মাফিয়া সরকারকে আর সময় দেয়া যায়না -রাজপথ দখলের প্রস্তুতি নিন : তারেক রহমান - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৯:০৯, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

মাফিয়া সরকারকে আর সময় দেয়া যায়না -রাজপথ দখলের প্রস্তুতি নিন : তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, মে ৪, ২০২৩ ১:১৭ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, মে ৫, ২০২৩ ৩:৩৭ অপরাহ্ণ

 

ওএনবি (০৩ মে) লন্ডন : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নিশিরাতের মাফিয়া সরকারকে আর সময় দেয়া যায়না। রাজপথ দখলের প্রস্তুতি নিন। জনগণের লুন্ঠিত ভোটের অধিকার ছিনিয়ে না আনা পর্যন্ত ঘরে ফায়ার যাবোনা। বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বুধবার (৩ মে) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তির প্রতি এ আহবান জানান।

বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি, গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি তথা গণতন্ত্রকামী প্রতিটি নাগরিকের প্রতি আহবান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আর অপেক্ষার সময় নেই। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ফেলতে লুন্ঠিত ভোটের অধিকার ভোট ডাকাতদের কাছ থেকে ছিনিয়ে আনতে ,ঐক্যবদ্ধভাবে এবার রাজপথ দখলের প্রস্তুতি নেয়ার এখনই সময়। ‘বাংলাদেশ যাবে কোনপথে ফয়সালা হবে রাজপথে’ । দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাবোনা এই হোক আমাদের প্রত্যয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষকের পুত্র বলেন, ৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার অর্জন করেছিলেন আর এবারের যুদ্ধ দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। এ যুদ্ধের স্লোগান ‘হঠাও মাফিয়া বাঁচাও দেশ টেইক ব্যাক বাংলাদেশ’।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। সুভাষ চন্দ্র চাকমার পরিচালনায় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান এবং অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া ও বিজন কান্তি সরকারসহ অনেকে।

তারেক রহমান বলেন, গত একদশকে দেশ থেকে ১০ লক্ষ কোটি টাকার বেশি পাচার করে দেয়া হয়েছে। বাচালতা, মিথ্যাচার আর দুর্নীতিই এখন রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিণত হয়েছে। আদালত, নির্বাচন কমিশন, দুদক, শিক্ষাঙ্গনসহ রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করে দিয়ে খোদ রাষ্ট্রটিকেই ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নিশিরাতের এই মাফিয়া সরকারকে আর সময় দেয়া যায়না। শেখ হাসিনার তৈরী বর্বর বন্দীখানা ‘আয়নাঘর’ গুড়িয়ে দিয়ে মাফিয়ার কবল থেকে দেশ মুক্ত করার এখনই সময়। দেশ বিদেশের সকল গণতন্ত্রকামী মানুষ এখন বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সমুন্নত দেখতে চায়।

তারেক রহমান আরো বলেন, পরিস্থিতি টের পেয়ে মাফিয়া সরকার দেশে-বিদেশে এখন বাংলাদেশের স্বার্থ বিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে। গণতন্ত্রকামী জনগণের ঐক্য বিনষ্ট করতে শেখ হাসিনার মাফিয়া চক্র জনমনে বিভ্রান্ত ছড়ানোর জন্য, নানারকমের মিথ্যাচার অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। তিনি আওয়ামী জাহেলিয়াতের মিথ্যাচার ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য গণতনতন্ত্রকামী জনগণের প্রতি আহবান জানান।

তারেক রহমান বলেন, ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে, বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ নানা চড়াই উৎরাই পার হয়েছে। তবে দেশ এবং দেশের জনগণ অতীতে আর কখনোই এতটা ‘অসহায়’ আর ‘আত্মর্যাদাহীন’ অবস্থায় উপনীত হয়নি। তিনি বলেন, একজন আত্মমর্যাদাহীন ক্ষমতালোভী ব্যক্তির অবৈধ ক্ষমতার লিপ্সা মেটাতে প্রকাশ্যে অন্যদেশের করুনা ভিক্ষা চাওয়া একটি স্বাধীন দেশ এবং দেশের জনগণের জন্য কতটা অপমানজনক, নাগরিক হিসেবে এটি যদি আমরা এখনো উপলব্ধি করতে না পারি তাহলে শুধু অপমানই নয় ভবিষ্যতে হয়তো পদে পদে আরো অপদস্থ হতে হবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, এখন শুধু খাদ্য সংকটের কারণেই ‘নীরব দুর্ভিক্ষ’ নয় দেশে এখন সত্যি সত্যিই ‘রুচি এবং নীতির দুর্ভিক্ষ’ও চলছে। তিনি সম্প্রতি টেলিভিশনে রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর একটি আত্মমর্যাদাহীন আত্মকথনের কথা উল্লেখ করে বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেয়ার পরও একজন রাষ্ট্রপতি যখন রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা ভুলে গিয়ে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে নিঃসংকোচে একজন অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর ‘পায়ের ধুলা’ পাওয়া না পাওয়ার কাহিনী শোনান তখন মনে হয় দেশে এখন শুধু খাদ্য সংকটের কারণেই ‘নীরব দুর্ভিক্ষ’ নয় দেশে সত্যি সত্যিই ‘রুচি এবং নীতিরও দুর্ভিক্ষ’ চলছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত তারেক রহমান বলেন, বৌদ্ধ ধর্মের প্রধান ধর্মগুরু গৌতম বুদ্ধ,তার অনুসারীদের জন্য ঘোষণা করেছিলে পঞ্চশীল নীতি।অহিংসা, চুরি না করা, মিথ্যা না বলাসহ এই পঞ্চশীল নীতি হলো বৌদ্ধ ধর্মের মৌলিক শিক্ষা। প্রতিটি ধর্মের মর্মবাণীই হচ্ছে সাম্য-মানবিকতা-ন্যায়বিচার। প্রতিটি ধর্মই সত্য -সুন্দর আর মানুষের অধিকারের পক্ষে কথা বলছে।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র-ও ছিল সাম্য-মানবিক মর্যাদা-সামাজিক সুবিচার। প্রতিটি ধর্মের মৌলিক নীতি এবং মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র এ দুইয়ে’র মধ্যে কিন্তু নীতিগত কোনো বিরোধ নেই। অর্থাৎ একটি সাম্য এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের বার্তা সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্রের মধ্যেই নিহিত ।

সুতরাং মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে, মানুষকে গুন্ খুন অপহরণ করে, যে মাফিয়া সরকার একযুগেরও বেশি সময় ধরে,
রাষ্ট্র ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছে এই মাফিয়ার কবল থেকে দেশকে মুক্ত করে একটি মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নাগরিকদের শুধু রাজনৈতিক দায়িত্বই নয় ধর্মীয় বিবেচনায়ও দায়িত্ব রয়েছে, বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তারেক রহমান বলেন, দেশ বর্তমানে এমন এক কঠিন সময়ে উপনীত হয়েছে রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বক্ষেত্রে এখন পাহাড়সম বৈষম্য।
ন্যায় বিচার দূরের কথা এখন বিচারের নামে চলছে অবিচার। ‘মানবিক মর্যাদা’ হারিয়ে আত্মমর্যাদা হারিয়ে এখন যেন চারদিকে চলছে
লোভী আর দুর্নীতিবাজদের বিকৃত উল্লাস।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী প্রতি মানুষের জন্যই একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মানের স্বপ্ন নিয়েই মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলেন। ‘তলাবিহীন ঝুড়ির’ বদনাম ঘুচিয়ে, সেই স্বাধীন বাংলাদেশ, স্বাধীনতার ঘোষকের নেতৃত্বে সারাবিশ্বে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। মাদার অফ ডেমোক্রেসি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ হয়ে উঠেছিল এশিয়ার এমারজিং টাইগার। সেই বাংলাদেশ এখন লুটেরাদের কবলে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আত্মমর্যাদাহীন ক্ষমতালোভী ব্যক্তির অবৈধ ক্ষমতার খায়েশ মেটাতে, মাফিয়া সরকার বিশেষ করে গত একদশকে কিভাবে মানুষের ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে রাষ্ট্র ও প্রশাসনে ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা করেছে। দেশে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উপাসনালয়ে, বাড়িঘরে অসংখ্য হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। ফলে তারা একটি হামলার ঘটনারও বিচার করেনি।

তিনি বলেন, ২০১২ সালে রামু বৌদ্ধ বিহারে হামলা লুটপাট ভাংচুর চালানো হয়েছিল। হামলার পর এক দশক পেরিয়ে গেলেও এখনো বিচার হয়নি। কেন হয়নি? তারেক রহমান বলেন, সেদিন বেশি দূরে নয় অচিরেই দেশে জনগণের রায়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।
সেই সরকার রামু বৌদ্ধ বৌদ্ধ হামলার বিচার করবে। যারা এই বিচার নিয়ে টালবাহানা করছে তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনা হবে।

তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশ কিংবা বর্তমান দেখা গেছে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে আওয়ামী লীগ সবসময়ই কখনো ‘মদিনার সনদে’ দেশ চালানোর কথা বলে মোনাফেকীর আশ্রয় নিয়ে, কখনো ধর্মের নামে, কখনো ধর্ম নিরপেক্ষতার নামে, রাষ্ট্র ও সমাজে হিংসা বিদ্বেষ হানাহানি জিইয়ে রাখার অপচেষ্টা চালিয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি বিভিন্ন মেয়াদে জনগণের রায়ে কয়েকবার রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকুক কিংবা বিরোধী দলে বিএনপি কখনোই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায়না। বিএনপি কখনোই ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়না, করেনা।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে, ধর্ম যার যার – রাষ্ট্র সবার বিএনপি বিশ্বাস করে,ধর্ম যার যার,নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার।মাফিয়া সরকারের বেপরোয়া সন্ত্রাস ও লুণ্ঠনে বিপন্ন রাষ্ট্র মেরামতে ঘোষিত ২৭ দফাতেও বিএনপির এই নীতির কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। রাষ্ট্রে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাই সকলক্ষেত্রে সমানাধিকার ভোগ করবে এটাই বিএনপি’র নীতি। এটাই বিএনপির রাজনীতি।

তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিককে একই সুতোয় আবদ্ধ করতে স্বাধীনতার ঘোষকের দল বিএনপি’র যুগান্তকারী রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ । সুতরাং, এই বাংলাদেশে যিনি যে ধর্মেরই হোক না কেন কেউ নিজেকে সংখ্যালঘু ভাবার প্রয়োজন নেই।
মুক্তিযুদ্ধের সময় কে মুসলমান, কে হিন্দু ,কে বৌদ্ধ এটি কারো জিজ্ঞাসা ছিলোনা। সুতরাং, দল-মত ধর্ম বর্ণ বিশ্বাসী -অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী বাংলাদেশের প্রতি নাগরিকের একটাই পরিচয় ‘আমরা বাংলাদেশী’।

তারেক রহমান বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদেরকে বুদ্ধ পূর্ণিমার শুভেচ্ছা জানান।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি সাচিং প্রু জেরি, উদয় কুসুম বড়ুয়া, সুশীল বড়ুয়া, মৈত্রী চাকমা, প্রবীন চন্দ্র চাকমা, চন্দ্র কুমার বড়ুয়া, পার্থ প্রতিম বড়ুয়া, কোহিলী দেওয়ান, সনত তালুকদার, ঝন্টু কুমার বড়ুয়া, রুবেল বড়ুয়া, তুরণ দে, মিল্টন বড়ুয়া, সত্যজিত বড়ুয়া, জিকু বড়ুয়া, বিদ্যুত বড়ুয়া, দীপু বড়ুয়া, প্রতিম বড়ুয়াশো অনেকে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ