বিএনপি ও জাপার কাছাকাছি আসার বিষয়টি নিয়ে রাজনীতিতে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ১১:৪২, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বিএনপি ও জাপার কাছাকাছি আসার বিষয়টি নিয়ে রাজনীতিতে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, এপ্রিল ৪, ২০২৩ ৩:২৭ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, এপ্রিল ৪, ২০২৩ ৩:৪১ পূর্বাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ

ওয়ান-ইলেভেনের পর প্রথমবারের মতো পরস্পরের ইফতার আয়োজনে যোগ দিয়েছে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি। রবিবার (২ এপ্রিল) হোটেল শেরাটনে জাপার ইফতারে অংশগ্রহণ করেন বিএনপির চার নেতা। পরদিন সোমবার (৩ এপ্রিল) বিএনপির ইফতারে যোগ দেন জাপার পাঁচ নেতা। ১৬ বছর পর বিএনপি ও জাপার কাছাকাছি আসার বিষয়টি নিয়ে রাজনীতিতে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপির প্রভাবশালী একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, ওয়ান-ইলেভেনের পর প্রথমবারের মতো বিএনপি ও জাপার কাছাকাছি আসাটা রাজনীতিতে নতুন বার্তা যোগ করবে। বিগত ২০০৯ সাল থেকেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন ঘনিষ্ঠতা প্রদর্শন করে আসছে জাতীয় পার্টি। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে প্রত্যক্ষভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ থেকেই রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে তারা। ২০০৯ সাল থেকে বিএনপি ও জাপার সম্পর্ক বিপরীতমুখী। বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতাদের পক্ষ থেকে জাপাকে বরাবরই ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ফলে এত দিনের দুমুখো সম্পর্কে এখন উষ্ণতা এসেছে।

গত রবিবার জাপার ইফতারে যোগ দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান মনিরুল হক চৌধুরী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম।

ইফতারের টেবিলে রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমরা চাই দেশের বর্তমান যে অবস্থা-তার থেকে উত্তরণ। দেশে জনগণের ভোটাধিকার নেই। ভোটাধিকারের অধিকারের প্রশ্নে সকল রাজনৈতিক দল, মত ও সংগঠন নির্বিশেষে একসঙ্গে আসুক-এটাই আমরা চাই। সরকার দেশের মানুষকে অতিষ্ট করে রেখেছে। জিনিসপত্রের দাম বাড়াচ্ছে, গ্যাস থাকছে না, মূল্য বাড়াচ্ছে; বিদ্যুৎ থাকছে না, দাম বাড়াচ্ছে; এসব থেকে মানুষকে রক্ষা করতে হলে সব দলমত নির্বিশেষে মানুষ সোচ্চার হোক, এটাই আমরা চাই।’

সোমবার বিএনপির ইফতারে অংশ নেন জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কাজী ফিরোজ রশীদ, মহাসচিব মজিবুল হক চুন্নু, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবুল হোসেন বাবলা ও ফখরুল ইমাম।

এই ইফতারে উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক দলের নেতার সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, নির্বাচনের আগে সরকার ও বিএনপি-উভয়পক্ষ থেকেই ডাক আছে জাতীয় পার্টির দিকে। সেক্ষেত্রে জাতীয় পার্টি চাইবে নিজেদের রাজনৈতিক দাম-দর নিয়ে সক্রিয় থাকতে। এর অংশ হিসেবেই পরস্পরের ইফতারে যোগ দিয়েছে বিএনপি-জাপা।

বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ কর্মসূচিতে যুক্ত একটি দলের প্রধান উল্লেখ করেন, ‘জাতীয় পার্টি হাওয়া বুঝে দিক ঠিক করবে। তারা এখন ঘুরবে। পরে দিক ঠিক করে ঝুঁকবে। তারা দেখবে কারা শক্তিশালী, সরকারপক্ষ; নাকি বিএনপিপক্ষ। যারা প্রভাব বিস্তারি হবে, তাদের পক্ষেই যাবে জাপা।’

আবার কোনও-কোনও নেতা এও বলছেন, ‘জাতীয় পার্টি দেশের আনুষ্ঠানিক বিরোধী দল। টেকনিক্যাল কারণেই বিএনপির ইফতারে জাপার অংশগ্রহণ গুরুত্ববহ।’

সোমবার বিএনপির ইফতারে অংশ নেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার দেশের ১৮ কোটি মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে মানুষকে এক কাতারে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ‘ভোটাধিকার’ ইস্যুটিই দেশের মানুষের মধ্যে এই ঐক্যের সৃষ্টি করেছে। কে কার সঙ্গে জোট করবে, যুগপৎ করবে, সেটা আরও পরের স্টেপ।”

জাতীয় পার্টির একাধিক নেতা মনে করেন, জাতীয় পার্টির পরামর্শকরা সব দিকেই সুসম্পর্ক ছড়িয়ে রাখার কৌশল অবলম্বনের পক্ষে। নির্বাচন ইস্যুতে এখনই জোট গঠন বা কোন পক্ষে যাবে, তা নিয়ে বলার সুযোগ নেই। একইসঙ্গে রওশন এরশাদের বিষয়টি যুক্ত। তিনি ইতোমধ্যে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। আবার জাপার ইফতারেও অংশ নেননি।

দলটির এক গুরুত্বপূর্ণ নেতার মন্তব্য, ‘বিএনপির অ্যাপ্রোচ ভালো। সে কারণে তারা ডাকে সাড়া দিয়েছে। আমরাও দিয়েছি।’

সোমবার রাতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, ‘রাজনীতিতে মুখ দেখাদেখির চল প্রায় নেই। এটা তো শোভন নয়। আমরা বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি, তারা এসেছেন; তারা আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, আমরা গিয়েছি। রাজনীতিতে এই সংস্কৃতি ফেরাতে হবে।’

প্রতিবেদকের এক প্রশ্নে বিরোধী দলীয় উপনেতা বলেন, ‘আমাদের মধ্যে ভাবের আদান-প্রদান হচ্ছে। ভবিষ্যতে কী হবে, সেটা তো বলতে পারি না।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ