বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার ও ক্ষমতায়ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৪ ১১:২৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৪ ৮:৩৬ অপরাহ্ণ

দশ বছর মেয়াদী কর্মপরিকল্পনা
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার ও ক্ষমতায়ন: বিদেশী বিনিয়োগ সহযোগিতায় স্মার্ট শিল্পায়ন
প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ
আজ বিশ্ব বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বিপ্লব ও বিজয় প্রত্যক্ষ করছে৷ বাংলাদেশ ক্ষমার অযোগ্য ও অবিস্মরণীয় স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে৷ যাকে চব্বিশের প্রকৃত স্বাধীনতা হিসেবে নামকরণ করা যেতে পারে৷ উৎখাত হওয়া স্বৈরাচার দেশ ও জাতিকে বহুমুখী বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে রেখে গেছে৷ বিপর্যয়গুলো কেবল রাজনীতি, সামাজিক-সাংস্কৃতিক, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাতেই সীমিত নয়, বাংলাদেশ এখন অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি৷ ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস (আগস্ট ১৬, ২০২৪) বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ প্রথমবারের মত একশ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে, বর্তমানে যার পরিমাণ ১০০.৬ বিলিয়ন ডলার৷ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে, বাংলাদেশের জন্য একটি উজ্জ্বল ও টেকসই অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ তৈরি করার লক্ষ্যে এবং উৎপাদনশীল, স্বনির্ভর ও স্মার্ট সামাজিক- অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে উন্নয়নশীল জাতিগুলোর মধ্যে স্থান অর্জনের উদ্দেশ্যে, বিদেশি বিনিয়োগ সহযোগিতার মাধ্যমে “শিল্পায়নের” হাইব্রিড মডেল প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশের শিল্পায়নের কার্যকরী মিশন সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ৭ থেকে ১০ বছরের সময়কাল প্ৰয়োজন হতে পারে৷ তাই, বাংলাদেশে কার্যকরী অর্জনসহ শিল্পায়ন মডেল বাস্তবায়ন করতে দশ বছর মেয়াদি স্মার্ট ও কৌশলগত কর্মপরিকল্পনার রূপরেখা পেশ করা হচ্ছে।
কোভিড-পরবর্তী সময়ে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ নিজেদের অর্থনৈতিক নীতিমালা নতুন করে পর্যালোচনা করছে, প্রভাব রাখতে সক্ষম এমন টেকসই লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে নতুন করে অর্থনৈতিক কৌশল ও কর্মপন্থা নির্ধারণ করছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ যে-সব কৌশলের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, তার মধ্যে অন্যতম হল, কীভাবে সমন্বিত পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ ভিত্তিক বিদেশি বিনিয়োগ সহযোগিতা কেন্দ্রিক শিল্পায়ন তত্ত্বের মাধ্যমে জিডিপিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায়৷ সমন্বিত পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ ভিত্তিক বিদেশি বিনিয়োগ সহযোগিতা কেন্দ্রিক শিল্পায়নের কৌশলগত এই মডেল দীর্ঘমেয়াদিভাবে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে সক্ষম৷ সমকালীন বৈশ্বিক ধারার সাথে তালমিলিয়ে বাংলাদেশ তার বৈচিত্র্যপূর্ণ অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে৷ বিদেশি বিনিয়োগ এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে শিল্পায়নের মডেল বাংলাদেশের গতিশীল ও টেকসই অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের নিরিখে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে গণ্য হতে পারে৷ পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ ভিত্তিক বিদেশি বিনিয়োগ সহযোগিতা কেন্দ্রিক শিল্পায়ন মডেলের দশবছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাংলাদেশের চৌষট্টি জেলায় চৌষট্টিটি বহুজাতিক শিল্প প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে৷ সর্বোপরি এতে করে দেশটি উন্নত দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। ইনশাআল্লাহ।
বাংলাদেশকে স্মার্ট ও টেকসই পরিবেশ বান্ধব জাতিতে পরিণত করতে বিদেশি বিনিয়োগ সহযোগিতা কেন্দ্রিক শিল্পায়ন মডেল গুরুত্বপূর্ণ কর্মপরিকল্পনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে৷ শিল্পায়নের নিরিখে, মডেলের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে বর্ণিত হল:
প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি ফিজিবিলিটি টেস্ট/নিরীক্ষা চালানো হবে। দশ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে, যেটি যথাযথ নিয়মে সর্বোচ্চ অথরিটি তথা রাষ্ট্রপতি/প্রধানমন্ত্রী/প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক অনুমোদিত হবে। মূল খাতগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগকারী, উৎপাদনকারী, শিল্পপতি, প্রযুক্তি সহযোগী, সাপ্লায়ার ও অপারেটরদের তথ্য সংরক্ষণ করতে একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হবে ।
যে-সব শিল্প প্রতিষ্ঠা করা হবে, সেগুলো হবে বহুজাতিক৷ দেশের প্রতিটি জেলা অন্তত একটি শিল্পকেন্দ্র স্থাপন করবে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি কৌশলগত কর্মপন্থাসহ বিভিন্ন দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশগুলো আন্তর্জাতিক ধারা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের সাথে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্ম-পরিকল্পনা গ্রহণ করছে৷ এই কর্ম-পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ ভিত্তিক বিদেশি বিনিয়োগ সহযোগিতা কেন্দ্রিক শিল্পায়ন মডেলের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো শক্তিশালীকরণ ও গতিশীল টেকসই অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ তৈরির উদ্যোগকেই প্রজ্ঞাপূর্ণ পদক্ষেপ বলে গণ্য করা হচ্ছে৷ বাংলাদেশ সমকালীন অর্থনৈতিক বাস্তবতার ব্যতিক্রম কিছু নয় – মাননীয় প্রেসিডেন্ট / প্রধানমন্ত্রী / প্রধান উপদেষ্টা এর নেতৃত্বে পরিচালিত নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলার গতিশীল অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রার নিরিখে, পরিবেশ বান্ধব টেকসই ভবিষ্যতের পরিকল্পনার পাশাপাশি দেশকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাতারে নিয়ে যাবার উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে৷ বর্তমানে যে – সব রাষ্ট্র আংশিক বা পরিপূর্ণভাবে বৈদেশিক বিনিয়োগ সহযোগিতার মাধ্যমে শিল্পায়নের চেষ্টা চালাচ্ছে তাদের মধ্যে মালয়েশিয়া, সিংগাপুর, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, তুরস্ক, ওমান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত অন্যতম৷ কাজেই, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও বিদেশি বিনিয়োগ এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে শিল্পায়নের মডেল সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে গণ্য হতে পারে৷
যারা প্রধান অংশীজন হিসেবে এই শিল্পায়ন-পরিকল্পনায় অংশ নেবে, বাংলাদেশ সরকার, বিদেশি বিনিয়োগকারী, উৎপাদনকারী, শিল্পপতি, প্রযুক্তি সহযোগী, সাপ্লায়ার ও অপারেটরবর্গ।বাংলাদেশের শিল্পায়ন কর্ম-পরিকল্পনার সাথে যুক্ত সকল গোষ্ঠী পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের ভিত্তিতে একটি যৌথ স্ট্যান্ডার্ড পার্টনারশিপ চুক্তিতে আবদ্ধ হবেন৷আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী আইন, পলিসি ও মান রক্ষার দিকটি বাংলাদেশ সরকার গভীরভাবে তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করবে৷ বাংলাদেশ-শিল্পায়ন কর্ম-পরিকল্পনার বিষয়টি থাযথ নিয়মে সর্বোচ্চ অথরিটি তথা রাষ্ট্রপতি/প্রধানমন্ত্রী/প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক অনুমোদিত হবে৷
দেশকে টেকসই অর্থনৈতিক সক্ষমতা, প্রবৃদ্ধি ও সম্ভাবনাসহ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত করা। চৌষট্টি জেলায় চৌষট্টিটি বহুজাতিক শিল্প প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশকে সফল শিল্পোন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা৷ পণ্য-সেবাখাতে উৎপাদন বৃদ্ধি করা৷ দেশের জিডিপিতে উল্লেখযোগ্যভাবে ভূমিকা রাখা৷
বৈদেশিক বিনিয়োগ সহযোগিতার ভিত্তিতে দেশের প্রতিটা জেলায় অন্তত একটি বহুজাতিক শিল্প চালু করার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সুযোগ- সম্ভাবনা তৈরি করা। দেশের মানবসম্পদের জন্য অসংখ্য শ্রেণীর চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা। বৈদেশিক বিনিয়োগের ভিত্তিয়ে পাবলিক সেক্টরের উন্নতির মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করা৷ দেশের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে পাবলিক ও প্রাইভেট সেক্টরের মধ্যে সম্পর্ক-সমন্বয় বৃদ্ধি করা। শিল্পায়নের ভিত্তিতে দেশকে সন্তোষজনক আয়ের রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে সরকার ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে যৌথভাবে কাজ করার প্রত্যক্ষ ক্ষেত্র তৈরি করা৷ ‘বাংলাদেশে কীভাবে দ্রুতগতিতে শিল্পায়ন’ বাস্তবায়ন সম্ভব, এ বিষয়ে অংশীজনের মতামত-অংশগ্রহণের সুব্যবস্থা করা-সমন্বয় করা, এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে পাবলিক সেক্টর, রাজনীতিবিদগণ, প্রাইভেট সেক্টর, ব্যবসায়িক সমাজ, চাকরিজীবী গোষ্ঠী, মিডিয়া, এনজিও, ও যুবসমাজ৷ অবস্থান-অগ্রগতির পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা৷ টেকসই লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে শিল্পায়নের লক্ষ্যে যথোপযুক্ত আইন-নীতিমালা-নির্দেশনা প্রণয়ন ও চালু করা বিভিন্ন খাতের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করা, খাতগুলোতে অভ্যন্তরীণ সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা৷ টেকসই আকর্ষণীয় লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রাখা৷ বাংলাদেশকে বিশ্বের আকর্ষণীয় পর্যটন-রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা। বাংলাদেশকে স্মার্ট ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে কর্ম-পরিকল্পনা তৈরি করা৷ বাংলাদেশকে উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করার পথে নিয়ে যাওয়া৷ শিল্পভিত্তিক রপ্তানিতে তুলনামূলক সুবিধার দিক থেকে (Comparative Advantage) আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা তৈরি করা। সমন্বিত আঞ্চলিক উন্নতি শক্তিশালী করা৷
বাংলাদেশ শিল্পায়ন মডেলের কর্মপরিধি হল কৃষি বা সম্পদ ভিত্তিক অর্থনীতি থেকে যান্ত্রিক উৎপাদন ভিত্তিক অর্থনীতির দিকে রূপান্তর প্রক্রিয়া৷ সাধারণভাবে শিল্পায়নের সাথে উন্নত গড় আয় ও জীবনযাপন মানের বিষয়টি গভীরভাবে সংযুক্ত। বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে শিল্পায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে অবদান রাখে শিল্পায়নের কর্ম-পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক-পর্যটন-অর্থনৈতিক চেতনা সম্পন্ন জাতিতে রুপান্তর করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। শিল্পায়নের প্রক্রিয়ায় দেশকে ব্যবসা-উদ্যোক্তা ভিত্তিক জাতিতে পরিণত করবে৷ স্বতন্ত্রতা শিল্পায়ন মডেল উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে৷
এই মডেল প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম এমন উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখবে৷ এই মডেল পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে৷ এই মডেল পণ্যের স্বল্প ও সাশ্রয়ী দাম নিশ্চিত করবে৷ এই মডেল জাতীয় শ্রমবাজারে বিপুল সংখ্যক কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করবে। এই মডেল সর্বস্তরের চাকরিজীবীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে এই মডেল মানব সম্পদকে গ্রামীণ অঞ্চল থেকে শহরে নিয়ে আসতে সাহায্য করবে। এই মডেল প্রত্যেকের জীবনযাপন মান উন্নত করবে৷ এই মডেল একপর্যায়ে জাতীয় জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে।
শিল্পায়ন মডেল আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক সৃষ্টি করবে। এই মডেল আমদানি-রপ্তানির বাজারকে এগিয়ে নিবে। এই মডেল দেশকে অধিকতর উৎপাদনশীল রাষ্ট্রে পরিণত হতে সাহায্য করবে৷ এই মডেল জাতীয় জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতিতে ভূমিকা রাখবে৷ এই মডেল পণ্য ও সেবাখাতকে অধিকতর দক্ষ ও সাশ্রয়ী হিসেবে গড়ে তুলবে। এই মডেল দেশের প্রতিটি ব্যক্তি ও পরিবারের জীবনযাপনের মান উন্নত করবে৷
এই মডেল মানসম্মতভাবে দেশের মৌলিক সুযোগ-সুবিধাকে এগিয়ে নিবে; স্বাস্থ্যব্যবস্থা, শিক্ষা, আবাসন, খাদ্য, পরিবহণ, পরিবেশ, জীবনমান ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নতি ঘটাবে৷ এই মডেল দেশকে ডিজিটাল অবকাঠামোসহ একটি স্মার্ট জাতিতে পরিণত করতে ভূমিকা রাখবে৷ এই মডেল জাতির মধ্যে ব্যবসা-উদ্যোক্তা মানসিকতা ও সংস্কৃতি প্রসারের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে৷ এই মডেল দেশকে টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধিতে ভূষিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই মডেল কৌশলগত কর্ম-পরিকল্পনাসহ বৈচিত্র্যপূর্ণ অর্থনীতি সৃষ্টি করবে৷ এই মডেল পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখবে৷ মডেলের টেকসই সুযোগ-সুবিধা শিল্পায়ন মডেল মানসম্পন্ন পণ্য ও সেবা উৎপাদন বৃদ্ধি করার সুযোগ তৈরি করবো এই মডেল ভোক্তাদের স্বল্প ও সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য ও সেবা ভোগ করার সুযোগ তৈরি করবে৷ এই মডেল সর্বস্তরের মানুষের জীবনযাপনের মান উন্নত করবে। এই মডেল পছন্দের পণ্য ও সেবা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ভোক্তাদের সামনে বিভিন্ন রকমের বৈচিত্র্যের সুযোগ তুলে ধরবে৷ এই মডেল গুণমানসহ পরিবেশকে রক্ষা করবে এই মডেল যথাযথ সুযোগ-সুবিধাসহ প্রচুর কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করবে। এই মডেল উল্লেখযোগ্য ফলাফলসহ দরিদ্রতার হার কমাতে ভূমিকা রাখবে৷ এই মডেল দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারে উৎসাহিত করবে৷ এই মডেল সমৃদ্ধি ও অগ্রগতিসহ উন্নয়নের প্রণোদনা তৈরিতে সাহায্য করবে৷ শিল্পায়ন মডেল ফলাফল কেন্দ্রিক আধুনিকায়নের দিকে নিয়ে যাবে। এই মডেল দেশের প্রযুক্তি-অবকাঠামোকে সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে৷ এই মডেল আমদানির প্রয়োজনীয়তা পূরণ করার পাশাপাশি রপ্তানিমুখী দেশে পরিণত করতে সাহায্য করবে৷ এই মডেল পাবলিক ও প্রাইভেট সেক্টরে প্রয়োজনীয় মূলধনের উৎস বের করতে সাহায্য করবে৷ এই মডেল পৃথিবীব্যাপী অসংখ্য নতুন বাজার সৃষ্টি করবে৷ এই মডেল পর্যাপ্ত খাদ্য, পানীয় ও ভোগ্যপণ্য তৈরিতে সাহায্য করবে৷ এই মডেল উন্নত জীবনযাপনের সংস্কৃতি সৃষ্টি করবে৷ এই মডেল প্রয়োজনীয় জ্বালানি, প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক উপাদানের সর্বোচ্চ মজুদ নিশ্চিত করবে। এই মডেল মানসম্পন্ন পরিবহণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নেটওয়ার্কিং এর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই মডেল দেশকে শিল্প উৎপাদনমুখী রাষ্ট্রে পরিণত করবে। এই মডেল মানসম্পন্ন চিকিৎসা ব্যবস্থা, মেধাশক্তি, শিক্ষা ও সৃজনশীল চিন্তাভাবনা বিকাশে বিশেষভাবে ভূমিকা রাখবে৷
বাংলাদেশ, ইসলামি অর্থায়ন ও বিনিয়োগে অন্তত তিনটি ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার সক্ষমতা রাখে, পিছিয়ে পড়া মুসলিম জনগোষ্ঠীকে অর্থনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করবে, বৃহত্তর আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করবে। ইসলামি অর্থায়ন সম্পদ-ভিত্তিক ও ঝুঁকি ভাগাভাগির বৈশিষ্ট্য ধারণ করে, কাজেই এর মাধ্যমে ছোট ও মাঝারি ব্যবসার পাশাপাশি পাবলিক অবকাঠামোতেও ভূমিকা রাখতে সক্ষম৷ ঝুঁকি ভাগাভাগি, সুদ ও স্পেকুলেশন নিষিদ্ধ হওয়ার প্রেক্ষিতে ইসলামি বিনিয়োগ ও অর্থায়নে প্রচলিত ধারার চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপ (এলএসইজি) কর্তৃক প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামি অর্থনীতি দুই হাজার বাইশ সালে এগারো শতাংশ প্রবৃদ্ধিসহ সাড়ে চার ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যার মধ্যে ইসলামি ব্যাংকিং বাহাত্তর শতাংশ শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করে৷ দুই হাজার সাতাশ সালে এটি ছয় দশমিক সাত ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছার কথা রয়েছে৷ দুই হাজার বাইশ সালের হিসেবে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া ইসলামি অর্থনীতির বাইশ ভাগ শেয়ার তথা আটশো উনত্রিশ বিলিয়ন ডলার নিয়ন্ত্রণ করে৷ সুকুক, ঋণ সিকিউরিটিজ ও তাকাফুলের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। শেষ চার দশক ধরে বাংলাদেশে ইসলামিক অর্থনীতি ও বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, আর্থিক ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে৷ শরিয়া ভিত্তিক অর্থায়ন ও বিনিয়োগ বিভিন্ন সেক্টরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মার্কেট শেয়ার ধরে রেখেছে৷ বিস্তারিতভাবে বললে, রেমিটেন্সে উনচল্লিশ শতাংশ, শিল্প-অর্থায়নে সাতাশ শতাংশ, আমানতে ছাব্বিশ শতাংশ, আমদানিতে ছাব্বিশ শতাংশ, রপ্তানিতে চব্বিশ শতাংশ, কৃষিতে সতেরো শতাংশ, কুটির-ক্ষুদ্র-ছোট-মাঝারি ব্যবসায় আটত্রিশ শতাংশ৷ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসলামিক অর্থনীতি ও বিনিয়োগ বৈশ্বিক বাজারে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান অর্জন করেছে এবং এর প্রশংসা বৃদ্ধি পেয়েছে৷ বিশেষ করে, বাংলাদেশে ইসলামি আর্থিক ও বিনিয়োগ খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বহুমুখী কৌশলগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সহায়তা করেছে, আকর্ষণীয় পণ্য ও সেবার মাধ্যমে ভূমিকা রেখেছে৷ বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে ইসলামি অর্থনীতি ও বিনিয়োগ দেশের বাজারে উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে, কর্মসংস্থান, রিজার্ভ ও জিডিপিতে ভূমিকা রেখেছে। এছাড়াও, বাংলাদেশের ইসলামী অর্থনীতি ও বিনিয়োগের বাজারের অংশীদারিত্ব মোট শিল্পের সাড়ে আঠাশ শতাংশ৷
উল্লেখযোগ্য মার্কেট শেয়ার বাংলাদেশে ইসলামি আর্থিক ও বিনিয়োগ পণ্যের প্রতি বাড়তে থাকা আগ্রহকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে৷ এটি ইসলামি শরিয়া সমর্থিত প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থার প্রতি নির্দেশ করে, যা কেবল ইসলামি বিধিবিশ্বাসের সাথে সাযুজ্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্যই নয়, এটি একইভাবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নৈতিক বিনিয়োগের সুযোগ প্রদান করে৷ অতীত সফলতার পাশাপাশি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে আসলেই নিজেকে আঞ্চলিক ইসলামিক আর্থিক ও বিনিয়োগ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার সত্যিকারের সক্ষমতা রাখে৷ যার মাধ্যমে বাংলাদেশ কৌশলগতভাবে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে ইসলামি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগের প্রতি আকর্ষণ করতে সক্ষম৷ এতে করে বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী হবে ইনশাআল্লাহ।
হালাল খাবার ও পরিষেবাগুলো বৈজ্ঞানিকভাবে স্বাস্থ্যকর ও উপকারী হিসেবে প্রমাণিত৷ এটি ধর্ম ও সংস্কৃতি নির্বিশেষে সকলেই স্বীকার করে মুসলিম এবং অমুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে হালাল খাবার ও পরিষেবার চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়ছে৷ কারণ, হালাল খাবার ও পরিসেবা মানবদেহের জন্য সহায়ক; ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য উপাদান থেকে মুক্ত। ২০২২ সালে, বিশ্বব্যাপী হালাল খাবারের বাজারের আকার ছিল ২.২২ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০২৮ সালের মধ্যে বাজারটি ৪.১৭ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে৷ মালয়েশিয়া হালাল রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মুসলিম দেশ। ২০২৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত, মালয়েশিয়ার হালাল রপ্তানি ৪৪.১৭ বিলিয়নে রিঙ্গিতে পৌঁছেছে। এর পরেই আছে তুরস্ক (বিশ্বব্যাপী রপ্তানির ৩.৩%), ইন্দোনেশিয়া, মিশর, পাকিস্তান এবং অন্যান্য দেশ৷ বিশ্বব্যাপী অমুসলিম রাষ্ট্রগুলোই হালাল পণ্য ও পরিসেবা রপ্তানির শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে। এর মধ্যে রয়েছে: ব্রাজিল (১০.৭%), ভারত (৯%), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (৪.৯%), চীন (৪.৬%), থাইল্যান্ড (৪.৪%), অস্ট্রেলিয়া (৪.৪%), ফ্রান্স (৪.২%), রাশিয়া (৩.৯%) এবং ইউক্রেন (৩.৩%)।
মুসলিম-অমুসলিম মহলে প্রশংসার পাশাপাশি বাজারে উল্লেখযোগ্য অংশীদারিত্বের প্রেক্ষিতে হালাল পণ্য ও পরিষেবা দ্রুতগতিতে আন্তর্জাতিক বাজার দখল করার সক্ষমতা রাখে৷ বাংলাদেশে বিদ্যমান সম্পদগুলির মধ্যে এমন বেশকিছু পণ্য রয়েছে যা দেশটিকে আঞ্চলিক হালাল-কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করতে পারে৷ এই সম্পদগুলোর মধ্যে রয়েছে: বিভিন্ন ধরনের মাংস, মাছ, ফল, সবজি, দুগ্ধজাত পণ্য, এবং অন্যান্য কৃষি পণ্য৷ আরও রয়েছে রান্নার তেল, মসলা, ঔষধি পণ্য, প্রসাধনী এবং হস্তশিল্পা। দুঃখজনকভাবে স্বীকার করতে হচ্ছে যে, বাংলাদেশ কোটি কোটি ডলারের এই সুযোগ থেকে যথেষ্ট পরিমাণ লাভবান হতে পারছে না, অন্যান্য দেশগুলির তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে, যদিও দেশের বিদ্যমান সম্পদের মাধ্যমে হালাল পণ্য ও পরিষেবা প্রসারের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বৈশ্বিক হালাল বাজারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করার সম্ভাবনা রাখে৷ যদি যথাযথ মান, কৌশল এবং প্রযুক্তিনীতি প্রণয়ন করা হয় এবং রপ্তানিকারকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়, তাহলে এই সম্ভাবনা পূরণ হতে পারে৷ যদি বাংলাদেশ বৈশ্বিক হালাল বাজারের ৩%-৫% শেয়ার দখল করতে পারে, তাহলে তা দেশের অর্থনীতিকে টেকসইভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিবো বাংলাদেশকে আঞ্চলিক হালাল হাব বানাতে যে-সব বিষয় মাথায় রাখতে হবে, সরকারি-বেসরকারি সমর্থন অর্জনের উদ্দেশ্যে হালাল সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি৷
মানসম্পন্ন হালাল সার্টিফিকেশনের ব্যবস্থাগ্রহণ। হালাল সার্টিফিকেশনের দায়বদ্ধতার প্রতিশ্রুতি। হালাল স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলার দায়বদ্ধতা। হালাল রিসোর্সের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা। প্রক্রিয়াজাত করার প্রযুক্তি নিশ্চিত করা৷
প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি নিশ্চিত করা৷ বিশ্বাসযোগ্য হালাল পরিচালনা প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা, যার মধ্যে থাকবে সার্টিফিকেশন কর্তৃপক্ষ, আইন, নীতিমালা, নির্দেশনা, স্ট্যান্ডার্ডস, শরিয়া উপদেষ্টা বোর্ড, হালাল নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষ। দক্ষ মানবসম্পদ৷ দেশের সক্ষমতা৷ অবকাঠামো৷ বাংলাদেশ শিল্পায়ন মডেল দেশকে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জিডিপি বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে৷ এই মডেল দেশে পরিণত অর্থনৈতিক মনোভাবসহ ব্যবসা-উদ্যোক্তা সংস্কৃতি প্রসারে সাহায্য করবে। এই মডেল অনেক চাকরি সৃষ্টি করবে, ফলে মানুষ গ্রাম ও কৃষিকর্ম থেকে শহরে চলে আসবে, যেখানে কারখানা অবস্থিত থাকবে৷ এই নতুন পরিবেশ যেমনই হোক, সেটা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছোট আকারের কৃষিভিত্তিক পরিবারগুলোর থেকে যথেষ্ট ভালো হবে। যার প্রেক্ষিতে শহরে নতুন ভোক্তাগোষ্ঠী সৃষ্টি হবে৷ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত হবে, যারা ভোক্তাদের জন্য পণ্য ও সেবা প্রদান করবে৷ সময়ের সাথে সাথে, কারিগর এবং দোকানদারদের মাধ্যমে গঠিত একটি বৃহত্তর মধ্যবিত্ত শ্রেণীর আবির্ভাব ঘটবে৷ একটি বৃহৎ শ্রমিক শ্রেণীরও উদ্ভব ঘটবে৷ যারা আগে আরও খারাপ অবস্থায় ছিল, নতুন প্রেক্ষাপটে তাদের কাজের মধ্যে পরিবর্তন আসবে। -এই মডেল দেশকে সম্ভাব্য বৈশ্বিক চাহিদা মেটাতে বহুমাত্রিক পণ্য ও সেবা উৎপাদনে সহায়তা করবে৷ এই মডেল দেশের টেকসই আর্থসামাজিক প্রভাব নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে—সবার জন্য মানসম্পন্ন জীবনযাত্রা-স্বাস্থ্যকর পরিবেশ- অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা- সুষম জীবন সৃষ্টি করবে৷ এই মডেল জাতিকে আত্মমর্যাদা, আত্মনির্ভরশীলতা, স্মার্টনেস, পরিপক্কতা এবং সৃজনশীল চিন্তাভাবনার সাথে গড়ে তুলতে দেশে দীর্ঘমেয়াদিভাবে ভূমিকা রাখবে।
কৌশলগত কর্মপরিকল্পনার জন্য প্রস্তাবিত সময়সীমার মধ্যে শিল্পায়নের প্রস্তাবিত মডেলে যথাযথ সাফল্য অর্জনের জন্য স্ট্রাটিজিক গভরনেন্সের কোন বিকল্প নেই৷ স্ট্রাটিজিক গভরনেন্স বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি/প্রধানমন্ত্রী/প্রধান উপদেষ্টার প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে। রাষ্ট্রপতি/প্রধানমন্ত্রী/প্রধান উপদেষ্টার সরাসরি নিয়ন্ত্রণে একজন স্ট্রাটিজিক উপদেষ্টা মুখ্য পরিকল্পনা, মডেল কাঠামো, পরিকল্পনা, কৌশল, কর্ম পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন, মান নিয়ন্ত্রণ, অগ্রগতি এবং টেকসই শিল্পায়নসহ সবকিছুর নেতৃত্ব প্রদান করবেন। স্ট্রাটিজিক উপদেষ্টা এমন একজন হতে হবে যিনি বৈশ্বিকভাবে বিশেষজ্ঞ-গবেষক হিসেবে স্বীকৃত (অর্থনীতি, বিনিয়োগ এবং ব্যবসার ক্ষেত্রে) আন্তর্জাতিক কর্পোরেট নেটওয়ার্ক বজায় রাখতে সক্ষম, এছাড়াও, তিনি শিল্পায়ন এবং নেতৃত্বের ক্ষেত্রে কৌশলগত দক্ষতার অধিকারী। স্ট্রাটিজিক উপদেষ্টাকে প্রশাসনিকভাবে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন শ্রেণীর পোর্টফোলিও-স্পেশালিস্ট-বিশেষজ্ঞ-সহায়ক কর্মীদের মাধ্যমে সহায়তা করা হবে৷ প্রয়োজনীয় সুবিধাসহ একটি সজ্জিত অফিসের ব্যবস্থা করা হবে৷ স্ট্রাটিজিক উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতি/প্রধানমন্ত্রী/প্রধান উপদেষ্টাকে সরাসরি শিল্পায়নের প্রক্রিয়া এবং অগ্রগতির প্রতিটি দিক, কার্যক্রম এবং অর্জন সম্পর্কে রিপোর্ট করবেন৷
বাংলাদেশ শিল্পায়ন মডেল দেশকে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জিডিপি বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে৷ এই মডেল দেশে পরিণত অর্থনৈতিক মনোভাবসহ ব্যবসা-উদ্যোক্তা সংস্কৃতি প্রসারে সাহায্য করবে। এই মডেল অনেক চাকরি সৃষ্টি করবে, ফলে মানুষ গ্রাম ও কৃষিকর্ম থেকে শহরে চলে আসবে, যেখানে কারখানা অবস্থিত থাকবে৷ এই নতুন পরিবেশ যেমনই হোক, সেটা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছোট আকারের কৃষিভিত্তিক পরিবারগুলোর থেকে যথেষ্ট ভালো হবে। যার প্রেক্ষিতে শহরে নতুন ভোক্তাগোষ্ঠী সৃষ্টি হবে৷ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত হবে, যারা ভোক্তাদের জন্য পণ্য ও সেবা প্রদান করবে৷ সময়ের সাথে সাথে, কারিগর এবং দোকানদারদের মাধ্যমে গঠিত একটি বৃহত্তর মধ্যবিত্ত শ্রেণীর আবির্ভাব ঘটবে৷
একটি বৃহৎ শ্রমিক শ্রেণীরও উদ্ভব ঘটবে৷ যারা আগে আরও খারাপ অবস্থায় ছিল, নতুন প্রেক্ষাপটে তাদের কাজের মধ্যে পরিবর্তন আসবে। -এই মডেল দেশকে সম্ভাব্য বৈশ্বিক চাহিদা মেটাতে বহুমাত্রিক পণ্য ও সেবা উৎপাদনে সহায়তা করবে৷ এই মডেল দেশের টেকসই আর্থসামাজিক প্রভাব নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে—সবার জন্য মানসম্পন্ন জীবনযাত্রা-স্বাস্থ্যকর পরিবেশ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা- সুষম জীবন সৃষ্টি করবে৷
এই মডেল জাতিকে আত্মমর্যাদা, আত্মনির্ভরশীলতা, স্মার্টনেস, পরিপক্কতা এবং সৃজনশীল চিন্তাভাবনার সাথে গড়ে তুলতে দেশে দীর্ঘমেয়াদিভাবে ভূমিকা রাখবে। কৌশলগত কর্মপরিকল্পনার জন্য প্রস্তাবিত সময়সীমার মধ্যে শিল্পায়নের প্রস্তাবিত মডেলে যথাযথ সাফল্য অর্জনের জন্য স্ট্রাটিজিক গভরনেন্সের কোন বিকল্প নেই৷ স্ট্রাটিজিক গভরনেন্স বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি/প্রধানমন্ত্রী/প্রধান উপদেষ্টার প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে। রাষ্ট্রপতি/প্রধানমন্ত্রী/প্রধান উপদেষ্টার সরাসরি নিয়ন্ত্রণে একজন স্ট্রাটিজিক উপদেষ্টা মুখ্য পরিকল্পনা, মডেল কাঠামো, পরিকল্পনা, কৌশল, কর্ম পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন, মান নিয়ন্ত্রণ, অগ্রগতি এবং টেকসই শিল্পায়নসহ সবকিছুর নেতৃত্ব প্রদান করবেন। স্ট্রাটিজিক উপদেষ্টা এমন একজন হতে হবে যিনি বৈশ্বিকভাবে বিশেষজ্ঞ-গবেষক হিসেবে স্বীকৃত (অর্থনীতি, বিনিয়োগ এবং ব্যবসার ক্ষেত্রে) আন্তর্জাতিক কর্পোরেট নেটওয়ার্ক বজায় রাখতে সক্ষম, এছাড়াও, তিনি শিল্পায়ন এবং নেতৃত্বের ক্ষেত্রে কৌশলগত দক্ষতার অধিকারী। স্ট্রাটিজিক উপদেষ্টাকে প্রশাসনিকভাবে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন শ্রেণীর পোর্টফোলিও-স্পেশালিস্ট-বিশেষজ্ঞ-সহায়ক কর্মীদের মাধ্যমে সহায়তা করা হবে৷ প্রয়োজনীয় সুবিধাসহ একটি সজ্জিত অফিসের ব্যবস্থা করা হবে৷ স্ট্রাটিজিক উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতি/প্রধানমন্ত্রী/প্রধান উপদেষ্টাকে সরাসরি শিল্পায়নের প্রক্রিয়া এবং অগ্রগতির প্রতিটি দিক, কার্যক্রম এবং অর্জন সম্পর্কে রিপোর্ট করবেন৷
শিল্পায়ন প্রক্রিয়া ও অগ্রগতিতে একটি লজিস্টিক অংশীদার প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা জরুরি হয়ে ওঠবে, এটি পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করবে৷ এই পদাধিকারী প্রতিষ্ঠান বিশেষভাবে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও শিল্পগোষ্ঠীগুলোর জন্য স্থানীয় প্রয়োজনীয় দিকগুলো ব্যবস্থা করবে। লজিস্টিক অংশীদার প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয়ভাবে নিবন্ধিত কোম্পানি হতে হবে। অবশ্য কোম্পানির পরিচালকবৃন্দের মধ্যে দেশী-বিদেশিদের মিশ্রণ থাকতে পারে৷
লজিস্টিক অংশীদার প্রতিষ্ঠান শিল্পায়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্থাপিত হতে যাওয়া প্রতিটি বিদেশি শিল্পের সাথে স্বতন্ত্রভাবে চুক্তি সম্পাদন করবে৷ লজিস্টিক অংশীদার এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের/শিল্পগুলোর মধ্যে সমন্বিত চুক্তি করা হবে৷ এর মাধ্যমে, লজিস্টিক অংশীদার এবং বিদেশি বিনিয়োগকারী/শিল্পগুলোর একে অপরের প্রতি মৌলিক দায়িত্ব নির্ধারিত হবে৷ এছাড়াও, লজিস্টিক অংশীদারের প্রদত্ত প্রতিটি সেবার বিপরীতে উভয়পক্ষের সম্মতিক্রমে গৃহীত সুবিধা/পুরস্কারের বিষয়টি নির্ধারিত হবে। লজিস্টিক পার্টনারশিপ চুক্তিটি স্বাধীন হবে এবং তাই বাংলাদেশের কোনো অফিস, কর্তৃপক্ষ, গোষ্ঠী, বা ব্যক্তি দ্বারা এই চুক্তিতে হস্তক্ষেপ বা একে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না৷ কাজেই, বাংলাদেশে বিশেষভাবে লজিস্টিক অংশীদারদের দায়িত্বগুলো হল-
স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় যে কোন ধরনের অফিশিয়াল আনুষ্ঠানিকতা (আইনি, আর্থিক, নিয়মনীতি)। স্থানীয় ক্রয়/ইজারা/ভাড়া/সুবিধা ইত্যাদি প্রয়োজনে সনাক্তকরণ এবং আলোচনার কাজ স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ/পেশাজীবীদের ব্যবস্থা করা। স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সম্ভাব্যতা নিরীক্ষার কাজ। যেকোন প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টেশন/ স্ট্যান্ডার্ড/ নির্দেশিকা/পলিসি ইত্যাদি প্রস্তুত করা৷ স্থানীয় পর্যায়ে পণ্যের/সেবার বিতরণ (বিক্রির) ক্ষেত্রে একচেটিয়া অধিকার৷ স্থানীয় পর্যায়ে পণ্যের/সেবার বিপণন/প্রচারের ক্ষেত্রে একচেটিয়া অধিকার। অন্যান্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা / সুবিধা/ নিরাপত্তা ইত্যাদি।
বাংলাদেশে সফল শিল্পায়নের প্রচেষ্টাটি ১০ বছর মেয়াদি একটি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনার ভিত্তিতে করা হবে৷ বাংলাদেশে রয়েছে ৬৪টি জেলা৷ শিল্পায়নের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রত্যেক জেলায় অন্তত একটি বহুজাতিক শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হবে৷ অতএব, মূল পরিকল্পনা হলো ৬৪টি জেলার মধ্যে অন্তত ৬৪টি বহুজাতিক শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হবে, যাতে ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি সফল “শিল্পোন্নত দেশ” হিসেবে গড়ে উঠতে পারে—যার কার্যক্রম শুরু হতে পারে ২০২৪ সাল থেকে, ইনশাআল্লাহ৷
শিল্পায়নের দশ বছর মেয়াদি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনার আওতায় প্রতি অর্থবছরের জন্য বার্ষিক কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে৷ এতে নিম্নের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে, বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীগুলো চিহ্নিত করা৷ স্থাপন হতে যাওয়া শিল্পগুলো নির্দিষ্ট করা। যে কয়টি শিল্পের সূচনা করা হবে, সেগুলোর তালিকা করা৷ যে-সব জেলায় সেই শিল্পগুলো প্রতিষ্ঠা করা হবে, সেই জেলাগুলো নির্দিষ্ট করা। যে-সব স্থানে শিল্পগুলো স্থাপন করা হবে, সেসব স্থান নির্ধারণ করা। বার্ষিক অর্জনগুলো পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে (যেমন; কেমন ও কতসংখ্যক চাকরি সৃষ্টি হবে, দেশের প্রত্যাশিত রাজস্ব, প্রত্যাশিত জিডিপি, প্রত্যাশিত পণ্য/পরিষেবার প্রকার ও পরিমাণ, জনসাধারণের সুবিধার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত উন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রত্যাশিত পর্যটক এবং অন্যান্য অর্জনযোগ্য উপাদান)।
সফল শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজন স্মার্ট জনশক্তির পাশাপাশি স্মার্ট কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা, যা স্মার্ট শিল্পায়ন তত্ত্বকে বাস্তবায়িত করতে সহায়তা করবে৷ সফল শিল্পায়নের জন্য স্মার্ট কৌশলের মৌলিক উপাদানগুলো নিম্নরূপ:
সরাসরি রাষ্ট্রপতি / প্রধানমন্ত্রী /প্রধান উপদেষ্টার তত্ত্বাবধানে নেতৃত্বের কাজ সমন্বয় ৷ প্ৰযুক্তিগত জ্ঞান৷ স্মার্ট টুলস। স্মার্ট নেটওয়ার্কিং ও যোগাযোগ৷
স্মার্ট সহযোগিতা-সমন্বয়৷ সুযোগ বৃদ্ধি এবং সমস্যা হ্রাস। মডেল এবং তার বাস্তবায়নকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করে ডিজিটালাইজ করা, পর্যায়ক্রমিকভাবে৷ ধারাবাহিক পর্যালোচনা কার্যক্রম (নীতিমালা, পরিকল্পনা, কৌশল, টুলস, প্রক্রিয়া এবং কর্মকাণ্ড)।
একটি পাইলট প্রকল্প দিয়ে শুরু করা এবং স্মার্ট কৌশল দিয়ে ধাপে ধাপে অগ্রগতি সাধন করা৷ প্রয়োজনীয় দক্ষতাগুলো নির্ধারণ করা। অর্জনযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণ করা। উৎপাদন ও পরিষেবার জন্য স্মার্ট ম্যানুয়াল/সারগ্রন্থ। একটি স্মার্ট মিশন এবং ভিশন প্রণয়ন করা। বৈশ্বিক স্ট্যান্ডার্ডের সাথে সংগতিপূর্ণ মানসম্পন্ন গাইডলাইন৷ ডাটা বিশ্লেষণ এবং বৈশ্বিক কর্পোরেট নেটওয়ার্কিংয়ে বিশেষজ্ঞতা৷ অর্জনযোগ্য সফলতাসহ একটি ইকোসিস্টেম/বাস্তুতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা। ধারাবাহিক স্মার্ট গবেষণা ও উন্নয়ন। বাংলাদেশের শিল্পায়ন পরিকল্পনা সাধারণ শিল্পায়ন তত্ত্বের তুলনায় বেশ ব্যতিক্রমী হবে। এই শিল্পায়ন পরিকল্পনা মূলত বহুমাত্রিক বিদেশি বিনিয়োগকারী, উৎপাদক, ব্যবসায়ী এবং সরবরাহকারীদের সহযোগিতার মাধ্যমে প্রণীত হবে৷
অতএব, এই শিল্পায়ন পরিকল্পনায় প্রধান ফোকাস থাকবে বিদেশি ব্যবসায়িক এবং কর্পোরেট গোষ্ঠীগুলোর উপর, পাশাপাশি কিছু নির্বাচিত সরকারের সাথেও কাজ করা যেতে পারে৷ শিল্পায়ন পরিকল্পনায় সফল লক্ষ্য অর্জনের জন্য টেকসই লক্ষ্যমাত্রাসহ বিদেশি বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক এবং কর্পোরেট গোষ্ঠীগুলোতে ফোকাস করা কার্যকরী পন্থা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে৷ কারণ, বিদেশি কর্পোরেট গ্রুপগুলোর সাথে ব্যবস্থাপনা এবং আলোচনা সম্পন্ন করতে কেবল বন্ধুপ্রতিম আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন হয়, যা কম পরিশ্রমের মাধ্যমে শিল্পায়নের পথে প্রকৃত সফলতা আনতে পারে৷
পক্ষান্তরে, শিল্পায়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বিদেশী সরকারের ওপর নির্ভর করলে অনেক বেশী পরিশ্রম এবং আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন হতে পারে, যা অপ্রত্যাশিত বিপত্তি এবং বাধার সৃষ্টি করতে পারে৷ বাংলাদেশের শিল্পায়ন পরিকল্পনার কার্যপদ্ধতি নিম্নে উল্লিখিত প্রক্রিয়ায় সুপারিশ করা হল,
সরকারের সাথে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় (বিটুজি) নির্বাচিত বিদেশি কর্পোরেট গ্রুপগুলোর সাথে বাংলাদেশ সরকারের একটি স্মার্ট সহযোগিতা-সমন্বয় কার্যক্রম প্রতিষ্ঠিত হবে, যা সরাসরি রাষ্ট্রপতি / প্রধানমন্ত্রী / প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক পরিচালিত হবে৷
ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সাথে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় ( বিটুবি) নির্বাচিত বিদেশি কর্পোরেট গ্রুপগুলোর সাথে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক গ্রুপগুলোর একটি স্মার্ট সহযোগিতা কার্যক্রম প্রতিষ্ঠিত হবে, যা সরাসরি রাষ্ট্রপতি / প্রধানমন্ত্রী / প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক পরিচালিত হবে৷
নির্বাচিত বিদেশি সরকারী সংস্থাগুলোর সাথে বাংলাদেশ সরকারের একটি স্মার্ট সহযোগিতা কার্যক্রম প্রতিষ্ঠিত হবে, যা সরাসরি রাষ্ট্রপতি / প্ৰধানমন্ত্রী / প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক পরিচালিত হবে। নির্বাচিত বিদেশি সরকারি সংস্থাগুলোর সাথে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক গ্রুপগুলোর একটি স্মার্ট সহযোগিতা কার্যক্রম প্রতিষ্ঠিত হবে, যা সরাসরি রাষ্ট্রপতি / প্রধানমন্ত্রী / প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক পরিচালিত হবে৷ নির্বাচিত বিদেশি কর্পোরেট গ্রুপগুলোর সাথে (যাদের বিদেশি সরকারি সংস্থাগুলোর সাথে অংশীদারিত্ব আছে) বাংলাদেশের ব্যবসায়িক গ্রুপগুলোর (যাদের বাংলাদেশের সরকারি সংস্থাগুলোর সাথে অংশীদারিত্ব আছে) একটি স্মার্ট সহযোগিতা কার্যক্রম প্রতিষ্ঠিত হবে, যা সরাসরি রাষ্ট্রপতি / প্রধানমন্ত্রী / প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক পরিচালিত হবে৷ বাংলাদেশে টেকসই সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব তৈরি করতে সক্ষম শিল্পায়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য স্মার্ট পদ্ধতি ও কৌশল গ্রহণ করা জরুরি৷ যথাযথভাবে পদ্ধতি ও কৌশল গ্রহণ করে শিল্পায়ন প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক মানের সমপর্যায়ে পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখা হবে৷ নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি ও কৌশলের তালিকা তুলে ধরা হল-
কার্যকর শিল্পায়নের জন্য প্রযুক্তিগত দক্ষতা সম্পন্ন একটি স্মার্ট টিম থাকা উচিত৷ কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা৷ আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নীতি, নির্দেশিকা এবং স্ট্যান্ডার্ড। প্রামাণ্য ডাটাবেজ, যাতে থাকবে।
সর্বোচ্চ সংখ্যক বিদেশি দর্শনার্থী টানার লক্ষ্য নিয়ে দ্বিবার্ষিক “বাংলাদেশ সফর পরিকল্পনা”। শিল্পায়ন কেন্দ্রিক বিষয়বস্তুর ওপরে বিশেষায়িত শীর্ষসম্মেলন ও ফোরামের আয়োজন৷ বাংলাদেশে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে টেকসই এবং অর্জনযোগ্য লক্ষ্য নিয়ে সফল শিল্পায়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য স্মার্ট প্রযুক্তিগত দক্ষতার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি৷ শিল্পায়নের প্রসার এবং এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে কর্পোরেট এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে কার্যকর সচেতনতা তৈরি করা৷ শিল্পায়ন এবং এর প্রভাব সম্পর্কে জানাশোনা এবং পেশাদারিত্ব। শিল্পায়নের সব স্তরে উদ্ভাবনী পদক্ষেপ নিশ্চিত করা। শিল্পায়ন প্রক্রিয়ায় রূপান্তর, সংস্কার ও পরিবর্তনের গুরুত্ব সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তোলা৷
বাংলাদেশে শিল্পায়ন প্রক্রিয়া, অগ্রগতি এবং অর্জনের অংশ হিসেবে দেশ ও জাতি নিম্নে উল্লিখিত দিকগুলো অর্জন করবে বলে আশা করা যাচ্ছে-
টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। জাতীয় জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি৷ ব্যবসা-উদ্যোক্তা মানসিকতা সম্পন্ন জাতি হিসেবে উল্লেখযোগ্যভাবে দারিদ্র বিমোচন৷ নাগরিকদের জন্য মানসম্মত বেতন ও সুবিধাসহ সর্বোচ্চ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। দেশের খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার মত মৌলিক চাহিদাগুলো পূর্ণ করা। জাতিকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা; যাদের বৈশ্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য জ্ঞান, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা থাকবে, যারা মানসম্পন্ন পণ্য, সেবা এবং কর্মক্ষমতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং বৈশ্বিকভাবে প্রশংসা লাভ করবে৷ মানসম্মত পণ্য ও সেবা উৎপাদনে সক্ষম হওয়া৷ দেশ, জাতি ও পরিবেশ-বাস্তুতন্ত্রকে উন্নত দেশগুলোর কাতারে নিয়ে যাওয়া৷ রপ্তানি সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করে জাতীয়, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক চাহিদায় অবদান রাখা৷ প্রত্যেকের জন্য মানসম্মত জীবনযাপনের সুবিধা নিশ্চিত করা৷
সরকারি সেবাখাতগুলোকে মানসম্মত করা৷ গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য ও সেবা রপ্তানি করে একটি মাল্টি-ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার তৈরি করা। রপ্তানি সংস্কৃতিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা (ডলার ইত্যাদি) উপার্জন করা৷ ধাপে ধাপে দেশের ঋণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করা৷ কর্পোরেট বিশ্বে ব্যবসায়িক সুযোগ ও সুনামকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। বৈশ্বিক শিল্প ও কর্পোরেট নেতাদের মধ্যে আস্থা তৈরি করা, তাদেরকে দেশে সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি পরিকল্পনায় অংশগ্রহণে আগ্রহী করা। বিনিয়োগকারী, শিল্পপতি, প্রস্তুতকারক, ব্যবসায়ী, প্রমোটার, কর্পোরেট ও পেশাজীবীদের জন্য বাংলাদেশকে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা।
লেখক:
প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ
সিনিয়র অধ্যাপক, অর্থনীতি ও বিনিয়োগ
কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদি আরব
প্রাক্তন পরিচালক, আইসিসিআই, এসিআইজি, সৌদি আরব
profdrmasumbillah@yahoo.com | Mob: 00966 535794028
জনতার আওয়াজ/আ আ