মিত্রদের এই টানাপোড়েন ও মামলা-হামলায় চিন্তিত নয় বিএনপি - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:০২, শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

মিত্রদের এই টানাপোড়েন ও মামলা-হামলায় চিন্তিত নয় বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, জানুয়ারি ১৮, ২০২৩ ৩:২৮ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, জানুয়ারি ১৮, ২০২৩ ৩:২৮ পূর্বাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে ৩০ ডিসেম্বর থেকে যুগপৎ আন্দোলন শুরু করেছে বিএনপি। তবে এরই মধ্যে আন্দোলনের শরিক জোটগুলোর মধ্যে এক ধরনের টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। যুগপতের প্রথম কর্মসূচিতে জোটের শীর্ষ নেতারা অংশগ্রহণ করলেও পরবর্তী কর্মসূচিগুলোতে তাদের অধিকাংশই ছিলেন অনুপস্থিত। এটা নিয়েও এক ধরনের সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া জোটের মধ্যে নেতৃত্বের কোন্দল, জোটভুক্ত এক বা একাধিক দলকে অন্য দলের অপছন্দের বিষয়টিও রয়েছে। পাশাপাশি দু-একটি দল একাধিক জোটেও রয়েছে। কিছু নামসর্বস্ব সামাজিক সংগঠন নিয়েও একটি জোট গঠন করা হয়েছে। এ নিয়ে বিএনপিতে অসন্তোষ রয়েছে। এর বাইরে কর্মসূচি করতে গিয়ে হামলা-মামলা-গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটছে। এসব কোন্দল-টানাপোড়েন, হামলা-মামলার বিষয়টি কাটিয়ে জোট ও দলের সুদৃঢ় ঐক্যের ওপর ভিত্তি করে আন্দোলনকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া বিএনপির জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা। তবে মিত্রদের এই টানাপোড়েন ও মামলা-হামলায় চিন্তিত নয় বিএনপি। দলটি বলছে, গত ১৫ বছর ধরে সরকারি মামলা-হামলা-গ্রেপ্তার অতিক্রম করেই তারা রাজনীতিতে টিকে রয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও যুগপৎ আন্দোলন পরিচালনায় গঠিত লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, কোনো জোটের মধ্যে কোনো কারণে টানাপোড়েন থাকতেই পারে। সেটা আবার মিটেও যায়। এতে আন্দোলনে কোনো প্রভাব পড়ে না। এটা নিয়ে বিএনপি চিন্তিত নয়। যুগপৎ আন্দোলনকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে টেনে নিয়ে যাওয়া বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ কিনা—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ রকম একটা দুঃশাসনের বিরুদ্ধে যখন কোনো আন্দোলন গড়ে তোলা হয়, সেটাই তো একটা বড় চ্যালেঞ্জ।

গণতন্ত্র মঞ্চে টানাপোড়েন : প্রতিষ্ঠার পাঁচ মাসের মধ্যেই গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে শরিক গণঅধিকার পরিষদের টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। নুরুল হক নুরের দল এখন সেন্টিমেন্টাল পর্যায়ে আছে। গণঅধিকার পরিষদের অভিযোগ, গণতন্ত্র মঞ্চ তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করছে না। যুগপৎ আন্দোলনে গত সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মঞ্চের সর্বশেষ কর্মসূচিতে গণঅধিকার পরিষদের কোনো প্রতিনিধিই উপস্থিত ছিলেন না। এর আগে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলোর ৩০ ডিসেম্বরের গণমিছিল এবং ১১ জানুয়ারির গণঅবস্থান কর্মসূচিতে সক্রিয় অবস্থান ছিল না গণঅধিকার পরিষদের। মূলত দলটি এখন এককভাবে কর্মসূচি করছে। এদিকে ভিপি নুরের দলের এমন আচরণে বিরক্ত গণতন্ত্র মঞ্চ।

এ প্রসঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও মিডিয়া সমন্বয়ক আবু হানিফ গত সোমবার গণমাধ্যমকে বলেন, গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যান্য দলের চেয়ে গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক কাঠামো অনেক ভালো। সমাবেশে দলের লোকসমাগমও অনেক বেশি হয়। তবে গণতন্ত্র মঞ্চের অন্য নেতারা গণঅধিকার পরিষদকে তেমন মূল্যায়ন করছে না। তারা ভাবেন এটা একটা নতুন দল। এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের তরুণ নেতৃবৃন্দ অনেকটা হতাশ। তিনি জানান, গত ১১ জানুয়ারি যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচিতে গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুরের দেশে এসে সরাসরি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সমাবেশে যোগদানের কথা ছিল। এ কারণে তিনি এয়ারপোর্টেও মিডিয়ায় কথা বলেননি।

গণঅধিকার পরিষদের নেতারা জানান, নুরের সমাবেশে অংশগ্রহণ করার বিষয়টি গণতন্ত্র মঞ্চের অন্য নেতাদের জানালেও তারা সমাবেশ দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত শেষ করে দেন। এ কারণে নুর সমাবেশে যোগদান করতে পারেননি। এসব কারণে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতাদের মাঝে এক ধরনের টানাপোড়েন শুরু হয়। ফলে দলীয় বৈঠকে সোমবার গণতন্ত্র মঞ্চের এ সমাবেশে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেয় গণঅধিকার পরিষদ। তবে গণতন্ত্র মঞ্চ থেকে গণঅধিকার পরিষদ বের হয়ে গেছে, এটা সত্য নয় বলে দাবি করেন আবু হানিফ।

জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির টানাপোড়েন : দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের কিছুটা টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। জামায়াত সূত্র জানায়, গত ১২ ডিসেম্বর রাতে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে বিএনপির কোনো নেতা বক্তব্য বা বিবৃতি দেননি। এ ছাড়া গত ৩০ ডিসেম্বর যুগপতের গণমিছিল করতে গিয়ে মালিবাগে জামায়াতের শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার ও আহত হন। এ নিয়েও বিএনপি কোনো মন্তব্য করেনি। এমনকি পরের কর্মসূচি নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে কোনো আলোচনাও করেনি। এ নিয়ে জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। তবে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, তারা সরকার পতনের লক্ষ্যে ১০ দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে আছেন।

গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ থেকে ১০ দফার ভিত্তিতে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচির ঘোষণা দেয় বিএনপি। গত ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় গণমিছিলের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর ১১ জানুয়ারি গণঅবস্থান এবং সর্বশেষ গত ১৬ জানুয়ারি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুগপৎ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় চতুর্থ কর্মসূচি হিসেবে আগামী ২৫ জানুয়ারি দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

বিএনপির সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়েছে সমমনা পাঁচটি জোট ও দুটি দল। জোটগুলো হলো-গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, সমমনা গণতান্ত্রিক জোট এবং গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য। এ ছাড়া যুগপৎ আন্দোলনের এলডিপি ও গণফোরাম (মন্টু) পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করছে। তবে জাতীয় প্রেস ক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিকেন্দ্রিক নামসর্বস্ব ১৫টি সামাজিক সংগঠন নিয়ে গঠিত গণতান্ত্রিক সমমনা জোট নিয়ে বিএনপিতে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক দল না হওয়ায় ওই জোট নিয়ে বিএনপির এখন তেমন কোনো আগ্রহ নেই। তবে যুগপৎভাবে কর্মসূচি করলে দলটির তাতে আপত্তিও নেই বলে জানা গেছে।

গত ৩০ ডিসেম্বর যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচিতে শরিক জোটগুলোর শীর্ষ নেতারা অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু পরবর্তী কর্মসূচিগুলোতে তাদের অধিকাংশই অনুপস্থিত ছিলেন। সর্বশেষ গত সোমবার অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচিতেও তারা উপস্থিত ছিলেন না। গণতন্ত্র মঞ্চের কর্মসূচিতে জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না অনুপস্থিত ছিলেন। এটা নিয়ে অনেকের মধ্যে সন্দেহ-অবিশ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। তবে কর্মসূচি থেকে মান্নার অসুস্থ থাকার কথা জানানো হয়। এ ছাড়া একইদিন পূর্বপান্থপথে এফডিসি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত এলডিপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ অনুপস্থিত ছিলেন।

জানতে চাইলে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা ও গণসংহতি আন্দোলনে প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক সাতটি দলের প্রতিটি দলেরই মর্যাদা সমান। কাজেই আমি মনে করি না যে, এখানে কাউকে অবমূল্যায়ন করার কোনো সুযোগ আছে। কোনো সমস্যা থাকলে আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে সেটার সমাধান করা হবে।

মঞ্চের কর্মসূচিতে শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে আ স ম আব্দুর রব ভাই এবং মাহমুদুর রহমান মান্না ভাই অসুস্থ। তারা এখন সুস্থতার দিকে। আশা করি, সামনের কর্মসূচিতে তারা অংশ নিবেন। এক প্রশ্নের জবাবে সাকি বলেন, শীর্ষ নেতারা অনুপস্থিত থাকলেও কর্মসূচি বাস্তবায়নে সেটা কোনো সমস্যা সৃষ্টি করছে না। বাকি সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণে প্রতিটি কর্মসূচি সফলভাবে পালিত হচ্ছে।

এলডিপির যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন রাজ্জাক বলেন, কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ স্যার পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য গত ৯ জানুয়ারি থেকে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। সে কারণে তিনি যুগপৎ আন্দোলনের বিগত দুটি কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে পারেননি। আগামী ২৪ তারিখ স্যারের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

এদিকে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় চলমান যুগপৎ আন্দোলনে বিএনপি আর মিত্র বাড়াচ্ছে না বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। যুগপৎ আন্দোলনে বিএনপি আর মিত্র বাড়তে পারে কিনা এমন প্রশ্নে দলটির নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আমি তেমনটা মনে করি না। যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি প্রণয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথমে শরিক প্রতিটি জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করি। এরপর বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ