মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাব দেশেও পড়তে পারে: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বুধবার, মে ৮, ২০২৪ ১১:২০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, মে ৮, ২০২৪ ১১:২০ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট আরও ঘনীভূত ও দীর্ঘায়িত হলে তা দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, “বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টির যে আভাস দেখা যাচ্ছে, তা সারাবিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক, এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা যায়। দেশের অর্থনীতিতে এই সংঘাতের কিছুটা প্রভাব আসতে পারে।”
তবে সরকার এ বিষয়ে ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ গ্রহণ করবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন সরকারপ্রধান।
বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুলের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন সংসদ নেতা শেখ হাসিনা।
অর্থনীতিতে সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাব প্রশমনে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বাজারের অস্থিতিশীলতা, বাজার ব্যবস্থাপনায় অসামঞ্জস্য এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে দেশে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এছাড়া সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে পণ্য সরবরাহের ‘সাপ্লাই-চেইন’ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ইরান বা পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে রপ্তানি সংশ্লিষ্ট পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে। তাতে পণ্য তৈরি ও সরবরাহের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় রপ্তানিকারকরা কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারে বলে আভাস দেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ঘটনাপ্রবাহের ওপর নজর রাখতে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সংঘাত দীর্ঘ হলে কোন কোন সেক্টরে প্রভাব পড়তে পারে তা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।”
ফিলিস্তিনের গাজায় ছয় মাসের বেশি সময় ধরে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল। সেই অভিযানে প্রাণ গেছে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের।
গাজায় ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধ নিতে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা গত ডিসেম্বরে লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা শুরু করে। এর জেরে বড় শিপিং লাইনগুলোর বেশির ভাগ জাহাজ এখন আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে যাতায়াত করছে। তাতে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ ও আমেরিকায় পণ্য পরিবহনে বেশি সময় লাগছে।
এই সঙ্কটের মধ্যেই গত ১ এপ্রিল দামেস্কে ইরানের কনস্যুলেটে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল। তাতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারসহ কয়েকজন নিহত হন।
তার বদলা হিসেবে ইরান ইসরায়েলে শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পাল্টায় ইসরায়েলও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানে।
মধ্যপ্রাচ্যের ওই উত্তেজনা পুরো বিশ্বেই পণ্য বাণিজ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরাও বিষয়টি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী সংসদকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যে কোনো সংঘাত বা সংঘাতের খবর জ্বালানি তেলের বাজারকে প্রভাবিত করে। তাতে জাহাজ ভাড়া বাড়ে, যা আমদানি ব্যয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। সার আমদানিতে ব্যয় বাড়ে।
সে কারণে সারের বিকল্প উৎস হিসেবে চীন, মরক্কো, তিউনেশিয়া, কানাডা, রাশিয়ার ইত্যাদি দেশের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার করার কথা বলেন তিনি।
জনতার আওয়াজ/আ আ