মানিকগঞ্জ ৩-বিএনপি’র হেভিওয়েট প্রার্থী আফরোজা খান রিতা, জামায়াতের দেলোয়ার হোসাইন - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১১:১২, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

মানিকগঞ্জ ৩-বিএনপি’র হেভিওয়েট প্রার্থী আফরোজা খান রিতা, জামায়াতের দেলোয়ার হোসাইন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, অক্টোবর ১, ২০২৫ ৩:০৭ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, অক্টোবর ১, ২০২৫ ৩:০৭ পূর্বাহ্ণ

 

রিপন আনসারী, মানিকগঞ্জ ও আতাউর রহমান, সাটুরিয়া থেকে

ছবি: প্রতিনিধি
জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ভিআইপি আসন মানিকগঞ্জ-৩। বরাবরের মতো আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবার দৃষ্টি এ আসনের দিকে। মানিকগঞ্জ সদরের ৮টি ও সাটুরিয়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত আসনটি জেলা শহর ও পৌরসভাকেন্দ্রিক। এ জন্য সর্বদিক থেকে গুরুত্ব বহন করে আসছে। বিএনপিঅধ্যুষিত এ নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ভোটাররা বরাবরই ধানের শীষের প্রতি দুর্বল। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতসহ অন্য কোনো দল কখনোই বিএনপি’র সঙ্গে টেক্কা দিয়ে জয়ী হতে পারেনি।

বিএনপি
আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি’র হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে জেলার গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন জেলা বিএনপি’র টানা দু’বারের সাবেক সভাপতি, বর্তমান আহ্বায়ক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আফরোজা খান রিতা। তার পিতা সাবেক মন্ত্রী মরহুম হারুণার রশিদ খান মুন্নু ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ভোটের রেকর্ড সৃষ্টি করে জয়লাভ করেন। তখন তিনি মন্ত্রিত্বও পেয়েছিলেন। পিতার আসনটি পুনরুদ্ধারে রিতা ধানের শীষের কাণ্ডারি হচ্ছেন এতে কোনো সন্দেহ নেই। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভাষ্যানুযায়ী, আসনটি পুনরুদ্ধারে রিতার বিকল্প নেই। কারণ তিনি এখানে দলের নির্ভরযোগ্য এবং জনপ্রিয় প্রার্থী। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন তিনি।
আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের প্রায় ১৭ বছর শত ঝড়-ঝাপটা উপেক্ষা করে জেলা বিএনপি’র নেতৃত্ব দিয়েছেন রিতা। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপস না করে দলীয় নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রেখেছেন আন্দোলন সংগ্রামে। হামলা-মামলা, জেল-জুলুম ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন। এখানে ধানের শীষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে তার ব্যক্তি জনপ্রিয়তা রয়েছে ব্যাপক। দলের প্রতি ত্যাগ ও জনপ্রিয়তার ধারে কাছেও নেই অন্য কেউ। সর্বশেষ ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনসহ ছাত্র-জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করে রাজপথে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন রিতা। তার সাহসী নেতৃত্ব তখন মানিকগঞ্জের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ ছাত্র-জনতার অনুপ্রেরণার অন্যতম নিদর্শন ছিল। আন্দোলনে আহতরা যখন মানিকগঞ্জের কোনো হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা পাননি সেই মুহূর্তে রিতা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও পুলিশের ভয়ভীতি ও হুমকি উপেক্ষা করে মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার দুয়ার খুলে দিয়েছিলেন। গুরুতর আহত ও পঙ্গু অনেককেই এখনো চিকিৎসাসেবাসহ যাবতীয় খরচাদি চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তাছাড়া আন্দোলন করতে গিয়ে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের পরিবারের পাশে মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবে এখনো দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। পাটুরিয়া ঘাটে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ রফিকুল ইসলামের শিশুকন্যার সারাজীবনের দায়িত্ব নিয়েছেন আফরোজা খান রিতা। তাছাড়া তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে মানিকগঞ্জের মাটি ও মানুষের দিন বদলের সংগ্রামে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, রাজনীতির পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের একজন সফল শিল্প উদ্যোক্তাদের অন্যতম একজন।

এ ছাড়াও বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন- জেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক এডভোকেট জামিল রশিদ খান, আতাউর রহমান আতা এবং আব্দুল মোতালেব হোসেন। জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জেলা জজ কোর্টের পিপি এডভোকেট নূরতাজ আলম বাহার বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানে বিএনপি’র সবচেয়ে জনপ্রিয়, নির্ভরযোগ্য ও হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আফরোজা খান রিতার বিকল্প নেই। এটা শুধু আমার কথা নয়, নির্বাচনী এলাকার আপামর জনগণের কথা। তিনি ভোটের রেকর্ড সৃষ্টি করে জয়লাভ করবেন। সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস খান মজলিস মাখন বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটাররা তাকিয়ে আছেন আফরোজা খান রিতার মতো একজন যোগ্য ও ক্লিন ইমেজের নেতাকে ধানের শীষে ভোট দেয়ার প্রতীক্ষায়। শুধু এ আসনেই নয় জেলার তিনটি আসনেই তার জনপ্রিয়তা সমান। সাধারণ ভোটাররাও চাচ্ছেন আফরোজা খান রিতার মতো একজন ক্লিন ইমেজের রাজনীতিবিদ। আফরোজা খান রিতা বলেন, আমার বাবা মরহুম হারুণার রশিদ খান মুন্নুকে এ নির্বাচনী এলাকার ভোটাররা বিপুল ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ মানুষের ভোটার অধিকার হরণ করে দীর্ঘ ১৭ বছর দেশে দুঃশাসন কায়েম করেছিল। দিনের ভোট রাতে ও ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। মানুষও তাদের প্রতি মুখ ফিরিয়ে নিয়ে ভোট বয়কট করেছিলেন। দীর্ঘ দেড় যুগ পর নতুন করে ভোটারদের মধ্যে ভোট উৎসব শুরু হয়েছে। ১৭ বছর ধরে নির্বাচনী এলাকাসহ জেলার সর্বত্রই ঘুরে বেড়িয়েছি। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, জেলার প্রায় প্রতিটি জায়গায় গিয়ে দেখেছি, সাধারণ ভোটাররা ধানের শীষে ভোট দেয়ার প্রতীক্ষায় আছেন। কারণ বিএনপি হচ্ছে জনগণের দল, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে বিশ্বাসী। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে আগামীতে বিপুল ভোটে ধানের শীষের বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ।

জামায়াতে ইসলামী
বিএনপি’র মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। রাজনীতিতে তাদের দল অনেকটাই সুসংগঠিত। এখানে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে জেলার সাবেক আমীর মাওলানা দেলোয়ার হোসাইনের মনোনয়ন আরও কয়েক মাস আগেই নিশ্চিত করেছে দলটি। মনোনয়ন নিয়ে এখানে নিজেদের ভেতর কোনো ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। একক প্রার্থী তিনি। ভোটের মাঠে তিনিও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও বিগত নির্বাচনগুলোতে এখানে কখনোই জামায়াতের কোনো প্রার্থী জয়লাভের কোনো রেকর্ড নেই। তবে আওয়ামী লীগ না থাকায় জামায়াত নিজেদের শক্তপোক্ত বলে মনে করছেন। জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এর আগে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়েও জয়লাভ করতে পারেননি। জামায়াতের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ হবে। মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন বলেন, আমি নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। তাদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ দাঁড়িপাল্লা প্রতীক আগামী নির্বাচনে জয়ী হবে।

এর বাইরেও কিছু রাজনৈতিক দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ভোটের মাঠে নিজেদের উপস্থাপন করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাদের নিয়ে ভোটারদের মধ্যে কোনো সাড়া-শব্দ নেই। জাতীয় পার্টি যদি নির্বাচনে অংশ নিতে পারে সেক্ষেত্রে এখানে প্রার্থী হিসেবে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য এনামুল হক রুবেল অংশ নিতে পারেন। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে দলটির নেতাকর্মীরা একেবারেই নীরব। দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডে নেই তারা। এক ধরনের ভয় আর আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে নেতাকর্মীরা। ভোটের মাঠেও অনুপস্থিত। তবে জাতীয় পার্টির এক নেতা জানিয়েছেন, সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে তাদের নির্বাচন করা না করা। ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে, গণফোরামের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মফিজুল ইসলাম খান কামাল। এক সময় তিনি মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি ছিলেন। বিগত দিনে কয়েকবার এ আসনে নির্বাচন করলেও ভোটের রাজনীতিতে টিকতে পারেন নি। এখানে গণফোরামের দলগত ভোট নেই বললেই চলে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থিত ভোটারদের দিকে তাকিয়ে থাকবেন। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের ভোটের হিসাব কোনদিকে গড়াবে সেটা এখনো অস্পষ্ট। অপরদিকে, ইসলামী আন্দোলনের জেলা কমিটির সদস্য মাওলানা শহিদুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের এডভোকেট তাওহিদুল ইসলাম তুহিন, গণঅধিকার পরিষদের জেলা কমিটির সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. সোহেল রানা, এবং জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহজাহান খান সাজু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকে নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ