বিএনপিকে আসিফ মাহমুদের হুঁশিয়ারি ২০২৬-২৭ সালে গণ-অভ্যুত্থানের ইঙ্গিত - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:৫৮, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বিএনপিকে আসিফ মাহমুদের হুঁশিয়ারি ২০২৬-২৭ সালে গণ-অভ্যুত্থানের ইঙ্গিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, এপ্রিল ৫, ২০২৬ ৯:৫৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, এপ্রিল ৫, ২০২৬ ৯:৫৫ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
ক্ষমতাসীন দল বিএনপির উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। গণভোটের রায়কে না মানলে ২০২৬-২৭ সালে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পতনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

গণভোটের রায়কে না মানলে সরকারকে অবৈধ আখ্যায়িত করে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, বিএনপি সরকার প্রায়ই বলে আগামী ১৫-২০ বছরেও দেশে কোনো গণ-অভ্যুত্থান হবে না। কিন্তু ইতিহাসে এর নজির রয়েছে। ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন যখন রক্ষা করা যায়নি, তখনই ৭১ সংঘটিত হয়েছিল। একইভাবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন ও চেতনা যদি রক্ষা করা না যায়, তবে ২০২৬ বা ২০২৭ সালে আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

রবিবার (৫এপ্রিল) রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন হুঁশিয়ারি দেন।

গণভোটের গণরায় উপেক্ষা ও রাষ্ট্র সংস্কারের জরুরি অধ্যাদেশ বাতিল এবং সমসাময়িক বিষয়ে এ জরুরি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।

এনসিপির মুখপাত্র অভিযোগ করেন, সরকার যে যে প্রক্রিয়াগুলো অবলম্বন করছে, এর মধ্য দিয়েই স্বৈরাচারের জন্ম হয়। বিগত সময়ে যে ফ্যাসিবাদ দেখা গেছে, এখন সেই স্বৈরাচারের সব লক্ষণ বর্তমান সরকারের মধ্যে ফুটে উঠছে।

তিনি বলেন, গণভোটের রায় না মানলে সেদিন থেকেই এই সরকারকে অবৈধ সরকার বলা শুরু করবো। এর জন্য আমরা সময় নেবো না। আপনারা যেমন আমাদের সব অর্জন ধূলিসাৎ করে দেওয়ার জন্য সময় নিচ্ছেন না, আমরাও সময় নেবো না।

জিয়াউর রহমানের আমলের গণভোটের সঙ্গে এই গণভোটের পার্থক্য রয়েছে দাবি করে আসিফ বলেন, দুই গণভোটের সুস্পষ্ট পার্থক্য আছে। জিয়াউর রহমানের সময় বিভিন্ন এজেন্সিকে ব্যবহার করে একটা কিংস পার্টি তৈরি করার জন্য গণভোট করা হয়েছিল। কিন্তু এবারের গণভোট হয়েছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের লক্ষ্যে। গণভোটে জনগণ কাঠামোগত সংস্কারের পক্ষে হ্যাঁ ভোট দিয়েছে।

জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়ে বিএনপি সংবিধান লঙ্ঘন করেছে বলেও অভিযোগ করেন আসিফ। তিনি বলেন, বিএনপিকে সংবিধানের কথা বলতে দেখি। অথচ প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে তারা নিজেরাই সংবিধান লঙ্ঘন করছে। সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি নিয়োগের ক্ষেত্রে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকতে হবে। অথচ পূর্ববর্তী অধ্যাদেশগুলো বহাল রাখার মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগের হাতে এমন ক্ষমতা রেখে দেওয়া হচ্ছে, যাতে যে-কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধিকে যে-কোনো সময় অপসারণ করা যায়। এতে বিরোধী দলের কেউ নির্বাচিত হলে তাকে অপসারণের ভয় দেখিয়ে অনুগত ‘প্রশাসক’ বানিয়ে রাখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা সুস্পষ্ট সংবিধান লঙ্ঘন।

ফোনে আড়ি পাতার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনসিপির মুখপাত্র। তিনি বলেন, আওয়ামী শাসনামলে ১৮-১৯টি এজেন্সির মানুষের ব্যক্তিগত ফোনে আড়ি পাতার ক্ষমতা ছিল। তাদের ওপর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকার সেই ক্ষমতা কমিয়ে মাত্র ৪টি প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ করেছিল এবং আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই সংস্কারধর্মী অধ্যাদেশটি বাতিল করে আবারও ১৮-১৯টি এজেন্সির হাতে অবাধে আড়ি পাতার ক্ষমতা ফিরিয়ে দিচ্ছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ