ময়মনসিংহ ১-ঐক্যেই ভরসা বিএনপি’র বিরামহীন গণসংযোগ জামায়াতের - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ২:৫০, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ময়মনসিংহ ১-ঐক্যেই ভরসা বিএনপি’র বিরামহীন গণসংযোগ জামায়াতের

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৫ ২:৩৩ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৫ ২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

 

মতিউল আলম, ময়মনসিংহ ও আনিসুর রহমান, ধোবাউড়া থেকে
ছবি : প্রতিনিধি
পাহাড় ও বনঘেরা দুর্গম ভূপ্রকৃতি, অভ্যন্তরীণ সীমান্তপথ, ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত আসন ময়মনসিংহ-১। হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলা ও হালুয়াঘাটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত আসনটি। আনুমানিক ৩৫ হাজার ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী ভোটার ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নিলে প্রার্থী নির্বাচনে বড় ভূমিকা পালন করবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা, পাহাড়ি সড়ক সংস্কার, হাট-বাজার আধুনিকায়ন, স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি, তৃণমূলে মানুষের প্রত্যাশা পূরণের অঙ্গীকার করতে হবে প্রার্থীদের। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ময়মনসিংহ-১ আসনের ভোটারদের চাহিদা এমনই। ২০২৬ সালে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার পর শুরু হয় ভোটের আলাপ-আলোচনা। নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ ঘোষণার পর যা তীব্র আকার ধারণ করে। রাজনীতির মাঠে বেড়ে যায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি’র একাধিক প্রার্থী। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক শক্তির কারণে বিএনপি অনেকটা এগিয়ে। তবে একাধিক প্রার্থী থাকায় তৃৃণমূলে দল বিভক্ত। যদিও মনোনয়ন নিশ্চিত হলে বিভক্তি কমে যাবে। অন্যদিকে জামায়াতের চলছে বিরামহীন গণসংযোগ। বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হয়ে গেলে তাদের ঠেকানো কঠিন হয়ে যাবে। আর ইসলামী দলগুলো জোটবদ্ধ হলে লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।

বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে ৩ জন প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। তারা হলেন- কেন্দ্রীয় বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আফজাল এইচ খান ও সালমান ওমর রুবেল। এমরান সালেহ প্রিন্স দলের দুঃসময়ে রাজপথে থাকার ত্যাগী নেতা। ধারাবাহিক মাঠে উপস্থিতির কারণে তৃৃণমূলে তার গ্রহণযোগ্যতা শক্তিশালী। হালুয়াঘাট-ধোবাউড়ার সংগঠনের ইউনিট কমিটি তার নিজের হাতে গড়া। নিয়মিত পথসভা, মতবিনিময় ও সাংগঠনিক বৈঠক তাকে মনোনয়ন দৌড়ে সামনের সারিতেই রেখেছে। দলের তৃণমূলের সংগঠনের নেতাদের সমর্থন তার পক্ষে রয়েছে। আর আফজাল এইচ খান প্রয়াত টিএইচ খানের রাজনৈতিক উত্তরসূরি। এর আগে তিনি একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে মাঠে তার উপস্থিতি কম ছিল। কিছুদিন ধরে তিনি সভা-সেমিনারে যোগ দিয়ে ফের সক্রিয় হচ্ছেন। পারিবারিক ঐতিহ্য, পুরানো নেটওয়ার্ক নিজের শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন। এদিকে, সালমান ওমর রুবেল তুলনামূলক তরুণ। করোনাকালে ত্রাণ, চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে তিনি সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং তরুণ ভোটারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধন তৈরিতে সক্ষম হয়েছেন। তাছাড়া তার প্রতিষ্ঠিত ওমর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ও আর্থিক সহায়তায় বিগত সময়গুলোতে হাজার হাজার রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা ও বিনামূল্যে চোখের ছানির অপারেশন সম্পন্ন করা হয়। সব ধরনের ওষুধ ও থাকা-খাওয়ার যাবতীয় খরচ বহন করে ওমর ফাউন্ডেশন। এ জন্যও নিজ এলাকায় পরিচিতি লাভ করেছেন।

বিএনপি’র এই তিন নেতার কর্মসূচি আলাদা ব্যানারে অনুষ্ঠিত হয়। আফজালপন্থিরা অভিযোগ তুলছেন, উপজেলা বিএনপি’র কমিটিতে প্রিন্সপন্থিদের একচেটিয়া আধিপত্য আছে। দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকায় কিছু পক্ষ স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্ব হারিয়েছে। রুবেলপন্থিরা প্রকাশ্য বিরোধে না গিয়ে স্বল্পসংখ্যক কর্মী নিয়েই মাঠে রয়েছেন। এই ত্রিমুখী অনৈক্য দীর্ঘস্থায়ী হলে ভোটযুদ্ধে প্রভাব ফেলতে পারে। আর জামায়াত ধারাবাহিকভাবে মাঠে কাজ করে যাচ্ছে। দলের মনোনীত প্রার্থী মাহফুজুর রহমান মুক্তা ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি। তিনি সকাল-বিকাল হাট-বাজার, গ্রাম-চৌমাথা, মসজিদ-মাদ্রাসা সবখানেই নিয়মিত প্রচারণা চালাচ্ছেন। পেশাজীবী-যুবসমাজকে লক্ষ্য করে ‘সুশাসন, মাদক-দমন, ন্যায্য বাজার মূল্য’ ধরনের বার্তা তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। পাশাপাশি ইসলামপন্থি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের তৎপরতাও লক্ষ্য করা যায়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী এডভোকেট জিল্লুর রহমান দুই উপজেলায় ধারাবাহিকভাবে সভা-সেমিনারে অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এডভোকেট রফিকুল ইসলাম মনোনয়নপ্রত্যাশী হয়ে গ্রামগঞ্জে ঘুরছেন। এনসিপি’র সাইফুল্লাহ’র মোটরসাইকেল শোডাউন তরুণদের দৃষ্টি কেড়েছেন। গণঅধিকার পরিষদ ও খেলাফত মজলিস থেকেও প্রার্থী দেয়ার গুঞ্জন রয়েছে। শেষ মুহূর্তে ইসলামী দলগুলোর ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করলে বিএনপি’র বিভক্ত ভোট ব্যাংকের ওপর সরাসরি চাপ পড়বে।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভোট এখানে নীরব। গারো, হাজংসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর মানুষ শিক্ষা-স্বাস্থ্য, ভূমি-বনসম্পদ ব্যবহারের অধিকার এবং চাকরি-কোটা সংক্রান্ত বাস্তব সমস্যায় দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা বলেন। তারা সাধারণত নির্বাচনের আগ মুহূর্তে অর্থাৎ শেষ সপ্তাহে যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেন। যে দল আদিবাসীদের বাসস্থান, পাহাড়ি রাস্তা-সেতু সংস্কার, পাহাড়ি কৃষির জন্য স্বল্পসুদে ঋণ ও বনজ-ফলদ ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির মতো বাস্তব অঙ্গীকার উপস্থাপন করবে, তাদের দিকেই ভোট ঝুঁকতে পারে। গারো সমপ্রদায়ের এক প্রবীণ নেতা বলেন, কে উন্নয়নের কথা লিখিতভাবে দেয় সেটাই দেখা হবে। এরপর সবাই মিলে সিদ্ধান্ত।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ