বা‌জে‌টে অর্থমন্ত্রীর ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‘ক্লাইন্টদের’ স্বার্থ রক্ষা হয়েছে: ডা. জাফরুল্লাহ - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ১০:১৭, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বা‌জে‌টে অর্থমন্ত্রীর ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‘ক্লাইন্টদের’ স্বার্থ রক্ষা হয়েছে: ডা. জাফরুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, জুন ১০, ২০২২ ১:১৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, জুন ১০, ২০২২ ১:১৮ অপরাহ্ণ

 

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

বাজেটে শ্রমিক কৃষকের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে, কর্পোরেট ব্যবসায়ীরা পাবেন সকল সুবিধা আর অর্থমন্ত্রীর ক্লাইন্টদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। শুক্রবার (১০ জুন) রাজধানীর পল্টন মোড়ে গণতান্ত্রিক গার্মেন্টস শ্রমিক ফোরাম আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বাজেট প্রসঙ্গে বলেন, ‘জনপ্রশাসন, আমলা, সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর জন্য ব্যয় হবে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রায় ৪২ %। চোখ বন্ধ করে বিভিন্ন দেশ থেকে যে ধার করেছেন তার সে ধার বাবদ যাবে প্রায় ১৬ শতাংশ। এর সবই শ্রমিক-কৃষকদের টাকা থেকে যাবে। কিন্ত কর্পোরেট ব্যবসায়ীদের পকেট থেকে দার শোধ হবেনা বরং তারা পাবে সকল সুবিধা। রাজনৈতিক দলগুলোকে বলবো, বাজেটে শ্রমিক-কৃষকের কথা না বলায়, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কথা না থাকায় আন্দোলন অব্যাহত রাখুন। কারণ কৃষক-শ্রমিকের মুক্তি না হলে দেশের মুক্তি হবে না। বাজেটে কৃষকের জন্য, শ্রমিকের জন্য কোথায় বরাদ্দ? উচ্চ পর্যায়ের অফিসারদের ঠিকই বরাদ্দ দিয়েছেন। এই বাজেট কৃষক শ্রমিকদের বাঁচার পথ দেখাতে পারেনি।’

তিনি বলেন, ‘দেশের প্রত্যেকটা জিনিসের মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে। সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় ঢাকায় বাবা-মা সন্তানসহ ৫ জনের পরিবারের খাবার খরচ যায় মাসে ২১ হাজার টাকা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, সরকারি মাস্তানের খরচ এই সব মিলিয়ে কত টাকা লাগে তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয় বোঝেন।’

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি একটা স্বপ্ন পূরণ হয়েছে, পদ্মা। আপনি পরিশ্রমে এতো ক্লান্ত, তার ওপর আবার তাহাজ্জুদের নামাজ পড়েন। এই ক্লান্তির কারণে সম্প্রতি আপনি গার্মেন্টস শ্রমিকদের সঙ্গে কি করেছেন তা কি একবার ভেবে দেখেছেন? বেতন বৃদ্ধি চাইলে আমও যাবে ছালাও যাবে, শ্রমিকদের আম-ছালা যাবে কিন্তু আপনার মসনদ থাকবে তো?’

এ সময় তিনি শ্রমিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনারা যেভাবে দেশকে ভালবাসেন, দেশের জন্য শ্রম দেন কিন্তু আপনারা কিভাবে চলাফেরা করেন সে ব্যাপারে সরকার বিন্দুমাত্র চিন্তা করে না। শ্রমিকদের শুধু ২০ হাজার টাকা বেতন দিলে হবে না। তাদের সন্তানকে বিনা বেতনে শিক্ষা দিতে হবে,পরিবহনের ব্যবস্থা করতে হবে। আমি দুবছর ধরে বলছি শ্রমিকদের রেশন দেন যে রেশন আপনি সামরিক বাহিনীতে দিয়ে যাচ্ছেন। যে রেশন পুলিশ-গোয়েন্দা বাহিনীকে দিয়ে যাচ্ছেন।মাসে মাত্র ৪০০ টাকা দিয়ে শ্রমিদের স্বাস্থবীমা মাধ্যমে বিনা পয়নায় সকল প্রকার অপারেশন ও ঔষধপত্রসহ চিকিৎসা ব্যবস্থা করতে হবে। ‘

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, আপনার নোবেল পুরস্কার পাওয়ার স্বপ্ন। নোবেল পুরস্কার পেতে হলে আপনাকে বহুবার বলেছি, আমাদের সুপারিশ সুচিন্তিতভাবে আপনাকে গ্রহণ করতে হবে। সেগুলো হচ্ছে, শ্রমিকদের বেতন, বাড়ি ভাড়ার সাবসিডি, চিকিৎসা ভাতা, তাদের সন্তানদের শিক্ষা খরচ দিতে হবে। তাহলে পৃথিবী বুঝবে আপনি কার পক্ষের লোক, এখন পৃথিবী জানে আপনি কর্পোরেট শক্তির লোক।’

তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতুর জন্য অবশ্যই অভিনন্দন জানাই তবে খোলা মনে অভিনন্দনটা জানাতে পারছি না। ১০ হাজার কোটি টাকার সেতু হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। হতে পারে, খরচ বেড়েছে, জীবনযাত্রার সবকিছুরই দাম বেড়েছে। কিন্তু অনুগ্রহ করে, হিসাবটা দেন।’

তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনার ছেলে জয় আমেরিকায় বসবাস করে বাংলাদেশ থেকে প্রতিমাসে কত টাকা বেতন ভাতা পায় দেশের মানুষ তার হিসাবটা জানতে চায়।‘

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান (জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, ‘জাতীয় সংসদে যে প্রায় সাত লাখ কোটি টাকার বাজেট দেয়া হয়েছে তার উৎস কী? এই বিশাল বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারেন শ্রমিক শ্রেণী। শ্রমিকেরা যদি উপেক্ষিত হয় ওই বাজেট বাস্তবায়ন সহজ হবে না। তাদের ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা খুবই সামান্য দাবি। যেভাবে নিত্যপণ্যের মূল্য বাড়ছে তাতে শ্রমিকের জীবনযাপন কঠিন হয়ে গেছে। শ্রমিক ভালো না থাকলে দেশের উন্নয়ন-উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হবে। সুতরাং ক্ষমতাসীন অগণতান্ত্রিক সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করতে হবে। আসুন কৃষক-শ্রমিক সব শ্রেণিপেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হই।’

ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘আমাদের গার্মেন্টস শ্রমিকরা আজকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ সহ চারদফা দাবি নিয়ে তারা আজকে রাজপথে নেমে এসেছে। তাদের রেশনিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালিন ছুটি এক বছর করা এবং পূর্ণ বেতন প্রদান করতে হবে। একইসাথে মালিকদের পক্ষ থেকে শ্রমিকদেরকে বীমার আওতায় আনতে হবে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের এসব দাবির প্রতি ভাসানী অনুসারী পরিষদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। রফতানি খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে শ্রমিকদের দাবি মেনে নেয়া অত্যাবশ্যক। কেননা শ্রমিকদের জীবনের কোনো উন্নয়ন না ঘটলে ও ন্যায্য মজুরি না পেলে রফতানি খাতও সঙ্কটে পড়বে। কেননা শ্রমিকেরা আজকে অমানবিকভাবে জীবনযাপন করছে। তবুও কাজ করে যাচ্ছে এবং রফতানি খাতকে বাঁচিয়ে রেখেছে। শ্রমিকদের দাবি না মানলে পরিণতি ভালো হবে না মন্তব্য করে বাবুল বলেন, বিএনপির উচিৎ হবে এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেয়া। তাহলে এই সরকার এক পর্যায়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হবে এবং দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে।’

সমাবেশে শেষে বিক্ষোভ মিছিল পুরানো পল্টন হতে বিজয় নগর কালভার্ট রোড হয়ে পল্টন মোড়ে গিয়ে মিছিল শেষ হয়। হুইল চেয়ারে বসে মিছিলে নেতৃত্ব দেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু। মিছিলে গণতান্ত্রিক গার্মেন্টস শ্রমিক ফোরামের নেতা কর্মীরা তাদের দাবী আদায়ের বিভিন্ন শ্লোগান দেন

গণতান্ত্রিক গার্মেন্টস শ্রমিক ফোরামের সভাপতি আব্দুল আলীম স্বপনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান জনাব মোস্তফা জামাল হায়দার, ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, ভাসানী অনুসারী পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আক্তার হোসেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মিন্টু মিয়া, ভাসানী অনুসারী পরিষদের ঢাকা মহানগর আহবায়ক হাবিবুর রহমান রিজু, শ্রমিক নেতা বাবুল বিশ্বাস, ভাসানী অনুসারী পরিষদের নেতা কাজী মোঃ নজরুল, শাফায়াত কামাল দিব্য, মোজাম্মেল হক মাস্টার প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ