিস্ট শাসনের সময়কার জুলুম-নির্যাতনের বিচার,দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা,জাতীয় পার্টিকে ‘সৈরাচারের দোসর’ হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা।এই দাবিগুলো নিয়ে তারা মাঠে নেমেছে, যা নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, দাবিগুলোর মধ্যে বেশ কিছুতে সবাই একমত হলেও বিএনপির সঙ্গে দুটি বিষয়ে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে—একটি হলো পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন এবং অন্যটি জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করা। এই দুটি দাবির ওপরই মূল বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে বলে আমার ধারণা। পাঁচ দফা বলা হলেওআসলে এই দুই দফাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর। জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস এবং এনসিপিও একমত। কিন্তু বিএনপির অবস্থান আলাদা। তারা বলে, কোনো রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনের বাইরে রাখা উচিত নয়। যদি জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করা হয় তাহলে বিএনপি বিপাকে পড়বে। কারণ এতে জামায়াত সুবিধা পেতে পারে—একদিকে ভোটের বাজারে, আরেকদিকে রাজনৈতিক দরকষাকষিতে।
মাসুদ কামাল মনে করেন, যদি আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি নির্বাচনে না থাকে। তখন যদি জামায়াত বলে, “পিআর না হলে আমরা নির্বাচনে যাব না”, তাহলে বিএনপির জন্য পরিস্থিতি জটিল হয়ে যাবে। একা তো তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।এই কারণেই বিএনপি চায় জাতীয় পার্টি নির্বাচনে থাকুক—যাতে ভারসাম্য বজায় থাকে এবং জামায়াতকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এই হিসাব-নিকাশগুলো সামনে আরও স্পষ্ট হবে বলে আমি মনে করি। এছাড়া, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফতের সঙ্গে আরো কিছু ছোট দল যুক্ত হতে পারে। তখন রাজনৈতিক মেরুকরণ আরো তীব্র হবে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের অবস্থান কী হবে? তারা কাদের দাবির প্রতি সাড়া দেবে? এটা নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। এবং এই জটিলতা নিরসনে সময় লাগবে।
তিনি বলেন, আরেকটি বড় ঝামেলা পাঁচ দফার মধ্যে আছে—জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন চাওয়া। জুলাই সনদে সংবিধান সংস্কারসহ বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। এই সনদের আলোকে নির্বাচন করতে হলে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন পড়বে। কিন্তু বিএনপি বলছে, নতুন সরকার আসার পর সংবিধানে পরিবর্তন হবে কি না, সেটা তারা পরে বিবেচনা করবে। এই দাবি নিয়ে এনসিপিও বেশ সোচ্চার। ফলে এই বিরোধগুলো নির্বাচনের আগে না মেটালে, নির্বাচন আদৌ ফেব্রুয়ারিতে হবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ থেকেই যায়।
জনতার আওয়াজ/আ আ