ভোটকেন্দ্রের ডাকাত : গাইবান্ধা মডেল - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:১৪, শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ভোটকেন্দ্রের ডাকাত : গাইবান্ধা মডেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, অক্টোবর ১৭, ২০২২ ১১:৩৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, অক্টোবর ১৭, ২০২২ ১১:৩৭ অপরাহ্ণ

 

সৈয়দ আবদাল আহমদ

স্থগিত হয়ে যাওয়া গাইবান্ধা উপ-নির্বাচনের সর্বশেষ খবর হলো নির্বাচন কমিশন অনিয়ম তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথের নেতৃত্বাধীন এ কমিটিকে অনিয়ম তদন্ত করে এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এরপরই গাইবান্ধা-৫ আসনের ভোটের ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

যাদের কারণে ভোট পণ্ড এবং উপ-নির্বাচন বন্ধ করতে হয়েছে ইতোমধ্যে তাদের শাস্তির দাবি উঠেছে। তদন্ত কমিটি তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনবে এটাই সময়ের দাবি।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুসারে, নির্বাচন প্রভাবিত করার অপরাধে দুই থেকে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। দেখার বিষয়, ইসি সেই ব্যবস্থা নিচ্ছে কিনা।

তবে নির্বাচন কমিশন তদন্ত শুরু করলেও তাদের তৎপরতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দেয়ার ষড়যন্ত্রও শুরু হয়েছে। এ কাজে নেমেছে গাইবান্ধা মাঠ প্রশাসন। অভিযোগ পাওয়া গেছে, জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট ইউএনও’র নির্দেশ তথা স্থানীয় প্রশাসনের চাপে বিভিন্ন কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা কাউকে সম্বোধন না করে সাদা কাগজে ‘নির্বাচনের পরিবেশ ভালো ছিল’ উল্লেখ করে সই দিয়েছেন। এমন ৯৮টি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তার সই করা সাদা কাগজের নোট রিটার্নিং অফিসার ও প্রশাসনে জমা দেয়া হয়েছে বলে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মো: অলিউর রহমান স্বয়ং যুগান্তরের কাছে স্বীকার করেছেন। সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব:) সাখাওয়াত হোসেন সাদা কাগজে এমন লিখিত দেয়ার এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশন কি স্থানীয় প্রশাসনকে এমন অনুমতি দিয়েছে? প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা কি জানেন না কাকে নির্বাচনী পরিবেশ জানাতে হবে? কাউকে সম্বোধন না করে কেন তারা এমন লিখিত দিলেন? খারাপ উদ্দেশ্যেই যে এটা করা হচ্ছে তা স্পষ্ট।

বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা যে একেবারে ভেঙে পড়েছে এবার গাইবান্ধা উপ-নির্বাচন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। গাইবন্ধা মডেল এবার ভোট কেন্দ্রের ডাকাতরা স্বয়ং নির্বাচন কমিশনের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়েছে। পুলিশ এবং মাঠ প্রশাসনও যে ওই ডাকাতদের সহযোগী সেটাও ধরা পড়েছে। আরো প্রমাণিত হয়েছে যে, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হয় না, হয় শুধু নির্বাচনের নামে প্রহসন। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার যে অপরিহার্য আবার তা প্রমাণিত হয়েছে। বিরোধী সব রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং দেশী-বিদেশী গণতন্ত্র ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে বারবার এ বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এর যৌক্তিকতা যে কতখানি গাইবান্ধা উপ-নির্বাচন নজর খুলে দিয়েছে। গাইবান্ধা মডেলে প্রমাণিত সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দলনিরপেক্ষ সরকার ও পক্ষপাতহীন নির্বাচন কমিশন কতটা জরুরি।

ডেটলাইন গাইবান্ধা : ডাকাতদের কাণ্ড, ইসির অ্যাকশন
গাইবান্ধা-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ একটি বড় ধাক্কা খেয়েছে। বরাবরের মতো এবারও একই কায়দায় ভোটকেন্দ্র দখল করে জয় নিশ্চিত করে নেবে ভেবেছিল দলটি। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। গাইবান্ধায় তারা ধরা খেয়ে গেছে। ভোটকেন্দ্রের ডাকাত এবং এই ডাকাতদের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে পুলিশ ও মাঠ প্রশাসন। অবশ্য তারা এক হয়ে কাজ করলেও ভোটের অনিয়ম বাস্তবায়িত হতে দেয়নি সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। ভোট ডাকাতির নির্বাচন প্রহসন তারা আটকে দিতে পেরেছে। উপ-নির্বাচন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

গাইবান্ধা উপ-নির্বাচন আগেই বর্জন করে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। ফলে নির্বাচনটি এমনিতেই উত্তাপহীন ছিল। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে দাঁড়ায় জাতীয় পার্টি, বিকল্প ধারা এবং স্বতন্ত্র দু’জন মিলে চারজন প্রার্থী। গত বুধবার ১৪৫ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। নির্বাচনের নিরাপত্তায় তিন হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকলেও ক্ষমতাসীন দলের ডাকাতি বন্ধে তারা ছিলেন নির্বিকার। ভোট শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে অনিয়মের খবর আসতে থাকে। ভোটের জন্য ইসির যেসব বিধিমালা আছে তার কোনো তোয়াক্কাই করছিল না নৌকার প্রার্থী ও দলীয় ক্যাডাররা। তারা চলমান ভোট ডাকাতির কালচার অনুযায়ী নৌকা ছাড়া বাকি চার প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। নির্বাচনের আগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচার চালাতেও দেয়নি নৌকার ক্যাডাররা। ভোটের দিন যথারীতি প্রতিটি কেন্দ্রে ঢুকে পড়ে সেই ডাকাতরা। কেন্দ্রের গোপন কক্ষে অবস্থান করে ডাকাতরা ইভিএমের বাটন চেপে শুধু নৌকায় ভোট নিচ্ছিলেন। তাদের পরনে নৌকা মার্কার গেঞ্জি ও শাড়ি। পুরুষ ডাকাত, মহিলা ডাকাত উভয়ই ছিলেন। তারা ভেবেছিলেন আগের মতো তারা যেভাবে চাইবে, সেভাবেই ভোটের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। দিন শেষে ঘোষিত হবে নৌকার জয়।

কিন্তু নির্বাচন কমিশন এবার এমনটা হতে দেয়নি। প্রতিটি কেন্দ্রে বসানো হয় সিসিটিভি। ভোট শুরুর পর ঢাকায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে সিইসিসহ সব নির্বাচন কমিশনার এবং মিডিয়াকর্মীরা ভোটগ্রহণে ডাকাতদের অপতৎপরতার দৃশ্য দেখেন। তারা লক্ষ করেন যে, নৌকার গেঞ্জি ও শাড়ি পরা পুরুষ ও মহিলা ডাকাতরা ইভিএম জালিয়াতি করে যাচ্ছে। ইভিএমের বাটন চেপে একচেটিয়া নৌকায় ভোট নিচ্ছে। দুপুর ১২টা নাগাদ প্রতিদ্বন্দ্বী চার প্রার্থী ভোট ডাকাতির অভিযোগ করে নির্বাচন বর্জন করেন। এরই মধ্যে ইসিও একটির পর একটি কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতি দেখে কেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ স্থগিত করতে থাকেন। এ ধরনের স্থগিত কেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫১। বেলা আড়াইটা নাগাদ নির্বাচন কমিশন বৈঠকে বসে অনিয়ম বিশৃঙ্খলা ও অবৈধ ভোট দেয়ার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিয়ে পুরো উপ-নির্বাচন বন্ধ করে দেন।

সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘গাইবান্ধা উপ-নির্বাচন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় আমরা সমগ্র নির্বাচনটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছি।’ সে সিদ্ধান্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেয়া হয়। তিনি জানান, ‘গাইবান্ধা-৫ আসনের ১৪৫টি কেন্দ্রের সবই সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। ভোট হচ্ছিল ইভিএমে। ঢাকার নির্বাচন ভবনে স্থাপিত পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে সরাসরি আমরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছিলাম। আমাদের সঙ্গে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছিলেন।

দেখলাম কেন্দ্রের গোপন কক্ষে অবৈধ লোকজন ঢুকে পড়েছে। তাদের বুকে ও পিঠে প্রার্থীর মার্কা। নারী এজেন্টরা একইরকম শাড়ি পরা। এগুলো নির্বাচন আচরণ বিধির লঙ্ঘন। এরা ইভিএমের বাটন চেপে একের পর এক ভোট দিয়ে যাচ্ছেন। এরাই ভোটকেন্দ্রের ডাকাত, এরাই দুর্বৃত্ত। এ ধরনের ৫১ কেন্দ্রে অনিয়ম দেখে আমরা ভোট বন্ধ করি। এরপর পুরো নির্বাচনই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় তা আমরা বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেই।’

সিইসি উপ-নির্বাচন বন্ধের ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, ভোটকক্ষে শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য ঢাকা থেকে প্রথমে কয়েকজন প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়।’ কিন্তু সে বিষয়ে তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। বরং একের পর এক কেন্দ্রে একই অনিয়ম ফ্রি স্টাইলে চলতে থাকে। আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তা, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলি। তাতেও কাজ না হওয়ায় বিধিবহির্ভূত ভোটগ্রহণ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেই। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ৯১ ধারায় আমাদের এ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। আমরা কমিশন বসেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নির্বাচন কমিশন যেকোনো জায়গায় বসেই নির্বাচন বন্ধ করতে পারে। কমিশনের এ ক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচনটি বন্ধের পরপরই আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ইসির সিদ্ধান্তের ব্যাপারে যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান তাতে নির্বাচন জালিয়াতিই প্রমাণিত হয়েছে।

গাইবান্ধা উপ-নির্বাচন বন্ধ করা একটি পাতানো খেলা বলে কোনো কোনো মহল থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের সন্দেহ প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্যই সরকারের ইঙ্গিতে ইসি এই খেলা খেলেছে। আপাতত সরকারের একটি আসন ফসকে গেলেও জাতীয় নির্বাচনে তারা খেলবে আসল খেলা। তবে এমন আশঙ্কা থাকলেও গাইবান্ধা যা করার করে দিয়েছে। দলনিরপেক্ষ সরকার যে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অবশ্য করণীয় তা প্রমাণ করে দিয়েছে।

ভোট ডাকাতির কালচার
দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে ভোট ডাকাতির অভিযোগ বাংলাদেশে বহু আগে থেকেই হয়ে আসছে। তবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিনা ভোটের নির্বাচনী প্রহসন এবং ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নিশিরাতের নির্বাচনী প্রহসন ভোট ডাকাতিকে কালচারে পরিণত করে। এই কালচার নির্বাচনী ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। আর এই কালচারটা হচ্ছে ভোটকেন্দ্রে ডাকাতদের উপস্থিতি, ব্যালটে সিল মেরে বাক্সভর্তি, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে কব্জায় নেয়া, বিশেষ করে ওসিকে হাত করে নেয়া। গত কয়েক বছর ধরে ডিসি-এসপি, ইউএনও এবং ক্ষমতাসীন প্রার্থীর ক্যাডাররা এক হয়ে ভোট ডাকাতি করে যাচ্ছে। ফলে নির্বাচন আর নির্বাচনের জায়গায় নেই। কখনো এই প্রহসন দিনের আলোতে ঘটছে, কখনো নিশিরাতে বা রাতের আঁধারে ঘটছে। এ অবস্থায় দাবি উঠেছে দলীয় সরকারের অধীনে আর নির্বাচন নয়। কারণ দলীয় সরকারের অধীনে প্রশাসন ও পুলিশ নিরপেক্ষ থাকতে পারে না। তারা ঝুঁকি নিতে পারে না। এক দিকে চাকরির ভয়, অন্য দিকে বিশাল অংকের টাকার প্রলোভন। তাই ডিসি-ইউএনও আর এসপি-ওসি-তারা ক্ষমতাসীনদের দিকে হেলে থাকেন। ফলে দিন শেষে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর গলায়ই পড়ে জয়মাল্য। কিন্তু নিরপেক্ষ সরকার থাকলে পুলিশ ও প্রশাসন নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য থাকেন।

গাইবান্ধা-৫ আসনটির নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন সবগুলো কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসিয়েছে। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনে ৪০ হাজার কেন্দ্রের ২ লক্ষাধিক বুথে এভাবে সিসিক্যামেরা বসানো সম্ভব নয়। জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে একমাত্র সমাধান নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তখন ভোটকেন্দ্রের ডাকাতরা আর ডাকাতির সুযোগ পায় না। পালিয়ে যায়। ২০০১ সালে বিচারপতি লতিফুর রহমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অক্টোবরের নির্বাচনের কথা নিশ্চয়ই মনে আছে? তৎকালীন সিইসি এম এ সাঈদ ১ অক্টোবর ২০০১ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে বলেছিলেন, ‘দেশব্যাপী অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হচ্ছে। আমার মনে হয় দুষ্টু লোকের সব পালিয়ে গেছে।’ তাই দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার এলেই ভোটকেন্দ্রের এ ডাকাতদের প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। তেমনি নির্বাচন কমিশনও পক্ষপাতহীন হয়ে নির্বাচন পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।

স্থানীয় প্রশাসন এমন কেন?
স¤প্রতি নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে সিইসি ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে ডিসি-এসপিদের একটি বৈঠক হয়েছিল। বৈঠকে কমিশনার আনিসুর রহমান তার বক্তৃতায় বলেছিলেন, ডিসি-এসপিরা ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের হয়ে কাজ করেন এমন অভিযোগ রয়েছে জনমনে। তাই মানুষের আস্থা ফেরাতে ডিসি-এসপিদের নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করতে হবে। এ বক্তব্য দিতেই ডিসি-এসপিরা হইচই শুরু করেন। এক পর্যায়ে কমিশনার তার বক্তব্য না দিয়ে বসে পড়েন। এর আগে কুমিল্লার নির্বাচনের সময় এ কমিশনেরই আরেকজন নির্বাচন কমিশনার ভোটকেন্দ্রের গোপন কক্ষের ডাকাতদের কথা উল্লেখ করেছিলেন। গাইবান্ধা উপ-নির্বাচন হাতে নাতে প্রমাণ করে দিয়েছে যে, সেদিন আনিসুর রহমান যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তা কতটা সঠিক ছিল। গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা-ঠিকভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন না করে নৌকার প্রার্থীকে জয়মাল্য পরাতে ছিলেন ব্যস্ত। তেমনি ভোটকেন্দ্রের সেই ডাকাতরাও কেমন তা দেখা গেছে এ উপ-নির্বাচনটিতে। এ নির্বাচন পণ্ডে ভোটকেন্দ্রের ডাকাতরা যেমন দায়ী, তেমনি দায়ী স্থানীয় প্রশাসন। তাই গাইবান্ধা উপ-নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিতে হবে ইসিকে। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারে। দেশে এর নজির রয়েছে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অতীতে যে চারটি নির্বাচন হয়েছে তা নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। সারা দেশের মানুষ দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এমন একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এখন উন্মুখ হয়ে আছে।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় প্রেস ক্লাব

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ