বরিশালে মিন্নির মতো স্বামীকে হত্যার চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৩ - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:৫৫, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বরিশালে মিন্নির মতো স্বামীকে হত্যার চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৩ ৯:৪৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৩ ৯:৪৯ অপরাহ্ণ

 

প্রেমিক ও বন্ধুর সহায়তা স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যে চেতনা নাশক খাইয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন স্ত্রী। ঘটনাচক্রে স্বামীকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতলে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার সাত দিনের পর হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও ভিকটিমের স্ত্রী রাবেয়া আক্তার মুসকান, তাঁর প্রেমিক আবু সাইদ সিয়াম (২০) ও বন্ধু জিহাদ হাসান রাজন (১৭)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (০১ ফেব্রয়ারি) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বরিশালের পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে সিয়ামের আদি বাড়ি গৌরনদী ও রাজনের আদি বাড়ি জামালপুরে হলেও তাঁরা গাজীপুরের টঙ্গীর দত্তপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন।

লিখিত বক্তব্যে পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গত ২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে গৌরনদী মডেল থানাধীন কালনা এলাকায় রাস্তার ওপর সৌরভ বেপারী নামে এক যুবককে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। যাকে পরবর্তীতে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়।’

এ বিষয়টি জানতে পেরে গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম আল বেরুনী, গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফজাল হোসেন, পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও হামলাকারীদের সনাক্তের কাজ শুরু করে।

পুলিশ সুপার জানান, তদন্তের শুরুতেই বিভিন্ন তথ্য ও সন্দেহজনক আচরণ পরিলক্ষিত হওয়ায় ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী ভিকটিমের স্ত্রী রাবেয়া আক্তার ওরফে মুসকানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। প্রথমে মুসকান এলোমেলো তথ্য প্রদান করলেও পরবর্তীতে সে ঘটনার বিবরণ স্বেচ্ছায় প্রদান করেন।

ওই সময় মুসকান জানায়, ভিকটিম সৌরভ বেপারীর সাথে সাড়ে তিনমাস পূর্বে পারিবারিকভাবে বিবাহ হয় মুসকানের। বিয়ের সময় সৌরভ বলেছিলো, সে সরকারি চাকুরি করে এবং মুসকানকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দিবেন। তবে বিয়ের পর মুসকান জানতে পারেন সৌরভ সরকারি চাকুরি নয় ঢাকায় প্রাইভেট ব্যাংকের গাড়ি চালক। অপরদিকে বিয়ের পর মুসকানের পূর্বের বন্ধুবান্ধবের সাথে সম্পর্কের বিষয় ও সাংসারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সৌরভের মনোমালিন্য দেখা দেয়। যা নিয়ে মুসকান তাঁর স্বামী সৌরভের ওপর ক্ষুব্দ হন এবং বিয়ের পূর্বের সম্পর্কিত প্রেমিক আবু সিয়াম ও তাঁর বন্ধু রাজনদের সহযোগীতায় হত্যার পরিকল্পনা আঁটেন।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘গত ২৪ জানুয়ারি ছুটিতে সৌরভ ঢাকা থেকে গৌরনদীতে গ্রামের বাড়িতে আসে। পরের দিন দুপুরের খাবার গ্রহণের পর সৌরভকে ভিটামিন ওষুধ বলে দুটি চেতনানাশক ওষুধ খাওয়ায় মুসকান এবং বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কেনাকাটার জন্য সৌরভের সাথে মুসকান গৌরনদী উপজেলা সদরে যায়। সৌরভের কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে মুসকান একটি পার্লারের ভেতরে যায় এবং কৌশলে মোবাইল ফোনে পুরতান প্রেমিক সিয়ামকে খবর দেয়।’

‘পার্লারের কাজ ও কেনাকাটা শেষে ঘণ্টাখানেক পরে সৌরভ অসুস্থবোধ করলে, মুসকান তাকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। পথিমধ্যে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে বান্ধবীর বাসায় যাওয়া কথা বলে অটোরিক্সা থেকে মুসকান তার স্বামী সৌরভকে নিয়ে নেমে যায়।’

‘পরবর্তীতে গৌরনদীর কালনা এলাকার শামসুল হকের বাড়ির পূর্ব পাশের রাস্তা দিয়া পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় সৌরভ বেপারীকে স্ত্রী মুসকানের প্রেমিক সিয়াম ও রাজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাথারি কুপিয়ে জখম করে। এতে সৌরভের গলার উপরের অংশে, ঘাড়ের নিচের অংশে, গালে, কানেসহ দুই হাতে রক্তাক্ত জখম হয়।’

‘আর হামলার সময় স্ত্রী মুসকান স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করে নীরবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে। তবে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত সৌরভের ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।’

‘এ ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সৌরভ বেপারীর বাবা গৌরনদী মডেল থানায় যে মামলা দায়ের করেন সেই মামলায় মুসকানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গত ২৮ জানুয়ারি আদালতে সোপর্দ করা হয়। তখন সে ঘটনার বিবরণ দিয়ে ১৬৪ ধারা মোতাবেক দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।’

যার প্রেক্ষিতে পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) মো. হেলাল উদ্দিন, এসআই মো. কামাল হোসেন, এএসআই মো. ফারুক হোসেনসহ গৌরনদী মডেল থানার একটি আভিযানিক দল মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) গাজীপুর মেট্রোপলিটনের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন দত্তপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবু সাইদ সিয়াম (২০) ও জিহাদ হাসান রাজন (১৭)-কে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের দেয়া তথ্যানুযায়ী হামলায় ব্যবহৃত রক্তমাখা চাপাতি ও ছোরা ঘটনাস্থলের রাস্তার পাশের ঝোপঝাড়ের মধ্য থেকে উদ্ধারও করা হয়।

বুধবার বিকেলে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হবে জানিয়ে পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মুসকান স্বীকার করে পুরো ঘটনা তার সাজানো ছিলো। তবে সে চায়নি সৌরভকে এভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে মুমুর্ষ অবস্থা করা হোক। তবে সৌরভের সাথে বনিবনা না হওয়ায় মুসকান চেয়েছিল ভয়ভীতি দেখিয়ে তালাক নিয়ে প্রেমিক সিয়ামকে বিয়ে করতে।’

গ্রেপ্তার আবু সাইদ সিয়াম ও জিহাদ হাসান রাজনের কিশোর গ্যাং এর সাথে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে জানিয়ে বলেন, ‘সমাজের কিশোর গ্যাং অপরাধী এবং উচ্চ বিলাসী চরিত্রের মেয়েদের জন্য এ ধরনের ঘটনা হয়তো ঘটছে। পরিবারের অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ আপনারা খেয়াল রাখবেন আপনার সন্তান কার সাথে মিশছে, সম্পর্ক করছে, কোথায় যাচ্ছে। কারণ আমরা মনে করি সৌরভের মৃত্যু হলে বরগুনার রিফাত হত্যার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি আবার ঘটতো। হয়তো তার থেকেও জঘন্য কিছু ঘটতো।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ঢাকার হাসপাতালের মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন সৌরভের বাবা কবির বেপারী বলেন, ‘বিয়ের সময় আমরা কোনো মিথ্যাচার করিনি, মুসকান মিথ্যে বলছে। তার আচরণ শুরু থেকেই সন্দেহজনক ছিলো। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যাতে কারও সন্তানের সাথে এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ