যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২৫ জানুয়ারি বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা গণতন্ত্র মঞ্চের - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:৪৪, শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২৫ জানুয়ারি বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা গণতন্ত্র মঞ্চের

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, জানুয়ারি ১৬, ২০২৩ ৪:৫৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, জানুয়ারি ১৬, ২০২৩ ৪:৫৮ অপরাহ্ণ

 

সরকারকে হটানোর যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী ২৫ জানুয়ারি ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে গণতন্ত্র মঞ্চ। আজ সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, আপনারা জানেন বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি কলঙ্কময় দিন। তিন মিনিটে সেদিন বাংলাদেশের গণতন্ত্র, বাংলাদেশের সংবাদপত্র, বাংলাদেশের ভোটাধিকার সব কিছু হরণ করে দিয়ে বাকশাল কায়েম করা হয়েছিল। সেই ২৫ তারিখ ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা, এই অবৈধ সরকারের পদত্যাগ এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা তৈরি, দ্রব্যমূল্য ও মানুষকে বাঁচাবার লক্ষ্যে আমরা গণতন্ত্র মঞ্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সকাল ১১টায় এবং জেলায় জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করব।

এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যুগপৎ আন্দোলনের ধারা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক।

গণতন্ত্র মঞ্চের ‍উদ্যোগে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। ব্যানারে ‘১৪ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে যুগপৎ আন্দোলন জোরদার করুন এবং সরকার ও রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হোন’ লেখা ছিল।

গণতন্ত্র মঞ্চের ৭ দলের কয়েক‘শ নেতাকর্মী এই সমাবেশ ও গণমিছিলে অংশ নেন।

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, এ বছর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ১০/১৫ বছরের রাজনীতি এ বছর ঠিক হবে। আমরা বলেছি গোটা দেশের দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক সব মানুষ যুগপৎভাবে রাজপথে দাঁড়িয়ে আজকে আমি আমার দেশকে রক্ষা করব, গণতান্ত্রিক অধিকারকে রক্ষা করব, ভোটাধিকারকে প্রতিষ্ঠা করব। সেই লড়াই গণতন্ত্র মঞ্চ শেষ পর্যন্ত এগিয়ে নেবে। লড়াইয়ে আপনারা সবাই অংশ নেবেন এ প্রত্যাশা আমরা করি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেশটা কোথায় যাবে জানি না? আইএমএফের লোন আপনারা (সরকার) গ্রহণ করছেন, এই লোন ৪৫০ কোটি। সেখানে মিলিয়ন ডলার শুধু গত ১৪ বছরে যে দুর্নীতি হয়েছে, যে টাকা পাচার হয়েছেতার কিছু অংশ যদি উদ্ধার করা যায়, আইএমএফের লোন নেবার দরকার হয় না, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর দরকার হয় না, গ্যাসের দাম বাড়ানোর দরকার হয়, জ্বালানি তেলের কোনো মূল্য বৃদ্ধি করবার প্রয়োজন হয় না।

কিন্তু চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি। সরকার সেই পথে হাঁটছে না। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, এ সরকার বিদায় নেবে কিন্তু আইএমএফের লোন মানুষের গলায় ফাঁস হিসেবে থেকে যাবে। দেশের জনগণকে এ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, এই সরকারের অধীনে কোনো ভোট হবে না। ১৪ বছরে এই সরকার এত অপরাধ করেছে, এত লুট করেছে ভোটের মুখোমুখি হবার সাহস তাদের নাই। জামানত হারানোর যুগে প্রবেশ করেছেন। মঞ্চ-টঞ্চ আজকাল ভেঙে পড়ছে। কাজেই ক্ষমতার মসনদটাও খুব দ্রুতই ভেঙে পড়বে। কোনো আওয়াজ, আপনাদের দমনপীড়ন আর মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টাএগুলো আপনাদের ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে পারবে না।

তিনি বলেন, ওনারা (সরকার) বলেন, অতি বাম অতি ডান সব নাকি এক সঙ্গে হয়েছে। আমরা বলি, প্রধানমন্ত্রী আপনি ভোট চুরি করে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষকে এক কাতারে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। ১৮ কোটি মানুষের মর্যাদা কেড়ে নিয়েছেন। তারা এখন এক কাতারে আছে। ১৮ কোটি মানুষ আজকে এক সঙ্গে লড়াই করছে। আমরা চেষ্টা করছি মানুষের মধ্যে কীভাবে বৃহত্তর ঐক্য তৈরি করা যায় এবং সেই ঐক্যে সরকার বিভ্রান্তির চেষ্টা করবে। তারা জামায়াত কার্ড খেলবে, তারা আন্দোলনে সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তারা ভয়-ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা করবে। কিন্তু এসব মোকাবিলা করে সমস্ত মানুষকে রাজপথে আসতে হবে।

সাকি বলেন, জনগণের মধ্যে নতুন স্বপ্ন সৃষ্টি করতে হবে। সেই স্বপ্ন হচ্ছে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা, সেই স্বপ্ন হচ্ছে একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। আর তার জন্য দেশের সংবিধান সংস্কার করতে হবে, এ সমস্ত দাবি আমরা তুলেছি। ইতোমধ্যে বিএনপি রাজপথে, অপরাপর রাজনৈতিক দলগুলো রাজপথে। আমরা যুগপৎ আন্দোলনের ধারায় আছি। আমরা অবিলম্বে একটা ন্যূনতম দফা-দাবিনামা তৈরি করে এই আন্দোলনকে আরও বৃহত্তর রূপ দেব এবং গণআন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকারের পতন ঘটিয়ে বাংলাদেশে সত্যিকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করব।

ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, সারা দেশ আজ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। সীমাহীন লুটপাট চলছে। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ দিশাহারা। এভাবে রাষ্ট্র চলতে পারে না। সংকট উত্তরণে এই সরকারকে বিদায় করতে হবে। এজন্য তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

জাতীয় সমাতান্ত্রিক দল-জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপনের সভাপতিত্বে সমাবেশে ভাসানী অনুসারী পরিষদের মীর মোফাজ্জল হোসেন, হাবিবুর রহমান হাবিব, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী হাসনাত কাইয়ুম, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, মোমিনুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের আবুল হাসান রুবেল, জেএসডির এ কে এম জামির প্রমুখ নেতারা বক্তব্য রাখেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ