বরিশালের বানারীপাড়ায় জমি দখলের চেষ্টা বড়ো ভাইয়ের
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, মার্চ ৬, ২০২৩ ১০:৫৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, মার্চ ৬, ২০২৩ ১০:৫৭ অপরাহ্ণ

২০১০ সালে সুখের নীড় তৈরী করার জন্য ক্রয় করেছিলেন এক টুকরো জমি। অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা আনতে ২০১৪ সালে ক্রয়কৃত জমি রেখে পরিবারসহ বসবাস শুরু করেন ঢাকায়। আর ওই জমি ভাড়া হিসাবে নিজের আপন ভাইকে দিয়েছিলেন। এখন সেই নজরুল ইসলাম নিজ জমিতে উঠতে না পেরে পরিবার-পরিজন নিয়ে পাশের একটি বাগানের মধ্যে মানবাধিকারহীন জীবন যাপন করছেন।
অন্যদিকে সেই সম্পত্তিতে বসত ঘর নির্মাণের জন্য গেলে মালিক বনে যাওয়া বড়ো ভাইয়ের মারধর ও হামলার শিকার হচ্ছেন প্রকৃত মালিক নজরুল ও তার পরিবার।
ঘটনাটি বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার চাখার ইউনিয়নে। আর এমন ঘটনাকে ‘পরের ধনে পোদ্দারি’ বলে মন্তব্য করেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের দাবি চেয়ে বানারীপাড়া থানায় অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মহিষাপোতা এলাকার মালেক ফকিরের ছেলে মো. নজরুল ইসলাম ২০১০ সালে চাখার ইউনিয়নের সাব রেজিস্ট্রার অফিসের ৯৪৫ নং সাব কবলা দলিল মূলে ইসমাত আরা বেগম ও সামসাত আরা বেগমের কাছ থেকে ৮ শতাংশ জমি ক্রয় করেন।
ক্রয়কৃত জমি দেখভালের জন্য নিজের আপন বড়ো ভাই অভিযুক্ত মো. রফিকুল ইসলামের কাছে দায়িত্ব অর্পণ করেন। দেখাশুনার দায়িত্বে থাকাবস্থায় নজরুলের কোনোরূপ অনুমতি ছাড়াই ওই জমির উপর টিনের চৌচালা ঘর নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন রফিকুল।
২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী তার নিজের জমিতে গাছপালা রোপন করার উদ্দেশ্যে গেলে রফিকুল ইসলামের সাথে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এ সময় ভুক্তভোগীকে খুন জখমের উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নজরুল ইসলাম গত ১ মার্চ ২০২৩ সকাল সাড়ে ৯টায় ওই জমিতে বসত ঘর স্থাপনের জন্য মালামাল নিয়ে গেলে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম, তার স্ত্রী জেসমিন বেগম ও তার ছেলে রাকিব ও রায়হান ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
যার প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তাদের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় কয়েক দফায় স্থানীয় শালিস বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম কর্ণপাত করেননি। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগীরা রবিবার ৫ মার্চ বেলা ১২টায় বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি অফিসে অভিযোগ করেন। তাৎক্ষণিক বিষয়টি আমলে নিয়ে ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামান বানারীপাড়া থানা পুলিশকে ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দেন।
চাখার ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. বাদশা মিয়ার মুঠোফোনে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় ইসমাত আরা বেগম ও সামসাত আরা বেগমের কাছে বেশ কিছুদিন পূর্বে মো. নজরুল ইসলাম জমি ক্রয় করেন এবং তা দেখভালের জন্য তার বড়ো ভাইকে দায়িত্ব অর্পণ করেন। নজরুল ইসলামের নামে এসএ ও বিএস খতিয়ান রয়েছে।’
জনতার আওয়াজ/আ আ