মূল্যস্ফীতির চাপে দিশেহারা নিম্নআয়ের মানুষ,বলছে জরিপ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:৩৯, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

মূল্যস্ফীতির চাপে দিশেহারা নিম্নআয়ের মানুষ,
বলছে জরিপ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, মার্চ ৩০, ২০২৩ ১:২০ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, মার্চ ৩০, ২০২৩ ১:২০ পূর্বাহ্ণ

 

৩৭% পরিবারকে এখন মাঝেমধ্যে কোনো এক বেলা না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় কম খাচ্ছে ৭১% পরিবার। ১৮% পরিবারের লোকজনকে গত ৬ মাসে পুরো দিনও না খেয়ে থাকতে হয়েছে।
ডেস্ক নিউজ
মূল্যস্ফীতির চাপে দেশের ৭৪% নিম্নআয়ের পরিবার ধার করে চলছে। গত ছয় মাসে এসব পরিবারের ব্যয় বেড়েছে ১৩%, কিন্তু তাদের আয় বাড়েনি। ৯০% নিম্নআয়ের পরিবারগুলো অর্থনৈতিক চাপে তাদের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনেছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
বুধবার (২৯ মার্চ) ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশের ৮ বিভাগের ১ হাজার ৬০০ পরিবারের ওপর করা এই জরিপের ফলাফল তুলে ধরে সানেম। জরিপটি চলতি মার্চ মাসে করা হয়েছে। তবে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি- এই ছয় মাসের তথ্য নেওয়া হয়েছে।
সানেমের জরিপের তথ্য বলছে, মূল্যস্ফীতির চাপে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত ব্যয় বাড়তে থাকায় গত ছয় মাসে যে ৭৪% পরিবার ধার করে চলেছে, তাদের ধার করা বন্ধ হয়েছে বা বন্ধ হবে, এমন পরিস্থিতি এখনো আসেনি। বরং পরিস্থিতি যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে ৮৫% পরিবার মনে করে যে আগামী ৬ মাসে তাদের আরও ধার করতে হবে। জরিপ বলছে, ৩৫% পরিবার তাদের সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে, আর সঞ্চয় বিমুখ হয়েছে ৫৫% পরিবার।
বিগত ৬ মাসে ধারের উৎস হিসেবে ৪৫% পরিবার বেছে নিয়েছে ক্ষুদ্র ঋণের প্রতিষ্ঠান। ৩৭% পরিবার আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। সমবায় সমিতি থেকে ধার করছে ২৩% পরিবার। এছাড়া ব্যাংক ও মহাজনি ঋণ নিয়েছে যথাক্রমে ১৪ ও ৩% পরিবার।
খাবারে কাটছাঁট ও না খেয়ে থাকতে হয়েছে পরিবারগুলোকে
সানেম বলছে, মূল্যস্ফীতির চাপে খাবারের খরচ মেটাতে মানুষ এখন ব্যাপক কাটছাঁট করে চলছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৯০% পরিবার জানিয়েছে, তাদের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হয়েছে। এর মধ্যে ৯৬% পরিবার মাংস খাওয়া কমিয়েছে। যেমন ছয় মাস আগেও যেসব পরিবারে মাসে ৪ বার মুরগি খেত, এখন তারা ২ বার মুরগি খায়। মাছ খাওয়া কমিয়েছে ৮৮% পরিবার। এছাড়া ৭৭% পরিবার ডিম ও ৮১% পরিবার ভোজ্যতেল খাওয়া কমিয়েছে। শহরের নিম্ন আয়ের পরিবার খাদ্য কিনতে বেশি কাটছাঁট করছে। গ্রামের পরিবারগুলো খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে খরচ কমিয়েছে বেশি।
সানেমের জরিপে উঠে এসেছে, ৩৭% পরিবার বলেছে, তাদের এখন মাঝেমধ্যে কোনো এক বেলা খাবার না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় খাবার কম খাচ্ছে বলে মনে করে ৭১% পরিবার। ১৮% পরিবারের লোকজনকে গত ৬ মাসে পুরো দিনও না খেয়ে থাকতে হয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা নেই অনেক পরিবারের
সানেম বলছে, জরিপে অংশ নেওয়া পরিবারের মধ্যে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আছে মাত্র ৪০% নিম্ন আয়ের পরিবার। এর মধ্যে বেশির ভাগ আছে টিসিবির পরিবার কার্ডধারী। সরকারের অন্য সহায়তা তারা পাচ্ছে না। টিসিবির এই কার্ড প্রাপ্তির হার গ্রামের তুলনায় শহরে বেশি।
জরিপে অংশ নেওয়া ৫৬% পরিবার মনে করে, আগামী ছয় মাসে তাদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না। ৪১% পরিবার এটাও বলছে, ভবিষ্যতে তাদের ভিক্ষা বা শর্তহীন সাহায্য নিয়ে চলতে হতে পারে। টিকে থাকার জন্য শহর থেকে গ্রামে যেতে চায় বেশির ভাগ মানুষ।
বর্তমানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ মানুষ বলেছেন, সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সানেম বলছে, ময়মনসিংহ, উত্তরাঞ্চল ও সিলেটের নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তার ভয় বেশি।
জমি বিক্রি-পড়ালেখা বন্ধ-দ্রুত বিয়ে
সানেম আরও বলছে, খাবার জোগাড় করতে জমি বিক্রি করে চলতে হতে পারে বলে মনে করে ১৭% নিম্নআয়ের পরিবার। অবস্থা সামাল দিতে ভবিষ্যতে ঘরের শিশুদের শ্রমে নিযুক্ত করতে হতে পারে বলে ১৯% পরিবার জানিয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আসায় ২৪% পরিবার মনে করে ব্যয় কমাতে তাদের সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ করতে হতে পারে। মেয়েসন্তানকে দ্রুত বিয়ে দেওয়ার কথাও বলছেন অনেকে। ২৫% পরিবার মনে করে বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে তাদের হাতে এখন আর কোনো সুযোগ অবশিষ্ট নেই। তারা এখন নিরুপায়।
জরিপের ফলাফল তুলে ধরে সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় নিম্নআয়ের মানুষ কেমন আছে, তার জন্য জরিপ না করেও বলে দেওয়া সম্ভব, তারা কেমন আছে। এ জন্য এই জরিপে যা উঠে এসেছে, তা হয়তো অনেকের জানা। তবে নীতিনির্ধারকদের কাছে বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। এ জন্য পেশাগত দায়িত্বের মধ্য দিয়ে নিম্নআয়ের মানুষ যে চাপে আছে, সেই বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি আমরা।
সেলিম রায়হান আরও বলেন, এই জরিপে দেশের সব নিম্নআয়ের মানুষের চিত্র পুরোপুরি উঠে এসেছে কিংবা দরিদ্র জনগোষ্ঠী বেড়েছে, এমনটা বলা না গেলেও সামগ্রিক অবস্থার একটা ধারণা অন্তত পাওয়া সম্ভব।
সানেম দেশের আটটি বিভাগে নির্দিষ্ট এলাকা থেকে গ্রাম ও শহর ভাগ করে এই জরিপ চালিয়েছে। তথ্য নিয়েছে বিভাগীয় শহরের বস্তি এলাকা ও ওই বিভাগের নির্দিষ্ট উপজেলা থেকে। আর উপজেলা পর্যায় থেকে তথ্য নিতে সেখানকার চারটি গ্রামের নিম্নআয়ের মানুষের কাছে যায় গবেষণা সংস্থাটি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ