মানিকগঞ্জ ২-আশাবাদী বিএনপি, স্বপ্ন দেখছে জামায়াত, নীরবে জাপা - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:০৯, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

মানিকগঞ্জ ২-আশাবাদী বিএনপি, স্বপ্ন দেখছে জামায়াত, নীরবে জাপা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৫ ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৫ ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৭ বছর পর পুরোদমে ভোটের হাওয়া লেগেছে পদ্মা নদীবেষ্টিত মানিকগঞ্জ-২ আসনে। রাজধানী ঢাকার পাশে সাভারের হেমায়েতপুর সংলগ্ন সিংগাইর ও পদ্মা নদীর উত্তাল পথ পেরিয়ে হরিরামপুর এবং সদর উপজেলার দু’টি ইউনিয়ন নিয়ে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সীমানায় মোড়ানো আসনটি। এখানকার ভোটার সংখ্যা মানিকগঞ্জের অন্য সব আসনের চাইতে বেশি। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত এই আসনটি হরিরামপুর ও শিবালয় উপজেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে শিবালয় উপজেলাকে বাদ দিয়ে সংযুক্ত করা হয় সিংগাইর উপজেলাকে। হরিরামপুর ও শিবালয় উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনে টানা চারবার সংসদ সদস্য ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও মুন্ন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হারুণার রশীদ খান মুন্নু। এ ছাড়া সাবেক মানিকগঞ্জ-৪ আসনটি ছিল সিংগাইর ও মানিকগঞ্জ সদরের তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। সেখানে চারবার সংসদ সদস্য ছিলেন বিএনপি’র সাবেক মন্ত্রী মরহুম শামসুল ইসলাম খান নয়া মিয়া। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি, জামায়াতে, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস এবং পর্দার আড়ালে থেকে জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটের মাঠ সরগরম করে তুলেছে। দীর্ঘ সীমানায় সংযোগ চালাতে গিয়ে প্রার্থীরা রীতিমতো বেকায়দায় পড়ে যাচ্ছেন। আসনটি ভৌগোলিক দিক থেকে অত্যন্ত জটিল। এদিকে, দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে নির্ভরযোগ্য এবং নিরাপদ মনে করছেন বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আফরোজা খান রিতাকে। প্রতিটি মানুষের কাছে তার রয়েছে ব্যাপক পরিচিত ও জনপ্রিয়তা। আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের টানা ১৭ বছর দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা ও আন্দোলন সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছেন। নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি জায়গায় তার পা পড়েছে। এ ছাড়াও এখানে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন সাবেক মন্ত্রী শামসুল ইসলাম খান নয়া মিয়ার ছেলে জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মইনুল ইসলাম খান শান্ত। তিনি দলীয় মনোনয়ন পাবার বিষয়ে আশাবাদী। তবে শান্তর নিজের উপজেলা সিংগাইরেই আফরোজা খান রিতার পক্ষেই সবচেয়ে বেশি স্লোগান উঠেছে। বিশেষ করে সিংগাইর ও হরিরামপুর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের প্রত্যেকটি কমিটির নেতৃবৃন্দসহ কর্মী-সমর্থকরা তাকেই নির্ভরযোগ্য মনে করছেন। তবে, বিএনপি’র একাংশের নেতৃবৃন্দ দলীয় প্রার্থী হিসেবে মইনুল ইসলাম খান শান্তকে চাচ্ছেন।

আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন সিংগাইর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবিদুর রহমান রোমান। দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে নিজেকে ভোটের মাঠে সক্রিয় রেখেছেন। তার সাফ কথা, নির্বাচনকে সামনে রেখে আমি ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। টানা ১৭ বছর আফরোজা খান রিতার নেতৃত্বে রাজপথে ছিলাম। মনোনয়ন না পেলেও আমার দুঃখ নেই। আসনটি পুনরুদ্ধার করতে হলে রিতার কোনো বিকল্প নেই। বিএনপি’র আরেক তরুণ নেতা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. রতন খানও আছেন এ তালিকায়। তিনি মনে করেন, নির্বাচনে তরুণ নেতৃত্ব আসা প্রয়োজন। তবে এখানে বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে আফরোজা খান রিতাই শতভাগ যোগ্য। এ বিষয়ে বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী মঈনুল ইসলাম খান শান্ত বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার বাস্তবায়নেও কাজ করে যাচ্ছি। আমার বাবা এই আসনের চারবারের সংসদ সদস্য ছিলেন। তার মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলাম। ইনশাআল্লাহ সার্বিক দিক বিবেচনায় দল থেকে আমাকেই নমিনেশন দেবে বলে বিশ্বাস। বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আফরোজা খান রিতা বলেন, জেলার প্রত্যেকটা আসনেই ধানের শীষকে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। কোন আসনে কে প্রার্থী হবে এবং কাকে মনোনয়ন দিলে আসন পুনরুদ্ধার করা সম্ভব সেটা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিদ্ধান্ত নেবেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বিরামহীনভাবে কাজ করেছি। শত ঝড় ঝাপটার মধ্যেও কখনো পিছু হটিনি। আমার বাবাও জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিএনপি’র সঙ্গে ছিলেন। দলের সঙ্গে কখনো বিশ্বাসঘাতকতা ও বেঈমানি করেননি। তারেক রহমানের নির্দেশে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছি। রিতা বলেন, দলের দুঃসময়ে অনেককেই রাজপথে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এখন নির্বাচন সামনে আর দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে নিজেদেরকে বড় নেতা হিসেবে ভাবতে শুরু করেছে। দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের চাহিদা অনুযায়ী তিনটি আসনেই নির্বাচনের জন্য আমার প্রস্তুত রয়েছে। কারণ আমি সব আসনকে সমানভাবে দেখি। আমাদের মূল টার্গেট মানিকগঞ্জের হারানো তিনটি আসন পুনরুদ্ধার। এদিকে, জামায়াত দলগতভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেছে আগেই। এখানে দলটির মনোনীত প্রার্থী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি ও ইবনে সিনা হাসপাতালের ডিজিএম মুহাম্মদ জাহিদুর রহমান। নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি প্রতিনিয়তই গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, মাঠে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আশা করছি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে ইনশাআল্লাহ আমি জয়ী হবো। তবে নির্বাচনী এলাকার সীমানা অত্যন্ত জটিল থাকায় প্রচার প্রচারণায় অনেক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তারপরও প্রচার প্রচারণায় থেমে নেই। অপরদিকে, জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেলে প্রার্থী হবেন সাবেক সংসদ সদস্য জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি এস এম আব্দুল মান্নান। ২০০৮ সালে তিনি এ আসন থেকে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন। তবে নির্বাচনের এই মুহূর্তে জাতীয় পার্টি প্রকাশ্যে কোনো ধরনের মিটিং ও নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় দেখা না গেলেও গোপনে এবং নীরবে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ ছাড়া, ইসলামী আন্দোলনের জেলা সহ-সভাপতি ও সিংগাইর উপজেলার সভাপতি মোহাম্মদ আলী এবং খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ