রাউজান‌ উপজেলায় মিথ্যা মামলায় সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার ও হয়রানির অভিযোগ - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ২:০১, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

রাউজান‌ উপজেলায় মিথ্যা মামলায় সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার ও হয়রানির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, নভেম্বর ৪, ২০২৩ ৩:১৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, নভেম্বর ৪, ২০২৩ ৩:১৬ অপরাহ্ণ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক
মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগে সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার করে বিষ্ফোরণ মামলায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে রাউজান থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। উদ্দেশ্যপ্রনোদিত ভাবে স্থানীয় সাংসদ ও আওয়ামী লীগের নির্দেশনায় পুলিশ এসব মামলা ও গ্রেফতার অভিযান চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করছে স্থানীয়রা।

গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশে বিনা উস্কানিতে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে পুলিশ ও আওয়ামীলীগের যৌথ গুলি বর্ষণের ঘটনায় পুলিশ সহ বিএনপির কয়েকজনের প্রানহানী ঘটেছে এবং অসংখ্য হতাহত হয়েছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ তাদের শত শত নেতাকর্মীদের বিনা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। আওয়ামী তান্ডব ও নৃশংসতার প্রতিবাদে বিএনপি দেশব্যাপী হরতাল সহ নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচির অংশবিশেষ ৩দিন ব্যাপী দলটি সমমনাদের নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে।

উল্লেখ্য যে, সারা দেশের তুলনায় চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার রাজনীতির মেরুকরণে সম্পূর্ণরুপে ভিন্নতা রয়েছে। গত ২০০৮ সনের সংসদ নির্বাচনের পর থেকে আজ অবধি সে দৃশ্যমান বিষয়টি দেশবাসীর জানা। সরকার দলীয় একক আধিপত্য বিস্তারের কারনে বিএনপি কিংবা সমমানের কাউকে তাঁরা এলাকায় অবস্থান করতে দেয়নি। সে কারণে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাধ্যতামুলক ভাবে বসবাস করতে হচ্ছে। এরপরেও দীর্ঘ ১৫-১৬ বছরে রাউজান উপজেলায় বিএনপির শত শত নেতাকর্মীদের নামে-বেনামে আজগুবি মামলার কোন শেষ নেই।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ ভারাক্রান্ত মনে অভিযোগ করেন বিএনপিকে সমর্থন করে বলে অনেকেই মৃত পিতা- মাতা কিংবা আত্মীয় স্বজনদের জানাজায় পর্যন্ত অংশগ্রহণ করতে পারেনি সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের ত্রাসের কারনে।

শুধু বিএনপি কিংবা সমমনা দলের নেতাকর্মীরা শুধু ন‌য়, সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের তান্ডব ও অস্বাভাবিক আচরনের কারনে তাদের নিজ দল আওয়ামী লীগের প্রবীণ অনেক নেতাকর্মীরা পর্যন্ত এলাকা থেকে বিতাড়িত। উল্লেখ্য, দলের দুঃসময়ের কান্ডারী রাউজান থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুসলিম উদ্দিন খান (এম‌.এ), নির্বাচিত পৌর মেয়র দুঃসময়ের জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ পালিত, ভিপি নাজিম , রানা সহ অসংখ্য আওয়ামী নেতা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্কুল শিক্ষক জানান উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষরা আজ স্বাভাবিকভাবে বসবাসের নিশ্চয়তা পাচ্ছে না। তিনি ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, রাউজানে আসল আওয়ামী লীগের লোকদের তাঁরা বিতাড়িত করল সেখানে নিরীহ মানুষ মুখ বুজে সব অন্যায় অবিচার সহ্য করা ছাড়া উপায় নেই! ত্রাসের এই রাউজানে নিজেদের রাজত্ব কায়েম নিয়ে সরকার দলীয় লোকদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকা বিতাড়িত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ রয়েছে তাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে। সে কারনে অনেকটা কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে সরকার দলীয় স্থানীয় সাংসদ ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা।

এমতাবস্থায়, নিজ দলের নিকট নিজেদের ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে নিজেদের যোগ্য প্রমান করতে অনেক সময় দেখা গিয়েছে কিছু নিরীহ মানুষকে পাঁঠার বলি করেছে তারা। বলা বাহুল্য বিএনপি শূন্য এলাকায় নিরীহ কিছু মানুষকে বিএনপির কর্মসূচি পালনে গাড়ি ভাঙচুর ও বোমা বিস্ফোরণ ইত্যাদি মিথ্যা অপবাদের নাটক সাজিয়ে গ্রেফতার করা এক ধরনের হাস্যকর বিষয় এবং মরার উপর খাঁড়ার ঘা এর মতো ব্যাপার।

ঠিক তেমনি ঘটনার পুনরাবৃত্তি করেছে গত পরশু রাউজান থানা কর্তৃক গ্রেফতার কৃত মোহাম্মদপুর গ্রাম থেকে জবরুত খান, সুলতানপুর থেকে একরামুল হক ও হলদিয়া থেকে আব্দুল খালেক নামের ৩ জন নিরীহ মানুষকে গ্রেফতার করে বিষ্ফোরণের ন্যায় জঘন্যত মামলায় জড়িয়ে। এলাকার সাধারণ মানুষ এই ন্যাক্কার জনক ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে এবং যদিও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছে না, তবে নুন আনতে পান্তা ফুরায় এসব নিরীহ লোকদের ঘর থেকে তুলে নিয়ে বেরুলিয়া নামক জায়গা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে মর্মে মিথ্যা ও সাজানো বানোয়াট মামলায় এলাকায় মানুষের মধ্যে একধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

যার নির্দেশে এলাকার কিছু দালাল শ্রেনীর লোক এসব অপকর্মে পুলিশকে সহযোগিতা করছে তাদের প্রতি স্বাভাবিক ভাবে যদি প্রশ্ন করা হয় ঠিক আগামী দিন গুলোতে যদি একই পরিস্থিতি আপনাদের সামনে আসে তাহলে আপনাদের পরিনতি কি হবে ? তা কি কখনো ভাবছেন ? মুহাম্মদপুর গ্রামের স্থানীয় ৮৫ বছর উর্ধ্ব বয়সের একজন প্রবীণ লোক আক্ষেপ করে বলেন গ্রেফতারকৃত জবরুত খান শিক্ষিত ও মার্জিত একজন ভালো মানুষ। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ, দীর্ঘদিন প্রবাসে কর্মরত ছিল। শারীরিক অসুস্থতার কারণে সেই এখন পরিবারের সাথে স্থায়ী বসবাস করছেন।যে মামলায় তাকে এবং অন্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে এই বয়সে জবরুত খান, একরামুল হক ও আব্দুল খালেক’দের এসবে জড়িত হওয়ার সুযোগ কিংবা বয়স আছে কিনা এর যাচাই করার ও দাবি জানান তিনি।

সুলতান পুর মুকিম বাড়ির আদর্শিক পরিবারের সন্তান একরামুল হক এবং হলদিয়া ইউনিয়নের ইয়াসিন নগর গ্রামের আব্দুল খালেক কে এভাবে গ্রেফতার করার বিষয়টিও স্থানীয় এলাকাবাসী মোটেও স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিতে পারছে না। স্ব-স্ব এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত জবরুত খান, একরামুল হক, আব্দুল খালেকে সম্মানের সহিত মুক্তি এবং এসব ভুয়া মামলা প্রত্যাহারের জোড় দাবি জানিয়েছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ