মোদির ওয়াশিংটন সফরে উঠতে পারে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ: আনন্দবাজার - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৯:২৩, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

মোদির ওয়াশিংটন সফরে উঠতে পারে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ: আনন্দবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, জুন ১১, ২০২৩ ১:২২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, জুন ১১, ২০২৩ ১:২৩ অপরাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ
আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপ নিয়ে শেখ হাসিনা সরকার নয়াদিল্লির কাছে ঘরোয়া ভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার আসন্ন ওয়াশিংটন সফরে বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসনের গুরুত্বের দিকটি তুলে ধরতে পারেন।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দৈনিক আনন্দবাজার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। নয়া দিল্লি থেকে অগ্নি রায়ের করা প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র এবং আংশিক ভাবে জাপানের অতিসক্রিয়তার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।

শীর্ষ কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অভিযোগ, নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করার জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের যথেষ্ট উদ্যোগ এবং চিন্তাভাবনা রয়েছে। কিন্তু আমেরিকা এবং আংশিক ভাবে জাপানের পক্ষ থেকে যে ভাবে অতিসক্রিয়তা দেখানো হচ্ছে, তা যথেষ্ট অস্বস্তির।

এ বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কথা বলার পক্ষপাতী নয়া দিল্লি। প্রকাশ্যে যদিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অন্য কোনও রাষ্ট্রের ভোট নিয়ে শেষ কথা বলবেন সেই দেশের মানুষ। তাতে নাক গলানোর প্রশ্ন নেই।

তবে কূটনৈতিক সূত্রের খবর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের দপ্তর থেকে ঢাকাকে জানানো হয়েছে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসনের গুরুত্বের দিকটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন ওয়াশিংটন সফরে তুলে ধরা হবে।

মে মাসে জাপানের হিরোশিমায় জি-৭ শীর্ষ বৈঠকে আমন্ত্রিত রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে গিয়েছিলেন মোদী। তখনই বাংলাদেশ প্রসঙ্গ তোলার পরিকল্পনা ছিল নয়া দিল্লির। তবে সময়ের স্বল্পতার কারণে তখন তা সম্ভব হয়নি।

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লি আমেরিকাকে বলতে চায়, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশের গুরুত্ব যথেষ্ট। সেখানে এখন এমন কিছু করা বাঞ্ছনীয় নয়, যাতে সে দেশে মৌলবাদী, কট্টরপন্থী, সন্ত্রাসবাদীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা যায়। সম্প্রতি ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে ঘিরে হাসিনা সরকার ১৫ দফা রূপরেখা ঘোষণা করেছে। সেখানে ভারতের অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ওই অঞ্চলের সমৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি উদার, শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ এবং অন্তর্ভূক্তিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাই বলা হয়েছে।

সূত্রের মতে, নয়াদিল্লি এ কথাও ওয়াশিংটনকে বলতে চায় যে, সে দেশে এমন কিছু করা উচিত হবে না, যাতে আওয়ামী লীগ সরকার চিনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

বাংলাদেশের জন্য পৃথক ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে বাইডেন প্রশাসন। বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনকে অবাধ করার লক্ষ্যে এই নয়া ভিসা নীতি। এই নীতির ফলে নির্বাচনকে যারা বানচাল করার চেষ্টা করবেন, তারা যু্ক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার পাবেন না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেকেই মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নাক গলাতেই নিজের দেশের আইন প্রয়োগ করে সে দেশের জন্য পৃথক ভিসা নীতি গ্রহণ করল। এই পদক্ষেপের আসল বক্তব্য হল, শেখ হাসিনার সময়ে হওয়া নির্বাচনগুলি অবাধ ছিল না।

আওয়ামী লীগের বক্তব্য, এর ফলে ভোটের আগে বাংলাদেশে বিরোধীরা আমেরিকার এই ঘোষণাকে অস্ত্র করার বাড়তি সুযোগ পেয়ে গেল। বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলি বহু দিন ধরেই দাবি করছে, হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট হোক। সূত্রের খবর, এই দাবির প্রতি আমেরিকার পূর্ণ সমর্থন আছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ