রমনা বটমূলে নির্ভয়ে নতুন সূর্যকে আবাহন
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১:০৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১:০৪ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির- এই অমিয় মন্ত্রকে ধারণ করে জীর্ণতা মুছে নতুনের আহ্বানে রমনার বটমূলে উদযাপিত হয়েছে ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ ১৪৩৩। ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় সুরের মূর্ছনা আর কবিতার ছন্দে নতুন বছরকে বরণ করে নেন শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরের আলো ফোটার আগেই অজয় ভট্টাচার্যের কথায় ও ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়ের সুরারোপিত ‘জাগো আলোক-লগনে’ সম্মেলক গানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
ছায়ানটের শিল্পীরা সমস্বরে গেয়ে ওঠেন প্রকৃতির স্নিগ্ধতা ও জাগরণের গান।
পুরো অনুষ্ঠানটি সাজানো ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ও লালন সাঁইয়ের গান এবং কবিতার মেলবন্ধনে।
একক গানে মাকছুরা আখতার অন্তরা গেয়ে শোনান ‘এ কী সুগন্ধহিল্লোল বহিল’।
আজিজুর রহমান তুহিন পরিবেশন করেন ‘তোমার হাতের রাখীখানি বাঁধো’ এবং সেমন্তী মঞ্জরীর কণ্ঠে ধ্বনিত হয় ‘বাজাও আমারে বাজাও’।
নজরুল সঙ্গীতের পর্বে বিটু কুমার শীল গেয়ে শোনান ‘অরুণকান্তি কে গো যোগী ভিখারি’।
এছাড়া খায়রুল আনাম শাকিল ‘স্নিগ্ধ শ্যাম কল্যাণ রূপে’ এবং শারমিন সাথী ইসলাম ময়না ‘তোমার আমার এই বিরহ’ গানটি পরিবেশন করেন।
আবৃত্তির মঞ্চে দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন বরেণ্য আবৃত্তিকার ভাস্বর বন্দোপাধ্যায় ও খায়রুল আলম সবুজ। সলিল চৌধুরীর বিখ্যাত ‘এক গুচ্ছ চাবি’ কবিতাটি পাঠ করেন সবুজ। লোকজ সুরের ধারায় চন্দনা মজুমদার গেয়ে শোনান লালন সাঁইয়ের ‘বড় সংকটে পড়িয়া দয়াল’।
অনুষ্ঠানে বড় ও ছোটদের দল পৃথক এবং যৌথভাবে বেশ কিছু গান পরিবেশন করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল সলিল চৌধুরীর ‘পথে এবার নামো সাথী’ ও ‘সেদিন আর কত দূরে’ এবং শিশুদের কণ্ঠে ‘ডিম পাড়ে হাঁসে’।
বরাবরের মতোই ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলীর সমাপনী বক্তব্যের (কথন) মাধ্যমে অনুষ্ঠানের মূল পর্ব শেষ হয়।
সবশেষে উপস্থিত সকলে মিলে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে বর্ষবরণের এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
জনতার আওয়াজ/আ আ