বিএনপি ঘোষিত ১০ দফা জনগনের মুক্তির সনদ ও অধিকার প্রতিষ্টার দলিল : তারেক রহমান - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ২:০৯, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বিএনপি ঘোষিত ১০ দফা জনগনের মুক্তির সনদ ও অধিকার প্রতিষ্টার দলিল : তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, ডিসেম্বর ১৭, ২০২২ ৩:২৮ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, ডিসেম্বর ১৭, ২০২২ ৩:৫৮ অপরাহ্ণ

 

মহান বিজয় দিবস-২০২২ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভাষণ।

আব্দুল আজিজ

গণতন্ত্রকামী জনগণ আপনাদেরকে জানাই ৫১তম মহান বিজয় দিবসের প্রানঢালা শুভেচ্ছ। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে আনুষ্টানিক ভাবে যে মুক্তিযোদ্ধ শুরু হয়েছিল। লাখ মানুষের আত্নত্যাগ ও হাজারো মাবোনের সম্রমের বিনিময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অসম সাহসিকতায় ১৯৭১ সালের ঐদিনে অর্জিত হয়েছিল বাংলাদেশের সুমহান বিজয়। বিজয়ের এই দিনে আমি সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধারা যে স্বপ্ন আশা আখাঙ্কা নিয়ে দেশটি স্বাধীন করেছিলেন হানাদার বাহিনীকে উঠিয়ে দিয়ে যে গৌরবজনক বিজয় অর্জন করেছিলেন সেই বাংলাদেশটি বর্তমানে মাফিয়া চক্রের কবলে পরে হারাতে বসেছে বিজয়ের সুমহান মর্যাদ।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূলমন্ত্র ছিল সাম্য মানবিক মর্যাদা সামাজিক সুবিচার। প্রায় দেশবাসী দূরভাগ্য জনক হলেও সত্য স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামীলীগ সরকার রাষ্ট্র ও সমাজে মুক্তি যোদ্ধের মূলমন্ত্র প্রতিষ্টা করতে পারেনি। তারা গনতন্রকে করেছিল হত্যা মানুষের বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল। দেশে দুর্নীতি গুম, খুন, অপহরণ ও নৈরাজ্য কায়েম করেছিল। ১৯৭৫ সালে ৭ই নবেম্বর সকল নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে রোখে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। অপশক্তিকে পরাজিত করে স্বাধীনতার ঘোষকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ফিরছিলো সমৃদ্ধির দারায়। ১৯৭৫ সালের ৭ই নবেম্বরের পরাজিত অপশক্তি মহাজোটের নামে একজোট হয়ে আজ আবারো দেশে সর্বক্ষেত্রে নৈরাজ্য কায়েম করেছে। আওয়ামী অপশক্তির নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ ভাবে আজ আবারো ৭৫ এর ৭ই নবেম্বরের চেতনায় উজ্জীবিত সমগ্র বাংলাদেশ।

মাফিয়া চক্রের সকল বাঁধা মোকাবেলা করে নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে এবং ভোটের অধিকারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লক্ষ কুটি মানুষ নেমে এসেছে রাজপথে। বিএনপির আহবানে সাড়া দিয়ে মানুষের অধিকারের দাবিতে সম্প্রতি ঢাকা সহ সারাদেশে রাজপথে। বিএনপির আহবানে সাড়া দিয়ে মানুষের অধিকারের দাবিতে সম্প্রতি ঢাকা সহ সারাদেশে ১০ বিভাগীয় সমাবেশে হাজির হয়ে মুক্তিকামী জনতা বার্তা দিয়েছে মাফিয়া চক্রের সময় শেষ জনগনের বাংলাদেশ। প্রিয় দেশবাসী দেশের জনগণ সাক্ষী গণতন্ত্রকামী মানুষ যাতে বিএনপির গনসমাবেশে হাজির হতে না পারে এজন্য মাফিয়া সরকার সকল রকমের অপচেষ্টা চালিয়েছিল দলীয় ক্যাডার ও পুলিশের ইনিফর্ম পরিয়ে একটি সন্ত্রাসী চক্রকে জনগনের পিছনে লেলিয়ে দিয়েছিল বিএনপির সমাবেশ বানচাল করতে এই সন্ত্রাসী চক্র সমাবেশে পাখিরমত গুলি করে বিএনপির নেতা কর্মীদের হত্যা করেছে আহত করেছে অসংখ্য মানুষকে।

বিএনপির মহাসচিব জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ সহ সারা দেশে হাজারো নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে কারাবন্দি করা হয়েছে। সারা দেশে বিএনপি নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দিয়ে হয়রানি অব্যাহত রয়েছে,কিন্তু এত কিছুর পরেও নিজের অধিকার আদায়ের দাবীতে সোচ্চার মুক্তিকামী মানুষকে এই ফ্যাসিস্ট সরকার দমিয়ে রাখতে পারেনি। সারা দেশে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী সমর্তক এবং মুক্তিকামী মানুষ যারা মাফিয়া সরকারের হুমকি ধামকি আর পুলিশের ইউনিফৰ্মদারী সন্ত্রাসীদের গুলি বন্দুকের নলের ভয় উপেক্ষা করে যে ভাবে বিএনপির প্রতিটি সমাবেশকে সফল করেছে আমি সে সকল সাহসী মুক্তিকামী সাহসী মানুষদের জানাই আন্তরিক অভিন্দন। প্রিয় দেশবাসী,যে জাতি মাতৃ ভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে অকাতরে প্রাণ দিতে পেরেছে ,যে জাতি মুক্তিযোদ্ধ করে একটি স্বাধীন দেশ করতে পেরেছে তাদেরকে শেখ হাসিনা বর্বর বন্দীখানা আয়না ঘর কিংবা সীমান্তের ওপারে রেখে আসার ভয় দেখিয়ে আর দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। জনগনের দাবি আদায়ে বিএনপি গত ১০ই ডিসেম্বর ১০ দফা দাবি দিয়েছে এই ১০ দফা বিএনপির একক কোন দলীয় কর্মসূচি নয় বরং এই ১০ দফা জনগনের মুক্তির সনদ। এই ১০ দফা জনগনের অধিকার প্রতিষ্টার দলিল। এই ১০ দফা দাবির প্রতি ইতিমধ্যে বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি, গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি সর্বাত্বক সমর্তন জানিয়েছে।

প্রিয় দেশবাসী, আমি বিশ্বাস করি,আমাদের দল বিশ্বাস করে দেশের জনগণই বিনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। জনগণ যদি ক্ষমতাবান থাকে তাহলে একটি দেশ কখনো পথ হারাতে পারেনা,এবং তাই দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য, নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষারজন্য সর্বপরি গণমুখী রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য জনগনের ক্ষমতায়ন প্রয়োজন,জনগনের ক্ষমতায়নের পূর্বশর্ত প্রতিটি নাগরিকের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা।
দেশের জনগনের ভোটের অধিকার নেই বলেই আজ বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনায় মাফিয়া চক্র। জনগনের ভোটের অধিকার নেই বলে এখনো দেশের আইন সভায় বেআইনি সদস্য। জনগনের ভোটের অধিকার নেই বলে এখন বিচার বিভাগে অবিচার। দুদুকের দুর্নীতি,শঙ্খলাহীন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী শিক্ষাঙ্গণে সন্ত্রাসী,ব্যাংক গুলো প্রায় দেউলিয়া, মানুষের দিন কাটছে অর্ধাহারে অনাহারে। লুটপার আর টাকা প্রাচার আর বেপরোয়া দুর্নীতি । এক কথায় সর্বক্ষেত্রে নৈরাজ্য কোথায় কোন জবাবদিহিতা নাই।

প্রিয় তরুণ প্রজন্মের ভাই ও বোনেরা, এই অবস্থা চলতে দেওয়া যায়না,এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য বায়ান্ন এবং একাত্তরের মতো তরুণরাই সবচেয়ে বেশি সাহসী ভূমিকা রাখতে পারে। গত একযোগে প্রায় আড়াই কোটিরও বেশি তরুণ ভোটার তালিকায় অন্তর্বুক্ত হয়েছে,তবে এই তরুণরা ২০১৪ কিংবা ২০১৮ কোনবারই ভোট দেবার সুযোগ পায়নি । তাই গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রতি আমি উদাত্ব আহবান জানিয়ে বলতে চাই ভোটের অধিকার অর্জনের দাবি আদায়ে এবার যেকোন মূল্যে ঐক্যবদ্ধ থাকুন। ভোটের অধিকারের দাবি আদায়ে চলমান গন আন্দোলনে শামিল।

প্রিয় দেশবাসী, আমি জানি ভোটের অধিকার আদায়ের মিছিলে যোগদানের কারনে অনেকেই হয়তো মাফিয়া চক্রের রোষানলে পড়তে পারেন,অনেকে ক্ষতির সম্মুক্ষিন হতে পারেন,তবে আমরা যদি ঐকবদ্ধ ভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারি তাহলে ভোটডাকাতরা অবশ্য পিছু হটতে বাধ্য হবে। আমরা যদি ভোটের অধিকার আদায় করতে সক্ষম হই,আমরা যদি গণতান্ত্রিক অধিকার গুলি আদায়ে সক্ষম হই তাহলে ঐক্যবদ্ধ সাহসী ভূমিকার কারনে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি গণতান্ত্রিক মানবিক দেশ দেখতে পাবে ।

প্রিয় দেশবাসী, নতুন প্রজন্মের প্রিয় ভাইও বোনেরা ভোটের অধিকার প্রতিটি ভোটারের একান্ত অধিকার । আপনার ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য আপনারা আমার হাতকে শক্তিশালী করুন,আপনার এই একান্ত অধিকার আদায়ের মিছিলে আমি এবং আমাদের দল বিএনপি আপনাদের সঙ্গে আছি ইনশাআল্লাহ থাকবো। ভোটের অধিকার আদায় না হয় পর্যন্ত আমাদের মিছিল সমাবেশ প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। আপনার ভোটের অধিকার আদায়ের মিছিলে আমার কিংবা আমাদের থাকার অর্থ এই নয় যে আপনার ভোটটি আমাকে কিংবা আমার দলকে দিতে হবে বরং আমি চাই, আমরা চাই, বিএনপি চায় নাগরিকদের ভোটের অধিকার প্রতিষ্টা করতে। আমরা চাই প্রতিটা নাগরিক তার ভোটের অধিকার যেন ফিরে পায়। দিনের বেলায় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেই নিজের ভোটটি যাকে ইচ্ছা তাকে দিক। সুতরাং নিজেদের অধিকার সমুন্নত রাখার স্বার্থে দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকে ভোটের অধিকার আদায়ের মিছিলে শামিল হওয়ার আহবান জানাই। অধিকার আদায়ের এই মিছিলে গণতন্ত্রকামী মানুষের সক্রিয় অংশ গ্রহণ চলমান আন্দোলনকে সফলতায় পৌঁছে দিবে ইনশাআল্লাহ।

প্রিয় দেশবাসী, মাফিয়া সরকার পুলিশ প্রশাসনকে জনগনের মুখমুখী দাঁড় করিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে ,তবে জনগণ বিশ্বাস করে অধিকাংশ পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আইনানুগ দায়িত্ব পালনের পক্ষে। কিন্তু অবৈধ সুযোগ সুবিধার আশায় গণতন্ত্রকামী জনগনের সঙ্গে পুলিশের ইউনিফর্ম পরা একটি চিহ্নিত চক্রের আচরণ সন্ত্রাসীদের মত । আমি দেশের জনপ্ৰশাসন বিশেষ করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহবান জানিয়ে বলতে চাই মাফিয়া সরকারের অবৈধ ক্ষমতার লিপ্সা মিটাতে আপনারা আর নিজেদেরকে ব্যবহার করবেননা। একজন মাত্র ব্যক্তির অবৈধ ক্ষমতার খায়েশ মিটাতে গিয়ে এখন সারা বিশ্বে বাংলাদেশের র্যাব পুলিশের ইমেজ কলঙ্কিত। দেশে বিদেশে সবাই জানে নিশি রাতের সরকারটি জনগনের ভোটে নির্বাচিত নয়।

নিশিরাতে ভোট ডাকাতি করে শেখ হাসিনা ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছে । সুতরাং এই মাফিয়া সরকারকে রক্ষা করতে আপনারা আর জনগনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিবেননা। জনগনের দিকে বন্দুক তাক করবেন না। আপনারা সরকারের অবৈধ আদেশ মানতে বাধ্য নন। আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই বিএনপি প্রতিশোধ প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশেষ করেনা। সুতরাং কারোরই কোন ভয়নেই। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচিত ভবিষৎ গণতান্ত্রিক সরকার কারো বিরুদ্ধে বেআইনি কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করবেনা।

প্রিয় দেশবাসী, চলমান এই আন্দোলন দেশ নৈরাজ্য মুক্ত করার আন্দোলন। চলমান এই আন্দলোন ভোটের অধিকার প্রতিষ্টার আন্দোলন। চলমান এই আন্দোলন স্বাধীনতা সুরক্ষার আন্দোলন।

প্রিয় দেশবাসী ,পরিশেষে আমি আবারো সকলকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি। জনগনের বিজয় সুনিচ্ছিত ইনশাআল্লাহ।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দাবাদ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ