ময়মনসিংহ-৮ আসনে বিএনপি প্রার্থীর শক্তিশালী প্রতিপক্ষ জামায়াত - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১২:১২, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ময়মনসিংহ-৮ আসনে বিএনপি প্রার্থীর শক্তিশালী প্রতিপক্ষ জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫ ৩:১৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫ ৩:১৭ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত ময়মনসিংহ-৮ আসন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই আসনে নির্বাচনি আমেজ বিরাজ করছে। কয়েক মাস ধরে প্রার্থীরা এখানে নির্বাচনি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। দিয়েছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি। এখন তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি সক্রিয় আছেন। প্রত্যেকে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন। যার যার অবস্থান থেকে সবাই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তবে ভোটাররা বলছেন, সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকেই তারা নির্বাচিত করবেন।

এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ধনকুবের হিসেবে পরিচিত লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। এই নেতা দুঃসময়ে সাধারণ মানুষকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন। অসহায়দের পাশে থাকায় জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে তিনি সবচেয়ে ওপরে অবস্থান করছেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী দলটির উপজেলা শাখার আমির অধ্যক্ষ মুঞ্জুরল হক একজন শিক্ষাবিদ, সমাজসেবক ও কারা নির্যাতিত নেতা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঈশ্বরগঞ্জে সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। ফলে এলাকায় তার একটি শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে।

ভোটের মাঠে এই দুই নেতাকে নিয়ে চর্চা হলেও বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল সব সমীকরণকে বদলে দিতে পারে। এখান থেকে বিএনপির প্রার্থীর শক্তিশালী কোনো প্রতিপক্ষ দাঁড়িয়ে গেলে বিএনপিকে নির্বাচনের দিন এর মাশুল দিতে হবে। সেক্ষেত্রে জামায়াতের প্রার্থীর সামনে একটি সম্ভাবনা তৈরি হবে।

তবে অন্য রাজনৈতিক দলের নেতারাও মাঠ ছাড়েননি। তারাও ভোটের মাঠে তৎপর রয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে প্রার্থী হয়েছেন মুফতি মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ। তরুণ, আদর্শিক ও ত্যাগী ইসলামি নেতা হিসেবে এলাকায় তার সুনাম রয়েছে। তিনিও ভোটারদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়। এই আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম্ভাব্য প্রার্থী ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার প্রধান সমন্বয়ক মোজাম্মেল হক, এনসিপি ময়মনসিংহ জেলা কমিটির সদস্য মাহমুদুল হাসান সোহেল, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহম্মদ হোসেন ভূঁইয়া, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী উপজেলা সভাপতি মুফতি হাবিবুল্লাহ, এলডিপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আওরঙ্গজেব বেলাল, গণ-অধিকার পরিষদের প্রার্থী জিয়াউর রহমান ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন।

জানা গেছে, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু ছাড়াও বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন সাবেক এমপি শাহ নুরুল কবীর শাহীন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুজ্জামান লিটন, রুহুল আমিন মাস্টার ও ময়মনসিংহ জেলা কৃষকদলের নেতা অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম। তাদের মধ্যে লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু মনোনয়ন পান। কিন্তু বাকি মনোনয়নপ্রত্যাশীরা তাদের সমর্থকদের নিয়ে লুৎফুল্লাহেল মাজেদের পক্ষে ভোটের মাঠে কাজ করছেন না। প্রকাশ্যে বিরোধ না থাকলে মনোনয়নের ভাগীদার হিসেবে তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীদের গণসংযোগ, পথসভা ও জনসম্পৃক্ততা আর বেড়ে যায়। তবে তফশিল ঘোষণার পর থেকে আগের মতো প্রচার না থাকলেও সবাই সামাজিক যোগাযোগ্যমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন। সচেতন ভোটাররা বলছেন, যিনি শিক্ষিত, পরিচ্ছন্ন ক্যারিয়ারের অধিকারী এবং জনগণের জন্য কাজ করার সক্ষমতা রাখেন তাকেই ভোট দিয়ে জয়ী করা হবে।

জানা গেছে, এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৬২২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৮১ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৬৭ হাজার ৯৩৫ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন ছয়জন।

বিগত ১৯৭০ সালের নির্বাচনে এই আসনে এমপি নির্বাচিত হন মুসলিম লীগের প্রার্থী নুরুল আমিন। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে এখান থেকে এমপি হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনোয়ারুল কাদির। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপির শামসুল হুদা চৌধুরী। এ ছাড়া ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাশিম উদ্দিন আহমেদ, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম, ১৯৯১ সালে বিএনপির খুররম খান চৌধুরী, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুস ছাত্তার, ২০০১ সালে বিএনপির শাহ নুরুল কবীর শাহীন, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুস ছাত্তার এবং ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফখরুল ইমাম এখান থেকে এমপি নির্বাচিত হন। এ ছাড়া ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদ হাসান সুমন।

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু বলেন, ‘মানুষ আমাকে ভালোবেসে কাছে টেনে নিয়েছে। এলাকাবাসীর সমর্থন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হতে পারলে আমার সবকিছুই এলাকাবাসীকে দেব।’

জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মুঞ্জুরল হক বলেন, ‘গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ করেছি। আমার ওপর মানুষের আস্থা আছে। নানান শ্রেণি-পেশার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে সাড়া দিচ্ছে। আগামী নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে।’

এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী মোজাম্মেল হক বলেন, ‘এনসিপি নতুন একটি দল। তবুও এত অল্প সময়ে যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর গড়ে ওঠা এনসিপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে শাপলা কলির পক্ষে ভোট চেয়েছি। যেখানেই গিয়েছি ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি।’

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী দলটির উপজেলা কমিটির সভাপতি মুফতি হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশে ইসলামী ভাবধারার গণজাগরণ ঘটেছে। মানুষ পরিবর্তন চায়। আমি নিয়মিত লিফলেট বিতরণসহ উঠান বৈঠক করেছি। হাটবাজারে গণসংযোগ করেছি। মানুষের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’

এলডিপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আওরঙ্গজেব বেলাল বলেন, ‘সারা বছর এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছি। কারও প্রতি কখনো অন্যায় আচরণ করিনি। মানুষ আমাকে ভালোবাসে। তাই রাজনীতিতে আসা। ভোটাররা আমাকে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ