মিডিয়ার অতিরঞ্জিত খবরের কারণেই আম ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:৪৫, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

মিডিয়ার অতিরঞ্জিত খবরের কারণেই আম ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, মে ২৭, ২০২৪ ৪:৪৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, মে ২৭, ২০২৪ ৪:৪৩ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
মিডিয়া কর্মী ভাইয়েরা অতিরঞ্জিত ভাবে খবরগুলো প্রচারিত করার কারণেই রাজশাহী অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা ও আম চাষি ভাইরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা।

সোমবার (২৭ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে “চাঁপাইনবাবগঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম, ঢাকা,(সিজেএফডি)” এর আয়োজনে,”বাংলাদেশে আম উৎপাদন: সমস্যা ও সম্ভাবনা” শীর্ষক জাতীয় আম সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

মো: শাহরিয়ার আলম বলেন, রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীতেই আমের চাষ বেশি হয়। জীবন জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এখন আম চাষ হচ্ছে। বর্তমানে নওগাঁ জেলায় আমের ব্যাপক চাষ হচ্ছে। আমচাসী ব্যবসায়ীদের নিয়ে ২০০৯ সালে সমিতি করি। আমার নির্বাচনী এলাকায় ধান নেই বললেই চলে, সকল স্থানেই আমের বাগান, সবার অর্থনীতি আম চাষের উপর নির্ভর করে। ২০২১ সালের দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী থেকে সিলেট চট্টগ্রামে বিভিন্ন গাড়িতে আম যেত, তখন ফরমালিনের কথা বলে সকল আম নষ্ট করে দেয়া হতো। এ থেকেই বাংলাদেশের মানুষের চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী আমের প্রতি আকর্ষণ কমে যায় এই জন্য যে তারা আমি ফরমালিন ব্যবহার করেন। মিডিয়া কর্মী ভাইয়েরা অতিরঞ্জিত ভাবে খবরগুলো প্রচারিত করার কারণেই রাজশাহী অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা ও আম চাষি ভাইরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পরবর্তীতে পিএমকে আমি বুঝিয়ে বলি যে রাজশাহীর অঞ্চলের মানুষ আমে ফরমালিন ব্যবহার করেন না, মধ্যভোগী ব্যবসায়ীরা এ ধরনের কাজ করে থাকে। ফলের জন্য পূর্বে শ্যামপুরে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার ছিল মাত্র একটি, কিন্তু সেটিও বন্ধ রয়েছে, যা সাবেক সরকারের কৃষি মন্ত্রী সফর করে দেখেছেন।

তিনি বলেন, আমি কৃষি মন্ত্রীকে আহবান করার পর দেশের চারটি স্থানে কোয়ারেন্টাইন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এগুলোর কাজ চলমান রয়েছে। স্যার কি স্থানে কোয়ারেন্টাইন স্থাপিত হলে, ওই অঞ্চলের ফল ব্যবসায়ীরা ব্যাপক উপকৃত হবেন। ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিশ্বের প্রতিটি দেশে বাংলাদেশের আম রপ্তানি হয়েছে, শুধুমাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কারণে। বহির বিশ্বে বাংলাদেশী আমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, তবে এক্ষেত্রে আমাদের গ্যাপের নিয়ম অনুসারে আম চাষ করতে হবে তবেই আম বিদেশের যে কোন রাষ্ট্রে রপ্তানি করা যাবে। জাপানের মানুষ বাংলাদেশী আমের ব্যাপক প্রশংসা করেছেন। সেদিন বেশি দূরে নয় যেখানে জাপানি আমের মত বাংলাদেশের ন্যাংড়া আম নিলামে উঠবে। বাংলাদেশের আমের বিশ্বের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, তাই আম রপ্তানির ক্ষেত্রে যে সকল শর্ত থাকা প্রয়োজন, সেগুলো মেনে আমাদেরকে আম চাষে কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

ডিআইজি নুরুল ইসলাম বলেন, আমি চাপাইনবাবগঞ্জের মানুষ জন্মের পর থেকে আমগাছ দেখেছি, বুদ্ধি হওয়ার পর আমের মুকুল দেখেছি। আমাদের এলাকার মানুষের জীবন জীবিকার প্রধানতম উৎস হচ্ছে আম চাষ। আমরা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের নিকট ভালো মানের আম পৌঁছে দিতে পারেনি। আম চাষ লাভজনক না হলে এক সময় আম আমাদের মধ্য থেকে হারিয়ে যাবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হতে মূলত আম চাষের বিস্তার ঘটেছে। আমাদের সকলের দায়িত্ব আম চাষের পরিধি বৃদ্ধি করে এর বিস্তার ধরে রাখা। আমাদের চিন্তা করতে হবে আম চাষ কিভাবে করে লাভ লাভজনক করা যায়। আমরা বাংলাদেশের মানুষের চাহিদা অনুযায়ী আম পৌঁছে দিতে পারছিনা, এ ব্যাপারে আমাদের আরো জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। আমের সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। আমরা থাইল্যান্ড থেকে কাঁচা আম রপ্তানি করে খেয়ে থাকি কিন্তু বাংলাদেশেই ভালো মানের প্যাকেজিং ব্যবস্থা থাকলে আমদানি করতে হবে না। আমাদের কাঁচা আম প্যাকেজিং সিস্টেম করে দেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে। আমের চাষিরা অনেকেই বলেন আমের খাতে ভর্তুকি দিতে হবে এটা ভুল, সরকারের ভর্তুকি দেওয়ার আরো অনেক খাত রয়েছে। আম চাষ লাভজনক করতে সকলকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করে, ভালো মানের আম দেশের অলিতে গলিতে পৌঁছে দিতে হবে। আম বিদেশে রপ্তানি করতে হবে না, কারণ আমের চাহিদা বাংলাদেশেই ব্যাপক রয়েছে।

মু. জিয়াউর রহমান বলেন, আমাদের এত সুন্দর একটি আয়োজন কে ছেড়ে যেতে হচ্ছে বলে, নিরুপায় হয়ে চলে যেতে হচ্ছে। আমের দেশের মানুষ আমি, আম সম্পর্কে ভাল জ্ঞান আমার নেই, তবে আমি আম কুরিয়ে খেয়েছি। আমাদের আম চাষের সমস্যা অনেক, এই সমস্যার সমাধান সমাধান করতে হবে। আম সারা দেশেই হয়,তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম সুস্বাদু হয়ে থাকে। তাই আম চাষের জন্য সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

আম শিল্পে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ অন্যতম আম উৎপাদক দেশ। আবহাওয়া ও মাটি অনুকুল। মৌসুম মে-সেপ্টেম্বর, পিক জুন জুলাই। উৎপাদন এলাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ, সাতক্ষিরা সহ সারা দেশ।সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে আম চাষের এরিয়া ও ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে। আমের জাতগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো গোপালভোগ, খিরসাপাত, হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলী, আশ্বিনা বারি আম-৩, বারি আম-৪, বারি আম-১১, বারি আম-১২ ইত্যাদি।পুরোনো বয়স্ক বাগানের উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে।প্রতিবছর প্রায় ২৫ লক্ষ মেট্রিক টন আম উৎপন্ন হয়।

সংগ্রহ না করার কারণে ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ৩০-৪০%। পিক মৌসুমে উৎপাদন প্রাচুর্যে মূল্য হ্রাস পায়, কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জিএপি অনুসরণে নিরাপদ ও চুক্তিবদ্ধ উৎপাদন নেই।সরকারী উদ্যোগে রফতানি ও বাজার সহায়ক স্পেশাল ট্রেন চালুর ব্যবস্থা করেছেন।ভিএইচটি সহ আরো কিছু বিষয়ে চেষ্টা করা হচ্ছে।

রপ্তানির ক্ষেত্রে আম রপ্তানির বিরাজমান সমস্যা গুলো তুলে ধরে বক্তারা বলেন, কন্ট্রাক্ট ফার্মিং-এর মাধ্যমে ‘উত্তম কৃষি চর্চা’ (GAP) অনুসরণপূর্বক রপ্তানিযোগ্য নিরাপদ আম উৎপাদনের পদক্ষেপ গ্রহণ না করা,পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জীবাণুমুক্ত স্বাস্থ্যকর পরিবেশে আম উপাদন ও উন্নত সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আমদানিকারক দেশ কর্তৃক আরোপিত বিভিন্ন শর্তাবলী পূরণ না করা,রপ্তানিযোগ্য উন্নতমানের আম উৎপাদন ও বিপণনের ক্ষেত্রে ভ্যালুচেইনের সাথে সংশ্লিষ্ট কৃষক, গবেষক, সম্প্রসারণকর্মী, কোয়ারেন্টাইন বিভাগ ও রপ্তানিকারকদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের অভাব,গাছ থেকে আম সংগ্রহের উপযুক্ত পরিপক্কতা পর্যায় (Optimum harvest maturity) নির্ধারন ও সংগ্রহোত্তর উন্নত প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের যথোপযুক্ত জ্ঞান, দক্ষতা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব,সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনার জন্য দেশের প্রধান প্রধান উৎপাদন এলাকায় অদ্যাবধি মানসম্মত হিমাগার ও প্যাকহাউজ গড়ে না উঠা,সংগ্রহের পর আমের গুণগত মান বজায় রেখে যথাযথভাবে গ্রেডিং, প্যাকিং করে কুলিং ভ্যানের মাধ্যমে আর পরিবহণ না করা,বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন নতুন রপ্তানি বাজার সৃষ্টি করতে না পারা এবং উন্নতমানের নিরাপদ আম রপ্তানির জন্য রপ্তানিকারকদের অনীহা ও মানসিকতা তৈরি না হওয়া,আমে উপস্থিত পেস্টিসাইডের রেসিডিও অ্যানালাইসিস ও ফলের গুণমান পরীক্ষার জন্য পূর্ণ সক্ষমতা সম্পন্ন অ্যাক্রিডিটেড ল্যাবরেটরির অভাব,আমের উন্নত সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি বিষয়ে বিশেষ করে কোয়ারেন্টাইন পেস্ট যেমন, ফ্রুট ফ্লাই, অ্যানথ্রাকনোজ ও বোঁটা পচা রোগে (Stem end rot) ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণের জন্য ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট প্লান্টসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, অবকাঠামো ও উন্নত প্রযুক্তির অভাব,উৎপাদন ও সংগ্রহোত্তর পর্যায়ে ফসলে ব্যবহৃত যাবতীয় উপকরণ ও কার্যক্রম ফার্ম রেকর্ড বইয়ে লিপিবদ্ধ ও সংরক্ষণ না করা ইত্যাদি।

আম রপ্তানী বাড়ানোর জন্য সুপারিশসমুহ তুলে ধরেন:

রাসায়নিক উপাদানের ব্যবহার সীমিত রেখে যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে আম উৎপাদন করা,আমের প্যাকিং ব্যবস্থার উন্নয়ন করা,আম পরিবহনের জন্য আধুনিক যানবাহনের ব্যবস্থা করা,বিমানের কার্গোতে আম পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত ও সহজতর করা,রপ্তানী উপযোগী আমের চাষ সম্প্রসারণ করা,আম চাষী বিশেষকরে রপ্তানীর জন্য আম উৎপাদনকারীগণের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, আম থেকে উৎপাদিত পন্য যেমন জুস, জ্যাম, জেলি, আচার, কেন্ডি ইত্যাদির বিদেশে বাজার সম্প্রসারণ করা,আম ভিত্তিক শিল্প স্থাপনে সহজ শর্তে ঋন প্রদান করা,জৈব প্রযুক্তি নির্ভর আম উৎপাদন উৎসাহিত করা,আম সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্যাকিং ও পরিবহন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া,আম রপ্তানীর জন্য সকল রপ্তানীকারকের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এবং মানদন্ড ঠিক করে দেয়া।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম, ঢাকা, (সিজেএফডি) সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সভাপতি মু. জিয়াউর রহমান এমপি, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এমপি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রাব্বানী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যান তথ্য গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুখলেসুর রহমান, পিপিএম (বার), পিপিএম,, ঢাকা রেঞ্জ, বাংলাদেশ পুলিশ ডিআইজি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সমিতি, ঢাকা সভাপতি, সৈয়ত নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ এগ্রো-কেমিক্যাল ম্যানুফাকচারাস অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি কে এস এম মুস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম, ঢাকা, (সিজেএফডি) সাধারণ সম্পাদক
জিয়াউল হক সবুজসহ প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ