বিএনপির যুগপৎ আন্দোলন বর্তমানে যেভাবে চলছে তা এপ্রিল পর্যন্ত চলবে - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ২:৫০, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বিএনপির যুগপৎ আন্দোলন বর্তমানে যেভাবে চলছে তা এপ্রিল পর্যন্ত চলবে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, মার্চ ২৫, ২০২৩ ৪:০২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, মার্চ ২৫, ২০২৩ ৪:০২ অপরাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ
ক্ষমতাসীন সরকারকে হঠাতে যুগপৎ আন্দোলন করছে বিএনপি এবং সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। সরকারের পদত্যাগ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ বিভিন্ন দাবিতে বিএনপিসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো মাঠ গরম করছে। যুগপৎ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া বিএনপি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির মতো জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে আপাতত আরও কর্মসূচি দেবে।

এই যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি নির্ধারণে সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং জোটগুলোর সাথে বৈঠকও করছে বিএনপি। এসব বৈঠকে যুগপৎ আন্দোলনের পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে দলটি চূড়ান্ত আন্দোলনের যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্তও নিয়েছে। আর এই চূড়ান্ত আন্দোলন মে মাসে আংশিক শুরু করবে বলে জানা গেছে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, চলমান যুগপৎ আন্দোলন বর্তমানে যেভাবে চলছে তা এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। সে কারণে রমজান জুড়েও বিএনপি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে শুক্রবার (২৪ মার্চ)।

রমজানে রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণার ইচ্ছা না থাকলেও সরকার বিএনপিকে কর্মসূচি দিতে বাধ্য করেছে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, দেশে সাধারন মানুষ কষ্টের মধ্যে দিন যাপন করছে। প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়েছে। দেশে এমন সরকার রয়েছে যারা নির্বাচিত নন। বিএনপি আন্দোলন করছে একটি তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে। সারা দেশে রমজানের মাঝেও আন্দোলন চলমান থাকবে।

কর্মসূচি ঘোষণা করতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন,গ্যাস বিদ্যুৎ সহ নিত্য পণ্যের দাম বৃদ্ধির দাবিতে ১ এপ্রিল সকল জেলায় ২ টা – ৪ টা অবস্থান কর্মসূচি । ৮ এপ্রিল ৩ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত মহানগর, জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে অবস্থান কর্মসুচি। ৯-১৩ই এপ্রিল প্রচারপত্র বিলি, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি। এছাড়া ২৮ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সভা সমাবেশ মতবিনিময় সভা বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে কর্মসূচি

এ সময় তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আনন্দোলন চলমান রাখতে চাই।

এদিকে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সরকার পতনে চূড়ান্ত আন্দোলনে কি ধরণের কর্মসূচি দেয়া হবে তা নিয়ে দলটির নীতিনির্ধারকরা চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন। অনেকে হরতাল এবং অবরোধ কর্মসূচির কথা বলেছেন। আবার অনেকে ঢাকা ঘেরাও দিয়ে রাজপথ দখল করে বসে পড়ার কথা বলছেন। তবে কি ধরণের কর্মসূচি দেয়া হবে সেবিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের জন্য ইতোমধ্যে সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বার্তা দেওয়া হয়েছে। ধারাবাহিক এসব কর্মসূচি পালন করে মোক্ষম সময়ে আন্দোলনের গতি বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে চান দলের নেতারা।

এজন্য মে মাসে রিহার্সেল ও সেপ্টেম্বর-অক্টোবরকে চূড়ান্ত আন্দোলনের জন্য বেছে নেওয়া হতে পারে। ঢাকা অভিমুখী লংমার্চ ও রোডমার্চ, ঢাকায় গণঅবস্থান, ঢাকা ঘেরাও, সচিবালয় ঘেরাও, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাওয়ের মতো কঠোর কর্মসূচির ব্যাপারে বিএনপিতে আলোচনা চলছে তবে এখনও চুড়ান্ত হয়নি। বিএনপির একাধিক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

সমমনা দলগুলোকে নিয়ে অহিংস পথেই যুগপৎ আন্দোলন এগিয়ে নিতে চায় বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারাও একাধিকবার বলেছেন, তারা সরকারের উসকানিতে পা দেবেন না। বরং গণমানুষকে সম্পৃক্ত করে, অহিংস কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার পতনের আন্দোলন এগিয়ে নেবেন। নীতিনির্ধারকরা জানান, দলের ভেতরে একটি বড় অংশ হরতাল, অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার পক্ষে।

তবে স্থায়ী কমিটির একটি অংশ মনে করছেন, গত বছর ১০ সাংগঠনিক বিভাগীয় গণসমাবেশের পর এখন পর্যন্ত বিএনপির সব কর্মসূচি প্রশংসা পেয়েছে। সরকার নানাভাবে উস্কানি দেওয়ার পরও সে ফাঁদে পা দেওয়া হয়নি। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের জন্য বিদেশি শক্তিগুলোও প্রশংসা করছে। তাই রাজনীতির মাঠে এ সুনাম ধরে রেখে পরবর্তী কর্মসূচি দেওয়ার কথা চিন্তা করা হচ্ছে। সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলনেও ব্যতিক্রমী শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দেওয়া হবে। আর তা ঢাকামুখী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দলের বিভিন্ন ফোরাম এবং লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের আলোচনায় এ ধরনের কর্মসূচি নিয়ে কথা হয়েছে। দলের নেতারা মনে করেন, এ ধরনের কর্মসূচি এখন হরতাল-অবরোধের চেয়ে বেশি কার্যকর। এসব কর্মসূচিতে জনসম্পৃক্ততা বেশি থাকে। ঢাকামুখী কোনো কর্মসূচি ঘোষণা হলে সরকারের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়। সরকারই হরতালের মতো আবহ তৈরি করে।

কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা জানান, ঠিক কবে এ কর্মসূচি দেওয়া হবে সে সিদ্ধান্ত হয়নি। বিএনপি একটি মোক্ষম সময়ের অপেক্ষায় আছে। অবশ্য, দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা মে মাসের মধ্যে একটি বড় আন্দোলন করতে চান। পরিস্থিতি তৈরি হলে মাসখানেকের মধ্যে এ ধরনের কর্মসূচি আসতে পারে।মে মাসে সম্ভব না হলে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে গিয়ে সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতে পারে।

সূত্র জানায়, ঢাকামুখী লংমার্চ ও রোডমার্চ, ঢাকায় গণঅবস্থান, ঢাকা ঘেরাও, সচিবালয় ঘেরাও, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও-এ ধরনের কর্মসূচি নিয়ে বিএনপি আলোচনা করছে। যুগপৎ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী দলগুলো থেকেও একই ধরনের প্রস্তাব পেয়েছে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটি। তবে এবার এসব কর্মসূচি ঢাকামুখী করার প্রস্তাব এসেছে।

নীতিনির্ধারকদের মতে, সরকার ঢাকামুখী যে কোনো কর্মসূচিতে ভীত হয়ে ওঠে। ফলে আন্দোলনে যে গতি তৈরি হয়, তাতে নেতাকর্মী ও জনগণের অংশগ্রহণ অনেক বেড়ে যায়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে যুগপৎ কর্মসূচির দিন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে মাঠে থাকার বিষয়টি ওঠে। একইদিন সরকারি দলের এ কর্মসূচিকে নেতারা ‘উসকানিমূলক’ বলে মনে করছেন। তাই এর প্রতিবাদেও কর্মসূচি পালনের বিষয়ে মত দেন তারা।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, আগস্ট থেকে আন্দোলন শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে নানা ধরনের উসকানি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সে ফাঁদে নেতাকর্মীরা পা দেননি, ভবিষ্যতেও দেবেন না। আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাব। ধারাবাহিক কর্মসূচি চলতে থাকবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যতিক্রমী নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি আসবে, যাতে জনগণের অংশগ্রহণে জোয়ার তৈরি হবে। এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমেই সরকারের পতন ঘটানো হবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ