রাজশাহীতে আইন উপদেষ্টার অনুষ্ঠানের সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৫ ৮:১৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৫ ৮:১৯ অপরাহ্ণ

রাজশাহী প্রতিনিধি
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি দাবি জানিয়ে রাজশাহীতে আইন উপদেষ্টার অনুষ্ঠানের সামনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে। সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে রাজশাহীর প্রাইমারি ট্রেনিং সেন্টারে শিক্ষার্থীরা এই বিক্ষোভ করেন।
আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সকালে প্রাইমারি ট্রেনিং সেন্টারে দেশের পরিবর্তন পরিস্থিতিতে মানবাধিকার ও পরিবেশের ওপর গুরুত্বসহ আইন প্রয়োগ বিষয়ে কর্মশালায় যোগদান করেন। এর পর রাজশাহীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আইন উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাৎ করার উদ্দেশ্যে যান। তবে সেখানে যাওয়ার পর আইন উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাৎ করতে না দেওয়ায় ও ঢাকায় ফেরায় জন্য বিমানের সময় হওয়ায় তড়িঘড়ি করে চলে যাওয়ায় বিক্ষোভ ও গাড়ী বের হতে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করে।
এসময় পুলিশ তাদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। পরে সেনাবাহীর একটি দলে ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে শিক্ষার্থীদের পক্ষ হতে ৫ জন শিক্ষার্থীকে কর্মশালায় উপস্থিত স্বরাষ্ট সচিব, চীফ প্রসিকিউটরসহ রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করার সুযোগ দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীরা তাদের সাথে সাক্ষাৎ করে দেশে বর্তমান, খুন, ছিনতায়, ডাকাতি, ধর্ষণসহ আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির বিষয়গুলো তুলে ধরে বলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের জানমালের কোন নিরাপত্তা নেই। ঘরে হতে বের হলে বাড়ী ফিরে যাবো তার কোন গ্যারান্টি নেই। এমন পরিস্থিতি আর কতদিন চলবে। কোন বিপদে পড়লে পুলিশকে ফোন দিয়ে ডাকা হলে তারা দ্রুত রেসপন্স করে না। তারা আগে বলে লিখিত অভিযোগ দেন তারপর দেখছি। পরিস্থিতি এমন হলে তো কারো নিরাপত্তা থাকবে না। এছাড়াও পুলিশ তারা তাদের কাজে মনোনিবেশ করে জনগণের সেবা করছে না বলে অভিযোগ করেন। শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন রাখেন যেহেতু পুলিশের কাছে নিরাপত্তা পাচ্ছি না তাহলে কি নিরাপত্তার জন্য নিজেদের কাছে অস্ত্র রাখবো? এছাড়াও পুলিশের কাজে আমরা শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ আস্থা রাখতে পারছিনা বলে অভিযোগ করেন এবং এসব দ্রুত নিরসনেরর দাবি জানান।
জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছি। বাংলাদেশ যে ঘটনা ঘটেছে হাজার বছরে ঘটেনি। গত ৫ আগস্টের পর দেশে পুলিশ ছিলো না, তারা পোশাক পড়তে ভয় পাইতো। তারা বলতো স্যার আমাকে মেরে ফেলেন। এখন পোশাক পড়া শুরু করেছে। তারা গা ঝাড়া দেওয়া শুরু করেছে। থানা-গাড়ী পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রশাসনকে যতটা পারছি তা সংস্কার করার চেষ্টা করছি। আমরা চাচ্ছি তাদের যে নিজস্ব ক্ষমতা আছে তারা সে ক্ষমতা ব্যবহার করে দেশের অগ্রগতিতে নিয়ে যাবো।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর ( অ্যটর্নি জেনারেল) বলেন, ৫ আগস্টের পর পুলিশকে হঠাৎ করে আগের অবস্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না। গত ১৫ বছরে যে ক্ষতি করে গেছে তা সহজে পূরণ হবার নয়। যেসব পুলিশ কর্মকর্তারা কাজ করছে না, বুঝতে হবে আগের সরকারের পেতাত্মা কাজ করছে। পুলিশকে কাজে আন্তরিক হওয়ার জন্য কর্মশালা করে যাচ্ছি। তাদের বলা হচ্ছে এখন হতে আর কারো তাবিদারি করা যাবে না। এখন হতে স্বাধীন ভাবে কাজ করবেন। বর্তমান যে পরিস্থিত আশা করি আমরা দ্রুত উত্তরণ হবে। তারা এই রাষ্ট্রটাকে সামনে এগিয়ে নিবে। তাদের কাজ আপনাদের জনগণকে নিরাপত্তা দেওয়া।
এসময় রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার , রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবু সুফিয়ান, রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলামসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিতি ছিলেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ