বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালকের অপসারণ দাবি - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:৪৬, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালকের অপসারণ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, মে ২৯, ২০২৪ ৫:০৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, মে ২৯, ২০২৪ ৫:০৮ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
কবিতার মধ্যদিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অপমানসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত দাবি করে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক কবি নূরুল হুদার অপসারণ চেয়েছেন বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক নূরুন নবী ভোলা।

বুধবার (২৯ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তিনি। এ সময় পাঠাগারের সাধারণ পাঠকেরাও নূরুল হুদার অপসারণের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে নূরুন নবী ভোলা বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আদর্শ ও চেতনা বিরোধী এবং বিএনপি জায়ামাতের আশীর্বাদপুষ্ট ও জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক সাব্যস্তকারি চরম সুবিধাবাদী মুহাম্মদ নুরুল হুদার মতো ব্যক্তির বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক পদে থাকা জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাকর, যা বাংলাদেশের সুস্থ তারা শিল্প সংস্কৃতি ও সাহিত্যের জন্য একটি অশনি সংকেত।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিনি কার পক্ষে লিখলো, কার বিপক্ষে লিখলো সেটা বিষয় না। সে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে লিখেছেন। সারা বিশ্ব জানে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। অথচ তিনি লেখেছেন, মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন।’

ভোলা বলেন, ‘তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করেছেন। নুরুল হুদা গিরগিটির মতো রঙ বদলায়। আওয়ামী লীগের সময় আওয়ামী, বিএনপির সময় বিএনপি।’

মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘বাংলা একাডেমীতে চাকরির ক্ষেত্রে, পদোন্নতি, বই বের করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি নানা ধরণের দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত।’

পাঠাগারের নিয়মিত পাঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহিদা বেগম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘মো. নূরুল হুদাকে আমি শৈশব থেকে চিনি। তিনি আগে বাসাবোতে ছিলেন, আমার বাবার বাড়ীও সেখানে। তিনি নিজেকে জাতিসত্তার কবি বলেন। একদিন তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনি যে কবিতা লেখেন তা বুঝতে তো ডিকশনারী ঘাটতে হয়। তখন তিনি বলেছিলেন, এই কবিতা কবিদের জন্য, তোমার জন্য না।’

কবি নূরুল হুদা বেগম খালেদা জিয়াকে মা ডাকতেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তার (খালেদা জিয়া) সঙ্গে তিনি প্রায়ই দেখা করতেন এবং যোগাযোগ করতেন। এসব করে তিনি নজরুল ইন্সটিটিউটের পরিচালক হয়ে গেলেন। সেখানে তিনি হেন অপরাধ নাই যে তিনি করেন নাই। সেখানে তিনি এখান-ওখান থেকে নিয়ে অনেকগুলো বই বের করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজের চেহারা বদলে ফেলেছেন। হুদা বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনাকে কটাক্ষ করে কবিতা লেখেছেন। কিন্তু এখন তিনি নিজেকে সবচেয়ে বড় মুজিবসেনা হিসেবে নিজেকে জাহির করেন।’

বাংলা একাডেমি জাতির মননের প্রতীক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জাতির মননকে যদি কেউ কলুষিত করে তাহলে তা কি আমরা মেনে নেব? নেব না।’

তার নিজ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কাটাবনে একদিন আমাকে ডেকে তিনি বললেন, তুমি পুরষ্কার পেয়েছো একমাত্র আমার জন্য। তোমার তো টাকার দরকার নাই। টাকাটা আমাকে দিয়ে দাও। পুরষ্কার তো তুমি পেয়েছোই। সেই ৩ লক্ষ টাকা এখনো আমি জমিয়ে রেখেছি। পরে খবর পেয়েছি, আরও অনেকেই সার্টিফিকেট পেয়েছে কিন্তু টাকা পায়নি।’

সংবাদ সম্মেলন শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নূরুল হুদার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেন তারা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ