যুগপৎ আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি কী হবে, তা এখনো ঠিক করতে পারেনি বিএনপি - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ২:৩৬, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

যুগপৎ আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি কী হবে, তা এখনো ঠিক করতে পারেনি বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, মে ৯, ২০২৩ ২:২২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, মে ৯, ২০২৩ ২:২২ অপরাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ
দফায় দফায় শরিক দল ও জোটগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে সরকার পতন আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে মতামত নিয়েছে বিএনপি। কিন্তু যুগপৎ আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি কী হবে, তা এখনো ঠিক করতে পারেনি দলটি। বিএনপির হাইকমান্ডের মূল লক্ষ্য, গত বছরের জুলাই থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের যে ঢেউ তৈরি হয়েছিল তা আবারও ফিরিয়ে আনা। অবশ্য সময় বিবেচনাসহ নানাবিধ কারণে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলনের গতি বাড়ানো বিএনপির জন্য বেশ চ্যালেঞ্জের। যাতে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দলটির শীর্ষ নেতারা মনে করছেন—গত বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরে সারা দেশে বিভাগীয় সমাবেশগুলো কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে ত্যাগী মনোভাব ও চেতনা দেখা গেছে। ওই সময় পুলিশ ও সরকারি দলের

হামলা-মামলা, নানা প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে হেঁটে, বাইসাইকেল চালিয়ে নেতাকর্মীরা দু-তিন দিন আগেই চিড়া, মুড়ি ও পানি নিয়ে সমাবেশে হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু ওই আন্দোলনের গতি মাঝপথে স্থির হয়ে গেছে। আবারও সে রকম আন্দোলনমুখী পরিবেশ তৈরি করার কোনো বিকল্প নেই। কেননা, সরকার চাইছে বিএনপিকে অপ্রস্তুত রেখে আবারও একতরফাভাবে নির্বাচন করতে। কিন্তু সেই সুযোগ সরকারকে আর দেওয়া হবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মধ্য জুন থেকে জুলাই মাস বর্ষাকাল। ২৮ জুন কোরবানির ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ফলে বর্ষা ও ঈদের ছুটিতে চলে যাবে দুমাস। এরপর আগস্টজুড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শোকের কর্মসূচি থাকবে। অর্থাৎ আগস্টে বড় কোনো কর্মসূচি দিতে চায় না বিএনপি। এ ক্ষেত্রে সময় আছে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাস। কিন্তু এই স্বল্প সময়ে কী ধরনের আন্দোলন কর্মসূচি থাকবে, তা অনিশ্চিত।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা আবারও জনগণের কাছে যাব এবং তাদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে চূড়ান্ত আন্দোলন করব। আমাদের আন্দোলন তো চলমান। আন্দোলনের গতিবিধি নির্ধারণ হয় পরিবেশ পরিস্থিতির ওপর। অতীতের সংগ্রামী ঐতিহ্যের ধারায় বাংলাদেশের মানুষ যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে দ্বিধা করবে না। আমাদের সামনে এখন আন্দোলনের বিকল্প নেই। সময়ই নির্ধারণ করবে আন্দোলনে গতি কী হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার পতনের লক্ষ্যে যুগপৎ আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করতে চায় বিএনপি। তবে এবারের কর্মসূচি কী হবে সেটা এখনো নির্ধারণ করতে পারেনি দলটি। আজ মঙ্গলবার রাতে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠেয় সভায় যুগপৎ আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে আলোচনা ও যুগপতের শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এবারের যুগপৎ আন্দোলন কর্মসূচি হতে পারে বিক্ষোভ, বিভাগ বা জেলা পর্যায়ে সমাবেশ, মানববন্ধন, রোডমার্চ। সর্বশেষ ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচির চিন্তা আছে। চূড়ান্ত কর্মসূচি হবে ঢাকায়। তবে এসব কর্মসূচি নিয়ে স্পষ্ট করে কোনো বক্তব্য দিতে চাইছেন না দলটির নেতারা।

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে—এবার নতুন ধরনের কর্মসূচি দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। কেননা সম্প্রতি ঘুরেফিরে বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন, পদযাত্রা, অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখতে এবং মাঠ গরম করতে ঢাকার বাইরে রোডমার্চের মতো কর্মসূচির কথা ভাবা হচ্ছে।

তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, বিএনপির সব আন্দোলন কর্মসূচিতেই তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে। ক্ষমতাসীনদের বাধা ও রক্তচক্ষু এবং প্রশাসনের বাধা উপেক্ষা করে তারা বিভাগীয় সমাবেশগুলো সফল করেছেন। আবারও কেন তৃণমূলে কর্মসূচি দিতে হবে? এখন সময় কম। চূড়ান্ত আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে হবে রাজধানী ঢাকাতেই। ঢাকার নেতারা কেন বারবার তৃণমূলের দিকে নজর দিচ্ছেন। তারা সেই ‘পিলো পাসিং’ তথা বালিশ খেলার মতো কৌশল অবলম্বন করছেন। চূড়ান্ত আন্দোলনের কথা উঠলেই শুধু মফস্বলে আন্দোলনের কথা বলা হয়। তৃণমূল তো সক্রিয় আছেই। এখন সময় বিবেচনায় যা কিছু করার ঢাকাতেই করতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলাপকালে জানান, কখনই ত্যাগ ছাড়া আন্দোলনের সফলতা আসেনি। সারা দেশে অতীতে ২০১৪-২০১৫ সালে যে আন্দোলন হয়েছে তা নজিরবিহীন। কিন্তু ঢাকায় তেমন কিছুই হয়নি। আন্দোলনের ঘাটতি কেন্দ্রে তথা ঢাকায়। যতক্ষণ না রাজধানীতে এবং আন্দোলনের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু না হয় ততক্ষণ কিছুই হবে না।

অধিকাংশ জেলার শীর্ষ নেতা ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে—২০২২ সালের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বর এবং চলতি বছরের এপ্রিলে রোজার মাসেও তৃণমূল যেভাবে কর্মসূচি সফল করেছে তা অভাবনীয়। আবারও তৃণমূলে কর্মসূচি দেওয়া মানে সরকারকে কৌশল নির্ধারণে সহায়তা করা। সুতরাং মফস্বলে কর্মসূচি না দিয়ে যা করার সব ঢাকাতেই করতে হবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ