বিএনপি বাংলাদেশে নব্য হানাদার: তথ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০২৩ ৩:১৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০২৩ ৩:১৭ অপরাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক
বিএনপি বাংলাদেশে নব্য হানাদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে মন্তব্য করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাংলাদেশের নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করেছে, গ্রামে গ্রামে ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। তেমনি বিএনপ্মি আজকে নিরহ মানুষের উপর বোমা নিক্ষেপ করছে, সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে মারছে, গাড়ি-ঘোড়ায় আগুন দিচ্ছে এবং ট্রেন লাইন উপড়ে ফেলছে। তাই তারা নব্য হানাদার হিসেবে আজ আবির্ভূত হয়েছে।
শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) আয়োজিত বিজয় র্যালীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন ।
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আজকে পাকিস্তান আমাদের দেখে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। যখন আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম, তখন পাকিস্তানের অনেকে আত্মতৃপ্তির জন্য বলেছে, বাঙালিরা চলে গেছে ভালো হয়েছে। আজকে পাকিস্তানীরা বলে, দয়া করে আমাদের বাংলাদেশ বানিয়ে দাও। এখানেই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ গঠন ও জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ পরিচালনার সার্থকতা। আমরা অর্থনৈতিক সূচক, মানব উন্নয়ন সূচক, সামাজিক সূচক, স্বাস্থ্য সূচকসহ সমস্ত সূচকে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছি। আমরা ভারতকেও সামাজিক সূচক, মানব উন্নয়ন সূচকে, স্বাস্থ্য সূচাকে পেছনে ফেলেছি। জিডিপিতে ২০২১ সালে আমরা ভারতকে পেছনে ফেলেছিলাম।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা পৃথিবীর ৯১তম দেশ। কিন্তু আমরা ধান উৎপাদনে পৃথিবীতে তৃতীয়, মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে পৃথিবীতে তৃতীয়, সবজি উৎপাদনে পৃথিবীতে চতুর্থ, আলু উৎপাদনে পৃথিবীতে সপ্তম। এগুলো কোনো জাদুর কারণে হয়নি। এগুলো হয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনার জাদুকরী নেতৃত্বের কারণে। আজকে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ, আজকে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ। আমাদের এই অগ্রযাত্রা আরো অনেক দূর হতে পারতো, যদি বাংলাদেশে নেতিবাচক রাজনীতি, ধ্বংসাত্মক রাজনীতি না থাকতো। এই দুটি বিষয় না থাকলে আজকে বাংলাদেশ বহুদূর এগিয়ে যেতে পারতো।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিকদের যেভাবে পিটিয়েছে ২৮ অক্টোবর আমি এর ধিক্কার জানাই। আপনারা (সাংবাদিক) বিচারের কথা বলেছেন, প্রত্যেকের বিচার হবে। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন প্রত্যেকের বিচার হচ্ছে, রায় হচ্ছে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘এই শেখ হাসিনার সরকার আমাদেরকে বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করেছেন। সে কারনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন মনে করে শেখ হাসিনা যদি রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকে তাহলে সাংবাদিকদের অনেক বেশি সক্রিয় থাকার সুযোগ তৈরি হবে। হ্যা, এটা সত্যি কথা আমরা কি সব কিছু পেয়েছি। না, কিছু কিছু জায়গায় আমাদের ঘাটতি রয়েছে। আমাদের আরো অনেক দাবি-দাওয়া ছিলো। সবগুলো পেলে আমরা খুশি হতাম। ২৮ শে অক্টোবর যারা ৩২ জন সাংবাদিককে হামলা করেছেন তাদের সবাইকে যদি বিচারের আওতায় আনা হতো তাহলে আমরা আরো বেশি খুশি হতাম। অথবা হেলমেট বাহিনী যখন আমাদের সাংবাদিকদের নির্যাতন করেছিলো, তাদের যদি আইনের আওতায় আনা যেতো আমরা খুশি হতাম। তারপরও বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে বলে আমরা সাংবাদিক হয়েছি। সুতরাং এ স্বাধীনতা যার নেতৃত্বে এসেছে তার দলের পক্ষে সাংবাদিক সমাজ চিরাচরিত ভাবে দাড়াবে।’
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন, সহ সভাপতি এম এ কুদ্দুস, মানিক লাল ঘোষ ও দপ্তর সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান সহ প্রমুখ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রেসক্লাবের ভিতরে বিজয় র্যালী অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বিজয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে জাতীয় প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক কমান্ড, বঙ্গবন্ধু সাংবাদিক পরিষদ, ঢাকা সাংবাদিক পরিবার বহুমুখী সমবায় সমিতি লি, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র, জাতীয় প্রেসক্লাব কর্মচারী ইউনিয়ন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) ও বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন।
জনতার আওয়াজ/আ আ