মানুষ তবুও স্বপ্ন দেখে : অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, জানুয়ারি ২, ২০২৩ ১১:১৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, জানুয়ারি ২, ২০২৩ ১১:১৬ অপরাহ্ণ

নতুন দিনের নতুন সূর্যোদয়। নতুন আলোর সন্ধানে কোটি জনগণ। এই আলোকবর্তিকার পেছনের গল্পটা অনেক প্রতিকূলতার। দেশের আপামর জনসাধারণের আশা-আকাঙ্খা আর স্বপ্ন পূরণে অঙ্গীকারাবদ্ধ রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির দায় এখানে সবচেয়ে বেশি। সেই দায়বোধ থেকেই বাংলাদেশের সঙ্কট-সঙ্ঘাতে বিএনপি শক্ত হাতে হাল ধরেছে। বিশেষ করে বিগত প্রায় দেড় দশক ধরে আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে থেকে জনগণের অধিকার আদায়ে সংগ্রামী ভূমিকা রাখছে বিএনপি।
পঁচাত্তর পরবর্তী দেশের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান বীরউত্তম-এর হাত ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে উদ্ভব হয় বিএনপির। সেই থেকে যে কোনো পরিস্থিতিতে এ দলটি বাংলাদেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলেছে। ২০০৮ সালে নীলনকশার নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। তারপর একের পর এক প্রহসন আর প্রতারণার মাধ্যমে দেশের জনগণকে ধোকা দিয়ে ক্ষমতার মসনদে আঁকড়ে রয়েছে ফ্যাসিস্ট সরকার। সীমাহীন দুর্নীতি আর লুটপাট করে একটি সম্ভাবনাময় দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এনে দাঁড় করিয়েছে। দেশের বুদ্ধীজীবী থেকে শুরু করে যে কোনো সাধারণ মানুষই এখন আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটায়। এই অনিশ্চয়তা কেবল একটি অপরিনামদর্শী লুটেরা অবৈধ সরকারের কারনেই।
রাজনীতির মাঠে বিগত প্রায় এক দশক বিএনপি কঠিন সময় পার করছে। দৈনিক কালবেলার এক প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ১ লাখের ওপরে মামলায় প্রায় চল্লিশ লাখ নেতাকর্মী আসামী। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বিভাগীয় গণসমাবেশ ও গণমিছিলকে কেন্দ্র করে আরো কয়েকশ মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পুলিশ-আওয়ামী লীগের হামলায় দলের ১৫ জন নেতাকর্মী শহিদ হয়েছেন। গত ১০ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকার গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে দলটির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশের হামলায় একজনের মৃত্যু হয়। পুলিশের সাজানো মামলায় এ পর্যন্ত দেড় হাজারের মতো নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। এমনকী সরকারের মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। শেখ হাসিনার রোষানলে পড়ে প্রবাসে অভিবাসী জীবন কাটাচ্ছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তারপরও দমে যায়নি শহিদ জিয়ার আদর্শের সৈনিকেরা। রাজপথে তারা যেন লড়াকু যোদ্ধা। এইসব লড়াকুর অনুপ্রেরণা তারুণ্যের অহঙ্কার তারেক রহমান। যিনি প্রবাসে থাকলেও সার্বক্ষণিকভাবে দেশ ও দলের জন্য নিবেদিত। তিনি দলের এই দুঃসময়ে কর্মীদের খোঁজ খবর নিচ্ছেন। নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন। তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তার এই আন্তরিক প্রচেষ্টা কর্মীদের চাঙ্গা করছে। রাজপথে থেকে আওয়ামী দু:শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অসীম সাহস যোগাচ্ছে।
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজপথে নানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে রয়েছে বিএনপি। কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে এখন যে কোনো সময়ের চেয়ে বিএনপি এখন অধিক সুসংগঠিত। জনগণ এই দলটির দিকেই তাকিয়ে রয়েছে। তারা এই জুলুমবাজ সরকারের বিরুদ্ধে একটি গণবিস্ফোরণ দেখতে চায়। তারা একটি পরিবর্তনের স্বপ্নে বিভোর। এই স্বপ্ন দেখানোর মূল কাজটি করেছে বিএনপি। জনগণে মধ্যে প্রত্যাশা জন্মেছে একটি নতুন দিনের। নতুন সরকার গঠনের। বিএনপিকে ঘিরে মানুষের মধ্যে যে স্বপ্ন দানা বেঁধেছে তাকে বাস্তবে রূপায়িত করতে ইতোমধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে ২৭ দফার রূপরেখা ঘোষণা করা হয়েছে। গ্রামে-গঞ্জে, শহরে-বন্দরে এখন মানুষের মুখে মুখে এই রূপরেখা নিয়েই আলোচনা। একটি শোষণ-বৈষম্যহীন, উন্নত-সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ হবে। যেই দেশে কোনো শাসক থাকবে না, থাকবে সেবক। যেই দেশে চুরির অর্থনীতি নয়, আসবে উন্নয়নের অর্থনীতি। যেই দেশের মানুষ আবারো তাদের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র ফিরে পাবে- এমনই এক স্বপ্নে বিভোর হয়ে জনগণ তাকিয়ে আছে স্বাধীনতার ঘোষক ও রণাঙ্গণের অকুতোভয় সেনানী শহীদ জিয়ার দলের দিকেই। তারা বিশ্বাস করে নিকষ কালো আঁধার রাতের পরেই আলো ঝলমলে এক সুন্দর সকাল আসবে। নতুন অধ্যায়ের শুভ সূচনা হবে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের সুজলা-সুফলা এই বাংলায়।
জনতার আওয়াজ/আ আ