যুগ যুগ জিও হে মহান নেতা - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:৩৯, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

যুগ যুগ জিও হে মহান নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, জুন ১, ২০২৫ ৬:৩৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, জুন ১, ২০২৫ ৬:৩৯ অপরাহ্ণ

 

নজরুল ইসলাম চৌধুরী
গেল ২০২৫ সালের ৩০শে মে ছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী। ১৯৮১ সালের ৩০ শে মে রোজ শুক্রবার দিবাগত রাতে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রে সস্থপতি, অধুনিক স্বনির্ভর বাংলাদেশের রুপকারক, স্বাধীনতা পরবর্তী সর্বপ্রথম প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের জনক , বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান , দেশের কোঠি কোঠি মানুষ হৃদয়ের রাখালরাজা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪ তম শাহাদাত বার্ষিকী। আমি শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিদেহী আত্মার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। মহান রাব্বুল আল্ আমিনের দরবারে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে আমি শহীদ জিয়াকে নিয়ে সংক্ষিপ্ত স্বৃতি চারন শুরু করছি। পুর্ব নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুসারে ১৯৮১ সালের ৩১শে মে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মেলনের নির্ধারিত দিন ছিল। তারি আলোকে ৩০শে ফেনী জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সমগ্র ফেনী জেলা ছাত্রদলের সকল ডেলিগেটর ও কাউন্সিলার বৃন্দদের সংগঠিত করে ৩০শে মে দিবাগত রাতে চট্রগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা রাত বারটার ঢাকা মেইলে সম্মলনে যোগদান করার উদ্দেশ্যে ফেনী থেকে ঢাকার পথে রওনা হই। লক্ষ্য ছিল ৩১শে মে অনুষ্ঠিত রাজধানী ঢাকার গনভবনে উনূষ্টিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রথম কাউন্সিলে যোগদান। ফেনী জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সাধারন সম্পাদক ও আমার নিজ থানা ছাগলনাইয়া থানা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা কালিন সময়ের সাধারন সম্পাদক হিসাবে তদকালীন ফেনী জেলা ছাত্রদলের সংগ্রামী সভাপতি জনাব মোশাররফ হোসেন চুট্টু ও সাধারন সম্পাদক জনাব সরোয়ার জাহান বকুল ভাই সহ সকল নেতা কর্মি বৃন্দের দেয়া এই সাংগঠনি গুরু দায়িত্বভার অর্পিত হয়েছিল আমার ওপর। রাত বারটায় চট্রগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা তদকালিন ঢাকা মেইলে সবাইকে নিয়ে ঢাকা অভিমুখে রওয়ানা হই। আমার সাথে ছিলেন ছাগলনাইয়া থানা ছাত্রদের তদকালিন সভাপতি জনাব রেজাউল করিম সহ আরো অনেকে। ভোর পাঁচ ঘটিকায় ঢাকা কমলাপুর রেল স্টেশনে পৌঁছি। স্টেশনের কেন্টিনে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে সবাইকে নিয়ে সকালের নাস্তা করে সোজা তদকালিন গনভবন চত্তরে ( তদকালিন উপরাস্ট্রতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের বাসভবন ) পৌঁছি । তখন সকাল সাতটা কি সাতটা ত্রিশ মিনিট হবে। সেখানে পৌঁছে দেখতে পেলাম স্বল্প সংক্ষক ছাত্রনেতা ও কর্মি বৃন্দ গনভবন চত্তরে ” মিলন – কাশেম ” পরিষদ সবার সেরা পরিষদ বলে স্লোগান দিচ্ছে। আমি সবাইকে সেই চত্তরে অপেক্ষা করার অনুরোধ করে ডেলিগেটর ও কাউন্সিলর কার্ড সংগ্রহ করতে গনভবনর ভিতরে যাই। তদকালিন তুখোড় ছাত্রনেতা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি সগীর , জামাল শরীফ হিরু , মোশারফ হোসেন ঠাকুর, সাহ্ আম্মদ বাদল ভাই সহ আরো অনেকের সাথে দেখা করে ফেনী জেলার সকল ডেলিগটর ও কাউন্সিলর কার্ড নিয়ে গনভবনের গেটে আসি। তখন সকাল আটটা কি আটটা ত্রিশ মিনিট হবে। গেটে থেকে বের হয়ে একটু নিস্তবদ্ধতা আমার নজরে পড়ল। পুর্বের নির্ধারিত প্রোগ্রাম অনুযায়ী চট্রগ্রাম থেকে রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঢাকায় এসে ছাত্রদলের সম্মেলন সকল দশটায় উদ্বোধন করার কথা ছিল। গনভবনের গেইট চত্তরে শত শত ছাত্র নেতা কর্মি বৃন্দ মিলন – কাসেম পরিষদের স্লোগানে শামিল হয়ে স্লোগান কে মুখরিত করে তুলেছিল। মুহুর্তের মাঝে সভাপতি প্রার্থী গোলাম সারাওয়ার মিলন ভাই ও কাশেম ভাই গনভবনের ভিতর থেকে এসে স্লোগানের প্রথম সারিতে থাকা কয়েক জনকে কানে কানে কি যেন বললেন এবং দ্রুত স্থান ত্যাগ করলেন। ফলে মুখরিত স্লোগান নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল। মুহুর্তের মাঝে শত শত সমবেত ছাত্র নেতা কর্মি গা ডাকা দিয়ে রমনা পার্কে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গিয়েছিল। আমি হতভম্ব হয়ে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করছিলাম। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ছাত্র নেতা কর্মি গা ডাকা দিয়েছিল কিন্তু টাংগাইল ও ময়মনসিং জেলার বেশ কজন ছাত্র নেতা স্থান ত্যাগ করেনি। ওদের মধে আমার খুবে ঘনিষ্ঠ ময়মনসিংহের ছাত্রদলের প্রতাষ্ঠা কালের তুখোড় ছাত্রনেতা শ্রী বাবু স্বপন চৌধুরী আমাকে ইশারায় ডাকে ক্রন্দনরত অবস্থায় বললেল নজরুল ভাই ” জিয়া আর নেই ” । মুহুর্তের মাঝে ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন বলে আমি মাটিতে লুটে পড়ে কান্নায় গড়াগড়ি করছিলাম। এরি মধ্যে সবাই ছত্রভংগ হয়ে পড়েছে। যদিও আমরা মাত্র ত্রিশ পঞ্চাশ জন ছাত্র নেতা কর্মি কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে জ্ঞান হারা হয়ে গিয়েছিলাম ততাপিও স্থান ত্যাগ করেনি । দেখলাম গনভবনের ভিতর থেকে বি এন পির বড় বড় মাপের নেতারা কে কার আগে চিটকে পড়বে সেই প্রতিযোগিতা চলছিল। মুহুর্তের মাঝেই গনভবনের ভিতরে নেতদের পার্কিং করা গাড়ী হিজ হিজ হুজ হুজের মতই চিটকে পড়ে উধাও – – -। এমন সময় তদকালিন বি এন পির কেন্দ্রিয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব শহীদ জিয়ার খুবেই কাচের ও আস্থা ভাজন ঢাকসুর সবেক খ্যাতনামা ভিপি জনাব ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী নিজের দুহাত দিয়ে বুকে আঘাত করতে করতে বলছিল ” জিয়া নেই , জিয়া নেই ” । যদিও আমাদের নজরে না পড়া এক বিশাল বড় মাপের ছাত্র নেতার পালিয়ে যাওয়া দৃশ্ব কোরেশী ভাইয়ের নজরে বন্ধী হওয়াতে তিনি বলছিলেন – এই (অমুক) কাপুরুষের মত পালাচ্ছ কোথায় ? তার উত্তরে সেই ছাত্র নেতা কোরেশী ভাইকে ব্যাংগ করে যা বলেছিলেন তা আজো আমার কানে ভাসে । এবং আমরন সেই দৃশ্য আমার চোখে ভাসবে এবং ব্যঙ্গ করা কটি উত্তর কানে ভাসবে। বর্তমানে তিনি দলের নীতি নির্ধারকদের মাঝে অনতম একজন। রাস্তায় চলা একটি রিস্কা থামিয়ে কোরেশী ভাই রিস্কায় ওঠে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ আর বুক ভরা কাঁন্নায় এক শোক মাখা জ্বালাময়ী বক্তব্য দিয়ে সবাইকে শোক মিছিলে শরিক হবার আহবান জানিয়ে সর্বপ্রথম শোক মিছিলের যাত্রা শুর করেছিলেন। যদিও মূলদল ও ছাত্রদলের নামী ধামী নেতারা গা ডাকা দিয়েছিল ছাত্রদলের সাধারন কর্মিরা পাশের রমনা পার্কে অবস্থান নিয়েছিল। ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী ভাই প্রথম স্লোগান দিয়েছিলেন – ” শহীদ জিয়ার রক্ত বৃথা যেতে দেবনা” ” এক জিয়ার লোকান্তরে কোঠি জিয়া ঘরে ঘরে “
“আমরা সবাই জিয়া হব , জিয়া হত্যার বদলা নেবো ” ইত্যাদি ইত্যাদি ।
কোরেশী ভাইয়ের নেতৃত্বে সর্বপরি বিশ পঞ্চাশ জনের শুরু করা শোক মিচিল স্লোগানে স্লোগানে গনভবনের গেটে থেকে প্রধান সড়ক দিয়ে যাত্রা শুরু করার সাথে সাথে রমনাপার্কে অবস্থান নেয়া শত শত ছাত্র নেতা এবং শত সহস্র জনতা স্রোতের মত শোক মিছিলে শামিল হয়ে পড়েছিল। আমরা যখন হোটেল ইন্টারক্যান্টিনেন্টাল অতিক্রম করছিলাম তখন শোক মিছিল শোকাবিভুত জনতার সমাহারে একমহা কাফেলায় পরিনত হয়ে পড়েছিল । সেদিনের শোক মিছিলে যার কথা আমরন ভুলতে পারবনা যিনি স্লোগানে স্লোগানে শোক মিছিলকে কাঁপিয়ে তুলেছিলেন, তিনি ছিলেন ছাত্র দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী ময়মনসিং জেলার বিনা সরকার। বিনা সরকার এক সময় বাংলাদেশ বেতারের সংবাদ পাঠিকা ছিলেন। এখন কোথায় কি অবস্থায় আছে তা জানা নেই। মনে হয় আমার এবং বিনা সরকারের মত শত সহস্র ছাত্রদলের নেতা কর্মি অবমূল্যায়ন আর অবহেলার রোশানলে পড়ে আঁতুড়ঘরে লোজ হয়েও শহীদ জিয়ার সু মহান আদর্শকে নির্বাকে লালন করছে।
যাক – সেদিনকার হাজার হাজার অংশ গ্রহনকারী ছাত্র জনতার শোক মিছিল চলা কালিন সময়ে প্রখর রোদের কারনে রাস্তার দুই পাশের বিভিন্ন বাসার বারেন্দা ও ছাদ থেকে মিছিলকারীদের গায়ে যে যেভাব পেরেছে সে ভাবে পানি ছিটিয়েছিল । প্রেসক্লাবে গিয়ে মিছিল শেষে কোরেশী ভাই শপথ বাক্য পাঠ করে পল্টনে বি এন পির কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছিলেন। সেই অবস্থান ছিল শহীদ জিয়ার লাশ সন্ধান পর্যন্ত। শহীদ জিয়ার মরদেহ যখন ঢাকা সেননিবাসে ডুকানো হয়েছিল তখন তদকালিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত আ স ম লেঃ কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান এসে ফেরদৌস আহমদ কোরেশী ভাইয়ের কানে কানে কি যেন বলে ধ্রুত স্থান ত্যাগ করলেন। তার পরপরেই ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী সেনানিবাস থেকে শহীদ জিয়ার মরদেহ অর্থাৎ জনতার জিয়াকে জনতার কাতারে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত রাস্ট্রপতি আবদুস সাত্তার কে লেন্ড ফোনে অনুরোধ করলেন। এবং ঝাঁজালো কন্ঠে হুশিয়ারী দিয়ে বার ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে অমরন অনশন ঘোষনার ডাক দিয়েছিলেন। তিনি হুংকার দিয়ে আরো বলেছিলেন—– “যদি সেনানিবাস থেকে শহীদ জিয়ার মরদেহ বাহিরে না আনা হয় তা হলে জিয়ার জনতাকে নিয়ে ঢাকা সেনানিবাস থেকে জিয়ার মরদেহ চিনিয়ে আন হবে ” । আমি আজো গর্বভোধ করি এই জন্য যে , আমিও সেদিনকার আমরন অনশন কারীদের মঝে উপস্থিত হতে পেরে ইতিহাসে সাক্ষী হয়ে রইলাম। যাহা আমার মহা কৃতিত্বের এবং গর্বের দিন ও ক্বণ । সেদিন যদি ফেরদৌস আহমদ কোরেশি এই ভুমিকা না রাখতেন তা হলে শহীদ জিয়া কে সেনানিবাসের বাহিরে চন্দ্রিমা উদ্যানে দাফন করা হত কিনা আমার সন্ধেহ – – –
আরো অনেক অনেক বিষয় আছে যা লিখলে দিস্তার পর দিস্তা কাগজ শেষ হবে কিন্তু লিখা শেষ হবেনা। তবে শহীদ জিয়ার রক্তে গড়া দল আমার প্রানপ্রিয় দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও মূল সংগঠন বি এন পির অতীত এবং বর্তমান নিয়ে আগামীতে আমার ফেসবুক ফেজে ধারাবাহিক ভাবে কিছু লিখনি তুলে ধরার ইচ্ছা পোষন করছি ইনশাআল্লাহ – – –
স্যরি– আমি ফিরে আসতে চাই আমার মূল স্মৃতি চারনে। শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দাফন পরবর্তি প্রায় তিন চার মাস পর চুটে গিয়েছিলাম রাংগুনিয়া প্রকৌশলী মহাবিদ্যালয় সংলগ্ন পাহাড়ের সেই তলদেশে যেখানে ঘাতকরা শহীদ জিয়াকে প্রথম দাফন করেছিল। সেখানে পৌঁছে দেখলাম শতশত শহীদ জিয়ার জনতার ভিড়। সেখানে ছিলনা শহীদ জিয়ার মররদেহ তবুও শতশত জিয়ার জনতার সাথে শামিল হয়ে শ্রদ্ধ্যাভরে আমিও ফাতেহা পাঠ করে জেয়ারত করেছিলাম। জেয়ারত শেষে শহীদ জিয়ার মরদেহ সন্ধানের বিষয়টি নিয়ে পাহাড়ী উপজাতি ও স্থানিয় বাংগালী ভাইদের থেকে খোঁজ খবর নিয়ে রাংগুনিয়া প্রকৌশলী মহাবিদ্যালয়ের আবাসিক হোস্টেল শেষ বর্ষের ছাত্র জনাব জনাল আবদিনের সাথে সাক্ষাত করার জন্য যাই। বড়ই পরিতাপর বিষয় ছিল জয়নাল আবদিন ও তাঁর দুই বন্ধু শেষ বর্ষের পরীক্ষা সমাপ্তি করে স্ব স্ব এলাকায় চলে গিয়েছন। উল্লেখ্য যে জানাব জয়নল আবদিন ও তার দুই ক্লাসমেট স্থানিয় টহল পুলিশের সহায়তায় চট্রগ্রাম ষোল শহরে অবস্থিত সেনা দপ্তরে শহীদ জিয়ার মরহদেহের খবর প্রথম চট্রগ্রাম পৌচিয়ে ছিলেন।
জয়নাল আবদিনের দেশের বাড়ী ফেনী থানার শর্শদী গ্রামে। ঠিকানা নিয়ে শর্শদীর গ্রামের বাড়ীতে গিয়ে জানলাম জয়নাল আবদিন সাহেব ঢাকায় থাকেন।
জয়নাল সাহেবের দেখা না পেয়ে দুঃখ ভরাক্রান্ত মন নিয়ে ফেরত আসলেও আমি হতাশ হইনি। প্রায় দুই তিনবছর পর জয়নাল সাহেবের সাথে সাক্ষাত করাতে সফল হয়েছিলাম। একদিন ঢাকায় জয়নাল সাহেবের সাথে দীর্গ সময় ধরে আলাপ করে শহীদ জিয়ার মরদেহ উদ্ধারের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হই। জয়নাল আবদিন সাহেব থেকে সংগ্রহিত তথ্য নিয়ে ২০১৬ সালের ৩০ মে শহীদ জিয়ার ৩৫তম শাহাদাত বার্ষিকীতে ফেনীর জনবহুল স্থানিয় পত্রিকা ” দৈনিক ফেনীর সময় ” তে আমার লেখা আর্টিক্যাল প্রকাশিত হয়েছিল। বড়ই পরিতাপর বিষয় যে দৈনিক দিনকাল পত্রিকায় এমন গুরুত্বপুর্ন তথ্যবহুল নিয়ে আমার পাঠানো আর্টিক্যালটি প্রকাশ করেনি। যদিও দৈনিক জনপদ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল ।
১৯৮১ সালের ৩০শে মে রোজ শুক্রবার দিবাগত ভোর রাতে দেশী বিদেশী পরাশক্তির নিখুঁত নিলনকশায় দেশের কিছু বিপদগামী সেন কর্মকর্তার হাতে মহান স্বাধীতার ঘোষক বাংলাদের সর্ব প্রথম নির্বাচিত রাস্ট্রপতি , বি এন পির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান কোটি মানুষের হৃদয়ে স্পন্দন এদেশের রাখাল রাজা নির্মম ভাবে শাহাদাত বরন করেন। পরদিন শনিবার সকাল দশটা কি এগারটার দিকে সেই সেনা গং শহীদ জিয়ার লাশ চট্রগ্রাম সার্কিট হাউজ থেকে সরিয়ে নিয়ে রাংগুনিয়ার প্রকৌশলী মহাবিদ্যালয় সংলগ্ন পাহাড়ের এক তলদেশে দাফন করেছিল। দাফন কাজের নেতৃত্বে ছিল চট্রগ্রাম সেনা নিবাসের তদকালিন ” মেজর খালেদ “। মেজর খালেদের নেতৃত্বে শহীদ জিয়ার লাশ দাফন কাজ সম্পাদন করাকালিন সময়ে এক পাহাড়ী বাংগালী যুবক ( সুমন ) দূর থেকে দাফন সমাপ্তি পর্যন্ত সবকিছু অবলোকন করেছিল। পাহাড়ী বাংগালী যুবক সুমন প্রকৌশলী মহাবিদ্যালয়ের প্রকৌশলী ছাত্রদের সময় সময় টুকিটাকি কাজকর্ম করার সুবাদে সবার খুবেই স্নহের ছিল। শহীদ জিয়া ও তার দুই গার্ডকে একই কবরে একটি ত্রিপলে মোড়িয়ে দাফন করা হয়েছিল। দাফন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সেই ” মেজর খালেদ ” তার গাড়ী থেকে নামেননি। মেজর খালেদের সাথে থাকা একদল শিপাহী ক্রন্দনরত অবস্থায় শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সামরিক মর্যাদায় স্যালুট করে দাফন কাজ সমাপ্ত করেছিলেন।
শনিবার ও রবিবার সারা দেশ ছিল থমথমে। রবিবার প্রকৌশলী মহাবিদ্যালয়ে গিয়ে পাহাড়ী বাংগালী যুবক সুমন জয়নাল আবদিন সাহেবকে তার দেখা ঘটনাটি বিস্তারিত অবহিত করে। ঐ পাহাড়র তলদেশে যে শহীদ জিয়াকে দাফন করা হয়েছে তা সুমন অনুমান করতে পারেনি। সোমবার সকালে জয়নাল আবদিন তার অপর দুই ক্লাসমেট বন্ধুকে নিয়ে নিরবে হাঠত হাঠতে সড়জমিনে দেখার জন্য সুমনকে সাথে নিয়ে সেই কবরের পাশে এসে পৌছায়। সদ্য নূতন কবর দেখে জয়নাল আবদিন তাদের হোস্টেল থেকে কোদাল ও সাবল আনার জন্য সুমনকে পাঠায়। কোদাল ও সাবল নিয়ে আসার পর জয়নাল আবদিন গং কবর খোলার জন্য প্রস্তুতি নেয়ার সময় সুমন বলে ওঠল – স্যার কবরে যদি ওরা কোন মাইন্ড গেরে যায় তা হলে আমরাতো কেউ বাঁচবনা। সুমনের কথাটি যথাযথ ভেবে কবর না খুলে জয়নাল আবদিন ও তার দুই বন্ধু স্থানিয় পুলিশের নিকট গিয়ে বিষয়টি জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়। নিকস্থ বাজারে রোডে একটি পুলিশ টহল বাহিনীকে দেখে বিস্তরিত অবহিত করে নিকস্থ সেনা নিবাসে অয়ারর্লেস মেসেজ দেয়ার জন্য বিশেষ অনুরোধ করে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে টহল পুলিশের একজন অফিসার তাৎক্ষনিক নিকস্থ সেনা নিবাসে মেসেজটি প্রেরন করেন। অয়ারলেস মেসেজ প্রেরনের ত্রিশ থকে চল্লিশ মিনিটের মধ্যেই সেনানিবাস থেকে তদকালিন ব্রিগিডিয়ার জেনারেল আসম হান্নান শাহ এর নেতৃত্বে একদল সেনা সদস্য এসে পৌঁচে। ইতমধ্যে এলাকার চারিদিক থেকে শোকার্ত জনতা এবং রাংগুনিয়া প্রকৌশলী মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক শহীদ জিয়ার প্রথম কবরের চারপাশে জড়ো হয়ে যায়। ব্রিগিডিয়ার জেনারেল আসম হান্নান শাহ এর নেতৃত্বে সামরীক যন্ত্রপাতি দিয়ে কবরে কোন প্রকার বিস্ফোরক দ্রব্য আছে কিনা তা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হলেন যে , না ঐ ধরনের কোন কিছু নেই। তারপর ব্রিগিডিয়ার জেনারেল আসম হান্নান শাহ এর সাথে ওয়াদা মোতাবেক রাংগুনিয়া প্রকৌশলী মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র জয়নাল আবদিন ও তার দুই ক্লাসমেট কবর খোলার কাজ শুরু করেন। প্রকৌশলী মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাথে আরো ওয়াদা ছিল শহীদ জিয়ার লাশ গোসল দিয়ে প্রকৌশলী মহাবিদ্যালয় আংগিনায় নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত করা। জয়নাল আবদিনদের সাথে ব্রিগিডিয়ার জেনারেল আসম হান্নান শাহ সহ কয়েজন সেনা সদস্য শহীদ জিয়ার কবর খোলার কাজে অংশ নিয়েছিলেন। প্রায় দুই তৃতিয়াংশ কবর খোলার পর কবর থেকে অসহনীয় দুর্গন্ধ ভেসে আসছিল। জয়নাল আবদিন ও তার দুই ক্লাসমেট তাদের গায়ের জামা খুলে গেন্জী দিয়ে নাক মুখ বেধেই কবর খোলার কাজ সমাপ্তি করেছিল। কবর খোলার পর দেখাগেল একটি ত্রিপলে মোরানো তিনটি লাশ। ব্রিগিডিয়ার জেনারেল আসম হান্নান শাহ শহীদ জিয়ার লাশ সনাক্ত করে সামরীক কায়দায় স্যালুট করেন। তখন উপস্থিত শত শত ছাত্র জনতা ” আল্লাহু আকবার – আল্লাহু আকবার ” জিকির করা শুরু করেদিয়েছিল। মনে হচ্ছিল শত শহশ্র ছাত্র জনতার জিকিরের ধ্বনিতে চতুর্দিকের পাহাড় – পর্বত ও আকাশ বাতাস থর থর করে কাঁপছিল। যাহা জয়নাল আবদিন সাহেবরে বর্নানায় জানেছিলাম। এরি মধ্যে আরো আরো অনেক সেনা সদস্য এসে পৌঁছে শহীদ জিয়া ও তাঁর দুই সংগির মরদেহ কমান্ডো কায়দায় তাদের ভ্যান গাড়িতে তুলে ধ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। ব্রিগিডিয়ার জেনারেল আসম হান্নান শাহ র দেয়া প্রতিশ্রুতি মোতাবেক প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ে নামাজে জানাজা আর অনুষ্ঠিত হলনা।
কবর খোলার প্রধান নেতৃত্ব দানকারী জনাব জয়নাল আবদিনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী শহীদ জিয়ার শরীরের ডান পাশ্ব গুলিতে ঝাজড়া হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বাম পাশ ছিল একেবারে নিখুঁত। সিনা থেকে নাভী পর্যন্ত পচন ধরেছিল। শহীদ জিয়ার গালায় তাঁর একটি রুপার চেইনের লকেটে পবিত্র কোরআন শরীফের কবজটি নিখুঁতভাবে ছিল।
শহীদ জিয়ার কবরের সন্ধান দেয়া রাংগুনিয়া প্রকৌশলী মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র বর্গের সাথে দেয়া প্রতিশ্রুতি মোতাবেক মরদেহ গোসল এবং মহাবিদ্যালয় চত্তরে নামাজে জানাযা না দিয়ে সেনা কর্মকর্তা ব্রিগিডিয়ার জেনারেল আসম হান্নান শাহ শতভাগ কমন্ডো স্টাইলে মুহুর্তে চট্রগ্রাম সেনানিবাসের উদ্দেশ্যে ররওনা দেয়ার পর পরেই সেখানে উপস্থিত শতশত ছাত্র জনতা জড়ো হয়ে গায়েবানা জানাযা অনুষ্ঠিত করেছিল।
আপালচিরিতার শেষে জয়নাল আবদিন সাহেবকে প্রশ্ন করেছিলাম — আপনাদের সেই সময়ের দুঃসাহসিকতা আর নিখুত দেশপ্রেম ও মহান নেতার প্রেমের সেই অবদান কি দেশ – জাতি ও দল জানেন?
আপনারা কি এমন মহত কর্মের জন্য সরকার কিম্বা দলের তরফ থেকে বাহবাহ্ কিম্বা কোন উপঢৌকন পেয়েছেন ? দল কি আপনাদের মূল্লায়ন করছিলেন??
আমার সেই প্রশ্নটি শুনে জয়নাল আবদিন খুব মলিন চেহারায় দীর্ঘ শ্বাস ফেলে গম্ভীর ও করুন কন্ঠে শুধু বলেছিলেন ” নজরুল ভাই থাক ওসব কথা ” যাহা করেছি তা ছিল গুরু দায়িত্ব। আমাদের বড় পরিচয় আমরা শহীদ জিয়া ও তাঁর দেয়া মহান আদর্শের সৈনিক। সকল চাওয়ার উর্ধে আমি এবং আমরা আমরন শহীদ জিয়ার সৈনিক।
জয়নাল আবদিন খুবে দুঃখ ও গভীর বেদনার কন্ঠে আরো বলেছিলেন সেই এরশাদ সরকারের রোশানলের শিকার হয়ে আমি এবং আমার অপর দুই বন্ধু সরকারী চাকুরী থেকে পদচ্যুতি পেয়েছি। এটাই উপঢৌকন বলেন বা পুরস্কার যাই বলেন , সবর হলো মহান সম্পদ। তাই সবর ধরে আজো বেছে আছি।
জয়নাল আবদিনের সাথে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আমার নিয়মিত যোগায়োগ ছিল। বেসরকারী একটা ফার্মে চাকুরী রত । ২০১৭ সালে আমার গ্রামের বাড়ীতে বেরাতে এসে একদিন একরাত কাটিয়ে ছিলেন। বড়ই পরিতাপের বিষয় যে, দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন ।
জয়নাল আবদিন ও তার বন্ধুদের কথা মনে পড়লে হৃদয়ের গভীর থেকে স্যালুট ও শ্রদ্ধা নিবেদন করি আর ভাবি শুধু জয়নল আবদিন গং নয় , তাদের মত হাজার হাজার নিখুঁত শহীদ জিয়া ও তাঁর সুমহান বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী আদর্শের দেশের আনাচে কানাচে থাকা জিয়ার সৈনিক সাইবেরিয়ান বার্ডস নামক সুযোগ সন্ধানী আর অসংগঠক ও অরাজনৈতিক বাটপারদের কবলে পড়ে অবহেলিত ও অবমূল্যায়িত হয়ে দিনাতিপাত করছে। কেউ হয়তবা দুনিয়া ছেড়ে শেষ বিদায় নিয়েছে । আর যারা আজো বেঁচে আছে সকল চাওয়া পাওয়ার উর্ধে স্ব স্ব অবস্থান থেকে শহীদ জিয়ার সু মহান আদর্শকে নিরবে লালন করে দিনাতিপাত করছে। ওরা আমরন জিয়ার সৈনিক। সকল চাওয়া – পাওয়ার উর্ধে তারা গর্বিত বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের পরিচয় বহনকারী গর্বিত নাগরিক। আমিও তাদের মাঝে একজন।
পরিশেষে বলবো , বর্তমান দেশ জাতীর ক্লান্তিকালে অঘোর অমানিশা আর ভারতিয় আগ্রাসন তথা সকল পরাশক্তির কবল থেতে উদ্ধার করতে হলে চাই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সু মহান আদর্শ কে দেশ জাতি ও মহান স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব কে অটুট রেখে বিশ্ব মানচিত্রে তাঁর মতই বাংলাদেশ কে পুঃন প্রতিষ্ঠিত করা। যার কোনই বিকল্প নেই। শুতরাং চাই দেশের রাজনৈতিক অংগনে সুবিধাবাদী ধনাঢ্য ব্যক্তি নয়, প্রয়োজন যোগ – বিজ্ঞ ও সৎ আর দেশ প্রেমিক রাজনিতিক আর সংগঠকের সমাহার।
আল্লাহ হাফেজ
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।
শহীদ জিয়া অমর হইক।
যুগ যুগ জিও হে মহান নেতা।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দাবাদ। লিখক ও কলামিস্ট
নজরুল ইসলাম চৌধুরী ( নজরুল)
সাবেক সভাপতি – বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ফেনী জেলা –১৯৮১ — ৮৪ ।
সাবেক প্রচার সম্পাদক – ফেনী জেলা বি এন পি — ১৯৮৫ — ৯০৯১.

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ