মেধাবী ছাত্রদের মেরে ফেললে দেশের ভবিষ্যত কি দাঁড়াবে : ফারদিনের পিতা - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১:৩২, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

মেধাবী ছাত্রদের মেরে ফেললে দেশের ভবিষ্যত কি দাঁড়াবে : ফারদিনের পিতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, নভেম্বর ৮, ২০২২ ৫:১০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, নভেম্বর ৮, ২০২২ ৫:১০ অপরাহ্ণ

 

শত্রুতার কারণে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই। তিনিও সন্তানের মা, তিনি বোঝেন, সন্তান হারালে কীভাবে একটা পরিবারের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়। মেধাবী ছাত্রদের এভাবে মেরে ফেললে দেশের ভবিষ্যত কি দাঁড়াবে?। ২৫ বছর ধরে তিলে তিলে গড়ে তোলা স্বপ্ন আমার, আজ হত্যাকাণ্ডের শিকার। ওর লাশের সঙ্গে মানিব্যাগ, ব্লুটুথ, অকেজো মোবাইল, ঘড়ি সবই পাওয়া গেছে।
ছেলেকে হারিয়ে এভাবেই নিজের কষ্টের কথা জানান বুয়েটের ছাত্র ফারদিন নূর পরশের বাবা কাজী নূর উদ্দিন রানা। আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ছেলের লাশ নিয়ে বুয়েটের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে তিনি এসব কথা বলেন।
পরশের বাবা জানান, শুক্রবার রাতে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তারা ছেলেকে খোজাঁখুজি শুরু করেন। শনিবার রামপুরা থানায় জিডি করেন, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছিল।
তিনি বলেন, শনিবার ছেলের টার্ম পরীক্ষা ছিল বুয়েটে। সেজন্য সে শুক্রবার দুপুরে বাসা থেকে বের হয়েছিল। ওইদিন রাত ১১টার পর থেকে ছেলের মোবাইল বন্ধ হয়ে যায়। শনিবার সে যখন পরীক্ষায় অংশ নেয়নি তখন ছেলের বন্ধু ও শিক্ষকরা বাসায় ফোন দেন। তারপর থেকে আমরা ছেলেকে খোঁজাখুজি শুরু করলাম। না পেয়ে থানায় নিখোঁজের জিডি করলাম। পরে জানতে পারলাম, শুক্রবার রামপুরা থানা এলাকায় পরশ তার এক বান্ধবীকে নামিয়ে দিয়ে এসেছে। আমার ছেলে কোনো রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না। ফারদিনের মাথায়-বুকে আঘাতের চিহ্ন, তাকে হত্যা করা হয়েছে।
পরশকে নিয়ে বাবা নূর উদ্দিন আরও বলেন, পরশ রুটিন ধরে পড়াশুনা করত, পড়ালেখায় অনেক মনযোগী ছিল। সে বুয়েট, ঢাবিসহ তিন জায়গায় ভর্তির সুযোগ পেয়েছিল। পরে সে বুয়েটে ভর্তি হয় কিন্তু হলে যায়নি। এর কিছুদিন পর আবরাব হত্যাকাণ্ড ঘটে। এরপর ছেলে আর হলে যেতে চায়নি, আমরাও যেতে বলিনি। বাসা থেকে লেখাপড়া করত, বুয়েটের ক্যাম্পাসে যেত। খুব প্রয়োজন হলে বুয়েটের হলে থাকতো পরশ। যে ভয়ে ছেলেকে বুয়েটের হলে আমরাও যেতে বলিনি আজ সেটাই সত্যি হলো।
নূর উদ্দিন বলেন, এভাবে যদি আমরা এক একটা মেধাবী ছাত্র হারাতে থাকি, তাহলে ভবিষ্যত কি হবে?
পরশের বাবা জানান, কিছু দিন পরে স্পেনের একটা আন্তর্জাতিক বির্তক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল পরশের। এজন্য নতুন এনআইডি কার্ড, পাসপোর্ট করা হয়েছে। কিন্তু তার আগেই পরশ হত্যার শিকার হলো।
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) শেখ ফরহাদ বলেন, পরশের পুরো মাথা ও বুকে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সেগুলোর কোনোটাই সামান্য আঘাত নয়। তার ভিসেরা পাঠিয়েছি, অন্যান্য তথ্য ২-৩ দিন পর আসলে বলতে পারবো সে কীভাবে মারা গেছে। প্রাথমিকভাবে বলবো, অবশ্যই এটা হত্যাকাণ্ড।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ