বিরোধী মতপ্রকাশে বলপ্রয়োগ ঘিরে মানবাধিকার সংস্থার বক্তব্য ‘দালালি’: হানিফ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, আগস্ট ৫, ২০২৩ ৬:০৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, আগস্ট ৫, ২০২৩ ৬:০৬ অপরাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক
বিরোধীদলের মতপ্রকাশে আওয়ামী লীগ সরকার অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করছে —মানবাধিকার সংস্থাগুলোর এমন বক্তব্যকে ‘নির্লজ্জ দালালি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ।
শনিবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, বিএনপি কয়েকদিন আগে সমাবেশ করার পর রাজধানীর প্রবেশমুখ অবরোধ ঘোষণা দিলো। তারা অবস্থান নিয়ে রাস্তা বন্ধ করে গাড়ি চলাচল বন্ধ করলেন। এরকম কর্মসূচি কোন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আছে? আপনি রাস্তা বন্ধ করে দিলেন, এটা তো কোনো কর্মসূচি হতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করে দিয়েছে, তখন পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলা করে আহত করে দেওয়া হয়েছে। রাস্তায় গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে। আর সেটার জন্য আজকে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তারা বলছে, সরকার অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করছে।
পশ্চিমা বিশ্বের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আজকে কার পক্ষে ওকালতি করছেন? তারেক রহমানের বিপক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাম্বাসেডর জেমস মরিয়াটি ২০০৮ সালের ৩ নভেম্বর একটি রিপোর্ট পাঠিয়েছিলেন। সেই রিপোর্টে পরিষ্কারভাবে বলেছিলেন, তারেক রহমান অত্যন্ত ভয়ংকর, দুর্ধর্ষ, দুর্নীতি পরায়ণ সন্ত্রাসী এবং সহিংসতার প্রতীক। এটা আমাদের কথা নয়। এই কথা বলেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সেই সময়কার রাষ্ট্রদূত। আজকে সেই ব্যক্তি এতো ভালো হয়ে গেল যে তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত করে সরকার উৎখাত করার খেলায় মত্ত হতে হবে!
হানিফ বলেন, আমরা আজকে আহবান জানাবো, সেই সমস্ত বিদেশি সংগঠন, বিদেশি দূত বা যারা আমাদের দেশের নির্বাচন নিয়ে কথা বলছেন তাদের অনুরোধ করবো, উন্নয়ন সহযোগী দেশ হিসেবে অনেক বিষয়ে আপনাদের কথা বলার সুযোগ আছে। দয়া করে এই ধরণের একজন প্রতিষ্ঠিত সন্ত্রাসী আপনাদের অভিযোগে অভিযুক্ত, কয়দিন আগেও কানাডার ফেডারেল আদালত পঞ্চমবারের মতো সন্ত্রাসী দল হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এরকম একটি দল নিয়ে দেশের মধ্যে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করবেন না। দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করতে মদদ দিবেন না।
আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেন, রাষ্ট্রপতির পুত্র হয়েও শেখ কামাল অর্থ-বিত্তের পিছনে কখনো ছুটেননি। তিনি নিরহংকারী ও নির্লোভ মানুষ ছিলেন। অথচ আজকে আমাদের দেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমান; তাকে যদি দেখি এই দুইটা মানুষের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য। ২০০১ থেকে ২০০৬ যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল তখন সরকারের মধ্যে সরকার গঠন হয়েছিল। একদিকে তারেক রহমানের মায়ের সরকার আরেকদিকে হাওয়া ভবন বানিয়ে তারেক রহমানের সরকার। এবং হাওয়া ভবনের সরকারই ছিল সবচেয়ে ক্ষমতাধর।
জনতার আওয়াজ/আ আ