বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন ছিল ফ্যাসিস্ট শক্তির কুটিল চক্রান্ত: আলাল - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৮:২০, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন ছিল ফ্যাসিস্ট শক্তির কুটিল চক্রান্ত: আলাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫ ২:৫১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫ ২:৫১ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনকে ফ্যাসিস্ট শক্তির কুটিল ও পরিকল্পিত চক্রান্ত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এ্যাড. মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম জনগণের স্মৃতি ও রাষ্ট্রীয় পরিচয় থেকে মুছে ফেলতেই পরিকল্পিতভাবে এই নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে ডক্টর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ( ড্যাব) আয়োজিত মহান মুক্তিযুদ্ধ, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দল সর্বসম্মতভাবে ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নামকরণ করে ‘জিয়াউর রহমান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’। ওই নামের সংক্ষিপ্ত রূপ ‘জেডআইএ (ZIA)’ দেশের মানুষের পাসপোর্টের সিল, আগমন-বহির্গমন ঘোষণায় প্রতিনিয়ত উচ্চারিত হতো। এই বিষয়টি তৎকালীন সরকার প্রধান সহ্য করতে পারেননি।

তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে কোনো সম্মান বা শ্রদ্ধা থেকে নয়, বরং একটি দুরভিসন্ধিমূলক রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য। এটি ছিল ইতিহাস বিকৃতি এবং শহীদ জিয়ার নাম মুছে ফেলার নগ্ন প্রচেষ্টা।

তিনি দাবি করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাসে শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন প্রথম ফোর্স কমান্ডার এবং প্রথম সেক্টর কমান্ডার। অন্য ফোর্সগুলো গঠিত হয়েছে আরও পরে। বীর উত্তম খেতাব তিনি ভালোবাসা থেকে পাননি, তিনি তা অর্জন করেছেন।

বেগম খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাসভবন থেকে উচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে আলাল বলেন, যিনি তাকে উচ্ছেদ করেছিলেন, তাকেই শেষ পর্যন্ত জনগণ দেশ থেকে উৎখাত করেছে। ক্ষমতাচ্যুত নেত্রীর আত্মীয়স্বজন আগেভাগেই দেশ ছেড়ে পালালেও বিএনপির নেতৃত্ব জনগণের মাঝেই থেকেছে।

তিনি আরো বলেন, ইতিহাস বিকৃতি, কপটতা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি দিয়েই আওয়ামী লীগ জনগণের ওপর শাসন কায়েম করেছিল, যার পরিণতিতে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক রাজনীতি নিয়ে সমালোচনা করে আলাল বলেন, দু-একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে জয় পেলেই জাতীয় নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা হয় না। বিএনপি সবসময় মার্জিত, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে বলেই আজও জনগণের আস্থা ধরে রেখেছে।

আসন্ন রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির ৩১ দফা হচ্ছে জনগণের জাতীয় মুক্তির সনদ। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আলাল বলেন, ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনরুত্থানের নতুন অধ্যায় শুরু হবে। তার নেতৃত্বে এবং ভবিষ্যতে জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির চতুর্থ প্রজন্ম দেশের সামনে এগিয়ে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিএনপির এই নেতা।

ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা: হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল মঈন খান বিএনপির চেয়ারপারসন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অধ্যাপক ডা: ফরহাদ হালিম ডোনার, সংগঠনের মহাসচিব ডা: মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ