রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়ে রাজশাহীতে এক আনন্দ মিছিল : লিটন - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ২:৫৯, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়ে রাজশাহীতে এক আনন্দ মিছিল : লিটন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৩ ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৩ ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

 

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন রাজশাহী বিভাগের একজন সন্তান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থী, যিনি জাতির প্রয়োজনে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে নিজের যোগ্যতা, মেধা, মনন, দক্ষতা, আদর্শ ও দেশপ্রেম প্রমাণ করেছেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে কারাবরণ পর্যন্ত করেছিলেন। তিনি ছাত্রলীগ করেছেন, যুবলীগ করেছেন, আওয়ামী লীগ করেছেন এবং পরবর্তীতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জীবনের প্রতিটি পদে পদে তিনি তার দক্ষতা, যোগ্যতা ও সততার প্রমাণ দিয়েছেন। তার যোগ্যতা ও দক্ষতার জন্য আজকে দেশবাসী আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে তাকে পুরস্কৃত করেছেন। আর একমাত্র আওয়ামী লীগই পারে এমন নেতা তৈরি করে জাতিকে রাষ্ট্রপতি উপহার দিতে।

বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় সাহাবুদ্দিনকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রাজশাহীতে এক আনন্দ মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের কুমারপাড়ার দলীয় কার্যালয় থেকে এ আনন্দ মিছিল বের হয়। আনন্দ মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে এসে শেষ হয়। মিছিল শেষে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে জনসাধারণের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামালের সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মো. ডাবলু সরকার।

অনুষ্ঠানে মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা, আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, আমরা কোনো ইয়াজউদ্দিন বা ইয়েস উদ্দিন মার্কা কাউকে রাষ্ট্রপতি করি না। প্রধানমন্ত্রী দলীয় মনোনয়ন দিয়েছেন তাকে, যার নাম শোনামাত্র পুরো জাতি বলেছেন, এটি একটি চমৎকার সিলেকশন। দলীয় সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্পূর্ণভাবে দায়িত্ব দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে ও গোপনীয়তার সঙ্গে সবকিছু বিবেচনা করে সাহাবুদ্দিনকে চূড়ান্ত সিলেকশন দেন।’

আওয়ামী লীগের এই সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার আগেই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেছেন, তিনি যদি বেঁচে থাকেন তাহলে একটা সুন্দর, নিরপেক্ষ নির্বাচন তিনি দেখে যেতে চান। আজকের পত্রিকায় আপনারা এটি পাবেন। দায়িত্ব নেওয়ার আগেই যে কথাটি তিনি বলেছেন, তা থেকে কী মনে হয় না, তার মধ্যে কতটা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আছে। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বলেছেন, ‘আমি কোনো দলের এখন আর নই, আমি পুরো রাষ্ট্রের, পুরো জাতির, সবার। ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে আমি সবার রাষ্ট্রপতি। এটিই তো কথা, এটিই তো হওয়া দরকার। সেটি একমাত্র আওয়ামী লীগই পারে এই রকম নেতা তৈরি করে জাতিকে উপহার দিতে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উপহার দিয়েছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে। আওয়ামী লীগই পারে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে।

খায়রুজ্জামান লিটন আরও বলেন, বিএনপি বলছে, তারা আন্দোলন করবে। তারা পদযাত্রা যেটি ঢাকায় করেছে, আগারগাঁও থেকে মিরপুর অথবা যাত্রাবাড়ী থেকে কিছুটা দূর। এসব আন্দোলন করে তারা সরকারকে হুমকি দিতে চায়, সরকারকে ভয় দেখাতে চায়। গত শীতে দেখলাম, তারা বিভিন্ন জায়গায় শীতকালে পিকনিক ভালো জমে, সেই পিকনিক তারা করে বেড়াল বিভিন্ন জায়গায়। চুলা জ্বালিয়ে, গরুর মাংস কেটে, খেচুড়ি, পোলাও, বিরিয়ানি বানিয়ে তারা খেয়েছে। মনে করল, আওয়ামী লীগ বোধহয় ভয় পেলে পালিয়ে যাবে। তাদের কথা মতো ১০ ডিসেম্বরের পর থেকে দেশ চলার কথা ছিল। আজকে ফেব্রুয়ারি মাসের ১৪ তারিখ। দুই মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেল, কোথায় গেল বিএনপির সেই দম্ভোক্তি? সেই কারণে বলতে চায় আওয়ামী লীগকে এসব কথা বলে লাভ নেই। এসব হালকা কথা, এই খেলো কথা বানের জলের মতো অতীতে ভেসে গেছে, আগামীতেও যাবে।

জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। ইতিমধ্যে সাজ সাজ রব। কে ছোট দল, কে আরেক দলকে ভেঙে নিয়ে আসছে, নতুন করে দল সৃষ্টি হচ্ছে। নানা খেলা চলছে। নির্বাচনের বছরে এটা হতেই পারে। এতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু এটা করতে গিয়ে চক্রান্ত করে দেশবাসীকে বিপদে ফেলবেন অথবা সরকারকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করবেন, এত মূর্খের মতো কাজ করেন না। কাচের ঘরে বসে ঢিল মারতে আসবেন না। তাহলে আপনাদের ঘর আর থাকবে না, ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে। বারবার কিন্তু ২০১৩-১৪ হবে না, আগুনসন্ত্রাস করতে দেওয়া হবে না। যদি আবারও এই রকম কিছু হয় তাহলে কী করতে হবে আমরা নির্দেশ পেয়ে গেছি। এসব অপকর্ম জনগণকে সাথে নিয়ে তাৎক্ষণিক সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগকে নিয়ে কোনোকিছু ভেবে লাভ নেই। জনগণ যতদিন আমাদের সঙ্গে আছে, কেউ আমাদের সরাতে পারবে না, ইনশাল্লাহ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ